০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরে এখনও চার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

গাজীপুরে এখনও চার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

জেলা প্রাথমিক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গাজীপুরে ৭৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিন শতাধিক এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষালয় এবং দুই সহস্রাধিক কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এছাড়া কলেজ রয়েছে ৪৩টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৫২ এবং মাদ্রাসা রয়েছে ১৭৮টি।

জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০২টির মধ্যেই কোনো শহীদ মিনার নেই। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘গাজীপুর জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৭৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০২টিতেই শহীদ মিনার নেই। এছাড়া মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনগুলোর সিংহভাগেই নেই কোনো শহীদ মিনার।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জানান, ‘জেলার ৪৩টি কলেজের ১১টিতে, ৩৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০৬টিতে এবং ১৭৮টি মাদ্রাসার মধ্যে ১৬৯টিতেই কোনো শহীদ মিনার নেই।’

তিনি আরও জানান, ‘এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কিংবা অন্যান্য বিশেষ দিনগুলোতে ফুল দিতে বড়দের সঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীদের দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এতে তাদের অনেক ভোগান্তিতেই পড়তে হয়।’

গাজীপুর সিটির ছোট দেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, আমাদের স্কুলে কোন শহীদ মিনার নেই। মাতৃভাষা দিবসে আমরা পাশের অগ্রনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করি। আমাদের স্কুলের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে শহীদ মিনার নির্মাণের কথা জানানো হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেরিনা ইয়াসমিন জানান, তাদের স্কুলেও শহীদ মিনার ছিল না। নিজস্ব উদ্যোগে স্কুল কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধ মো. আফছার উদ্দিন গত বছর একটি শহীদ মিনার তৈরি করে দিয়েছেন। আগে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা অস্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ সঙ্কটকেই চিহ্নিত করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটি কিংবা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এসএম মোকছেদ আলম জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান পালন এবং যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য জেলা পরিষদ থেকে একটা বরাদ্দ দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যবস্থা তথা উদ্যোগ নেয়া হবে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, নিজস্ব বাজেট থেকে, স্থানীয়ভাবে এবং টিআর থেকে বা সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে এখনও চার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

প্রকাশিত : ০৬:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১

গাজীপুরে এখনও চার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

জেলা প্রাথমিক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গাজীপুরে ৭৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিন শতাধিক এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষালয় এবং দুই সহস্রাধিক কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এছাড়া কলেজ রয়েছে ৪৩টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৫২ এবং মাদ্রাসা রয়েছে ১৭৮টি।

জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪০২টির মধ্যেই কোনো শহীদ মিনার নেই। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘গাজীপুর জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৭৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০২টিতেই শহীদ মিনার নেই। এছাড়া মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেনগুলোর সিংহভাগেই নেই কোনো শহীদ মিনার।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা জানান, ‘জেলার ৪৩টি কলেজের ১১টিতে, ৩৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০৬টিতে এবং ১৭৮টি মাদ্রাসার মধ্যে ১৬৯টিতেই কোনো শহীদ মিনার নেই।’

তিনি আরও জানান, ‘এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কিংবা অন্যান্য বিশেষ দিনগুলোতে ফুল দিতে বড়দের সঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীদের দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এতে তাদের অনেক ভোগান্তিতেই পড়তে হয়।’

গাজীপুর সিটির ছোট দেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, আমাদের স্কুলে কোন শহীদ মিনার নেই। মাতৃভাষা দিবসে আমরা পাশের অগ্রনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করি। আমাদের স্কুলের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে শহীদ মিনার নির্মাণের কথা জানানো হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেরিনা ইয়াসমিন জানান, তাদের স্কুলেও শহীদ মিনার ছিল না। নিজস্ব উদ্যোগে স্কুল কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধ মো. আফছার উদ্দিন গত বছর একটি শহীদ মিনার তৈরি করে দিয়েছেন। আগে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তারা অস্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্থ সঙ্কটকেই চিহ্নিত করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোফাজ্জল হোসেন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। তবে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর কমিটি কিংবা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এসএম মোকছেদ আলম জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান পালন এবং যেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই সেইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য জেলা পরিষদ থেকে একটা বরাদ্দ দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যবস্থা তথা উদ্যোগ নেয়া হবে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম বলেন, নিজস্ব বাজেট থেকে, স্থানীয়ভাবে এবং টিআর থেকে বা সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ