০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঝালকাঠি শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু মঞ্চ আধুনিকায়নের উদ্যোগ

১৯৭০সালে প্রাদেশিক নির্বাচনের জনসভা ও ১৯৭৩ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ঝালকাঠির অবস্থান জানতে মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঝালকাঠিতে আসেন। ওই সময়ে স্টেডিয়ামের মঞ্চে উঠে তিনি জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি। ১৯৭৩সালে ঝালকাঠি সফরে আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে স্বাক্ষাত গ্রহণ করেন। সেই সময়ে পাকহানাদার বাহিনীর গুলিত নিহত বাঙালীদের মাথার খুলি দেখে অঝোরে কেঁদে ফেলেন। দাড়ানো অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে এক সময়ে মাটিতে বসে পড়েন। সেই খুলি গুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে সেখানে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। যা বর্তমানে ঝালকাঠির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ভাষা আন্দোলনের মাসে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত সেই শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধুর পদধুলি দেয়া মঞ্চকে নতুনরূপে আধুনিকায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির। তিনি আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি, ঝালকাঠি জেলা পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। শনিবার দুপুর ১২টায় জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন পৌর কাউন্সিলর ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক তরুন কর্মকার, প্রেসক্লাব সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দত্ত, ঝালকাঠি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দুলাল সাহা, উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান প্রমুখ।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান দুটিকে নতুনরূপে আধুনিকায়ন করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনিয়ে ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি, ঝালকাঠি জেলা পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনে শহীদ মিনার সংলগ্ন স্টেডিয়াম যা বর্তমানে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের দেয়ালের কারণে স্থান সংকুলান খুবই কম। তাই স্টেডিয়ামের দেয়াল ৬০ ফুট ভেঙে জায়গা প্রশস্ত করণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হতে ২০ ফুট দেয়াল ভেঙে জানজট স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। দেয়াল ভেঙে শহীদ মিনারের জায়গা প্রশস্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। যাতে আগামী মাতৃভাষা দিবস নির্বিঘেœ উদযাপন করতে পারে। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত মঞ্চকে আধুনিক রূপ দিতে এমপি মহোদয় ও জেলা পরিষদকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিঘ্রই এসব কাজ বাস্তবায়ন হবে।
ঝালকাঠি পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, শহীদ মিনারের সামনে থেকে স্টেডিয়ামের পুর্ব-পশ্চিম দিকের ৭টি পিলারের মধ্যস্ত ৬০ফুট ও ৮ফুট উচ্চতার দেয়াল ভেঙে জায়গা প্রশস্ত করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির। সেই সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে যাতে নির্বিঘেœ বের হতে পারে এজন্য উত্তর-দক্ষিণ দিকের ২০ফুট প্রশস্ত ও ৫ফুট উচ্চতার দেয়াল ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ঝালকাঠি পৌর কাউন্সিলর ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক তরুন কর্মকার জানান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির’র প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের সাথে আলাপ করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে তিনি এসব কাজ করার সমর্থন করেছেন। এমপি মহোদয়ের ও জেলা পরিষদের তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত মঞ্চকে নতুন রূপে আধুনিকায়ন করা হবে। স্টেডিয়ামের দেয়াল ভেঙে শহীদ মিনারকে আরো দৃষ্টি নন্দন করে মাঠ প্রশস্ত করতে কাজ শুরু করা হবে। সেই সাথে পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও রংয়ের কাজ করানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঝালকাঠি শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু মঞ্চ আধুনিকায়নের উদ্যোগ

প্রকাশিত : ০৯:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

১৯৭০সালে প্রাদেশিক নির্বাচনের জনসভা ও ১৯৭৩ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ঝালকাঠির অবস্থান জানতে মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঝালকাঠিতে আসেন। ওই সময়ে স্টেডিয়ামের মঞ্চে উঠে তিনি জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি। ১৯৭৩সালে ঝালকাঠি সফরে আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে স্বাক্ষাত গ্রহণ করেন। সেই সময়ে পাকহানাদার বাহিনীর গুলিত নিহত বাঙালীদের মাথার খুলি দেখে অঝোরে কেঁদে ফেলেন। দাড়ানো অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে এক সময়ে মাটিতে বসে পড়েন। সেই খুলি গুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে সেখানে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার। যা বর্তমানে ঝালকাঠির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ভাষা আন্দোলনের মাসে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত সেই শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধুর পদধুলি দেয়া মঞ্চকে নতুনরূপে আধুনিকায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নেন জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির। তিনি আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি, ঝালকাঠি জেলা পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। শনিবার দুপুর ১২টায় জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন পৌর কাউন্সিলর ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক তরুন কর্মকার, প্রেসক্লাব সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দত্ত, ঝালকাঠি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার দুলাল সাহা, উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান প্রমুখ।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থান দুটিকে নতুনরূপে আধুনিকায়ন করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনিয়ে ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি, ঝালকাঠি জেলা পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনে শহীদ মিনার সংলগ্ন স্টেডিয়াম যা বর্তমানে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের দেয়ালের কারণে স্থান সংকুলান খুবই কম। তাই স্টেডিয়ামের দেয়াল ৬০ ফুট ভেঙে জায়গা প্রশস্ত করণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হতে ২০ ফুট দেয়াল ভেঙে জানজট স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। দেয়াল ভেঙে শহীদ মিনারের জায়গা প্রশস্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। যাতে আগামী মাতৃভাষা দিবস নির্বিঘেœ উদযাপন করতে পারে। সেই সাথে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত মঞ্চকে আধুনিক রূপ দিতে এমপি মহোদয় ও জেলা পরিষদকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিঘ্রই এসব কাজ বাস্তবায়ন হবে।
ঝালকাঠি পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, শহীদ মিনারের সামনে থেকে স্টেডিয়ামের পুর্ব-পশ্চিম দিকের ৭টি পিলারের মধ্যস্ত ৬০ফুট ও ৮ফুট উচ্চতার দেয়াল ভেঙে জায়গা প্রশস্ত করার প্রস্তাবনা দিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির। সেই সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে যাতে নির্বিঘেœ বের হতে পারে এজন্য উত্তর-দক্ষিণ দিকের ২০ফুট প্রশস্ত ও ৫ফুট উচ্চতার দেয়াল ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ঝালকাঠি পৌর কাউন্সিলর ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক তরুন কর্মকার জানান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির’র প্রস্তাবনার ভিত্তিতে আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, ১৪দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি মহোদয়ের সাথে আলাপ করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে তিনি এসব কাজ করার সমর্থন করেছেন। এমপি মহোদয়ের ও জেলা পরিষদের তহবিল থেকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি বিজড়িত মঞ্চকে নতুন রূপে আধুনিকায়ন করা হবে। স্টেডিয়ামের দেয়াল ভেঙে শহীদ মিনারকে আরো দৃষ্টি নন্দন করে মাঠ প্রশস্ত করতে কাজ শুরু করা হবে। সেই সাথে পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও রংয়ের কাজ করানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ