বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে রাজধানী আজ পুরোই ফাঁকা। সকালের দিকে যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বাংলামটরসহ রাজধানীর পুরো এলাকাই রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে। কোথাও তেমন যাত্রীবাহী বাস দেখা যাচ্ছে না। রাস্তায় শুধু প্রাইভেটকার আর সিএনজি চলছে। গোটা রাজধানী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।

রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন। রায় শোনার জন্য মামলার অন্যতম আসামি খালেদা জিয়া সকাল ১১টার দিকে আদালতে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি সে সময়ের মধ্যে উপস্থিত হননি।
এদিকে, রায়কে ঘিরে বকশিবাজারের আদালত চত্বর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। র্যাব, ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছে। চলছে টহল। এর পাশাপাশি রাজধানীর রাস্তার মোড়ে মোড়ে পাহারায় আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য রয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন। ১২০ কার্যদিবসের বিচারকার্য শেষ হয়েছে ২৩৬ দিনে। আত্মপক্ষ সমর্থনে গেছে ২৮ দিন। যুক্তি উপস্থাপন চলেছে ১৬ দিন। আর আসামিপক্ষ মামলাটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে গেছেন ৩৫ বার।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
খালেদা জিয়া মামলার অন্যতম নয় প্রধান আসামিরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।























