০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আইনের শাসন-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব: প্রধান বিচারপ্রতি

নব নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, দেশে দৃঢ়ভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু আমার পক্ষে করা সম্ভব, তার সবটুকু আমি করব।

রবিবার সকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করে আমি আজ ধন্য ও গর্বিত’।

তিনি আরো বলেন, ‘বিচার বিভাগের অগ্রসরতার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন আমি তার সব কিছু করার চেষ্টা করব। আমি আশা করব, আমার সহকর্মী সকল বিজ্ঞ বিচারক সব সময় তাদের শপথের মূল বাণী হৃদয়ে প্রোথিত করে জনগণ ও মানবতার কল্যাণে সংবিধানকে সামনে রেখে বিচার কাজ পরিচালনা করবো।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার জীবনের স্মরণীয় এই মুহূর্তে আমি স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। এবং আমি আমার পিতা-মাতার অমূল্য অবদানকে স্মরণ করছি।

‘আইন-নির্বাহী ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের এই তিন অঙ্গের পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে কেবলমাত্র দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে। তাই এই তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায় সেজন্য আমি সব সময় চেষ্টা করব। সেই সাথে সুপ্রিম কোর্ট যেন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে তার নিজ দায়িত্ব পালন করে সেটি নিশ্চিত করতে আমি চেষ্টা করব।’

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আয়োজিত জনাকীর্ণ এই সংবর্ধনায় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, আ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি- সম্পাদকসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বঙ্গভবনে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আর শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়।

তবে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পরপরই পদত্যাগ করেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা বঙ্গভবনে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন। আর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দুইবার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য করা সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। বয়সসীমা অনুযায়ী বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের দায়িত্বপালন করবেন ২০২১ সাল পর্যন্ত।

এর আগে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অবর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রবীণতা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।

>>সুপ্রিম কোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কৃষকের মেরুদণ্ড শক্তশালী হলে জাতির মেরুদণ্ড শক্তিশালী হবে: ফারজানা শারমিন পুতুল

আইনের শাসন-ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব: প্রধান বিচারপ্রতি

প্রকাশিত : ০২:১৭:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

নব নিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, দেশে দৃঢ়ভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা কিছু আমার পক্ষে করা সম্ভব, তার সবটুকু আমি করব।

রবিবার সকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে দেয়া সংবর্ধনায় তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করে আমি আজ ধন্য ও গর্বিত’।

তিনি আরো বলেন, ‘বিচার বিভাগের অগ্রসরতার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন আমি তার সব কিছু করার চেষ্টা করব। আমি আশা করব, আমার সহকর্মী সকল বিজ্ঞ বিচারক সব সময় তাদের শপথের মূল বাণী হৃদয়ে প্রোথিত করে জনগণ ও মানবতার কল্যাণে সংবিধানকে সামনে রেখে বিচার কাজ পরিচালনা করবো।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, আমার জীবনের স্মরণীয় এই মুহূর্তে আমি স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের। এবং আমি আমার পিতা-মাতার অমূল্য অবদানকে স্মরণ করছি।

‘আইন-নির্বাহী ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের এই তিন অঙ্গের পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে কেবলমাত্র দেশ উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে। তাই এই তিনটি অঙ্গের কাজের মধ্যে যেন সমন্বয় রক্ষা করা যায় সেজন্য আমি সব সময় চেষ্টা করব। সেই সাথে সুপ্রিম কোর্ট যেন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে তার নিজ দায়িত্ব পালন করে সেটি নিশ্চিত করতে আমি চেষ্টা করব।’

সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আয়োজিত জনাকীর্ণ এই সংবর্ধনায় আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, আ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি- সম্পাদকসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বঙ্গভবনে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

আর শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়।

তবে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পরপরই পদত্যাগ করেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা বঙ্গভবনে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন। আর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দুইবার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য করা সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। বয়সসীমা অনুযায়ী বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের দায়িত্বপালন করবেন ২০২১ সাল পর্যন্ত।

এর আগে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অবর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রবীণতা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।

>>সুপ্রিম কোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি