বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(বিটিএ) কক্সবাজার জেলা শাখার জন্মশত বর্ষের সমাবেশে বক্তারা ভাতা-বৈষম্য দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে পেছনে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষকদের জীবনমান বাড়াতে হবে। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে কেউ বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন, আবার তাদেরই বন্ধুরা সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এতে একই শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সৃষ্টি হয় বৈষম্যের। এই বৈষম্য দূর হলে শিক্ষার গুণগত মান ও দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
সমাবেশের আগে ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’র উদ্যোগে শনিবার সকাল ১১ টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ শোভাযাত্রা শেষে শহরের সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে কেক কাটার মাধ্যমে জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়।শিক্ষকদের এই সংগঠনটি ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।এই সংগঠনটি দেশের সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ শিক্ষক সংগঠন।
কক্সবাজার জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমিমুল এহসান মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মো:আব্দুল হালিম, বাকী বিল্লাহ, মাহমুদুল হক ও সৈকত বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংগঠনের সহ-সভাপতি সমর চন্দ্র দেবনাথ প্রমুখ।
বক্তারা দাবী-দাওয়া আদায়ে পূর্বেকার কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের আন্দোলন সর্বপ্রথম শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)’ই শুরু করেছিল এবং বিটিএ’র আহবানে সাড়া দিয়েই ২০১৭ সালে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের এক দফা দাবীতে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এযাৎকালের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পর একই বছর প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য বৈশাখী ভাতাসহ ৫% বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী মুজিব বর্ষেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ঘোষণা দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেতৃবৃন্দরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, দেশে টাকার অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন। দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সামিল করাতে চান। শিক্ষকদের অভাব-র্দুদশা প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে হবে। তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। তিনি এসবের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ
























