১২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস: দাবি ডিবির

পরীক্ষা শুরু হওয়ার হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট আগে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস হয় বলে দাবি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগেই আসল প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। আর এর আগে অনলাইনে যেসব প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় এগুলো সাধারণত ভুয়া।

রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন এ দাবি করেন।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আটক ১৪ জনের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আব্দুল বাতেন বলেন, প্রশ্নপত্র সিলগালা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সাধারণত ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রে যাওয়ার পর পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট আগে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস হয়। তারা মোবাইলে ছবি তুলে বাইরে পাঠান।

‘আমি শিওর, এই প্রশ্ন ফাঁসের পর যদি কেউ কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে তাহলে ওই শিক্ষার্থীর বেনিফিট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলেই থাকে। দাবি করেন আব্দুল বাতেন।

db-2-20180211133221

আটকরা হলেন, মো. রাহাত ইসলাম, মো. সালাহউদ্দিন, মো. সুজন, মো. জাহিদ হোসেন, মো. সুফল রায় ওরফে শাওন, মো. আল-আমিন, মো. সাইদুল ইসলাম, মো. আবির ইসলাম নোমান, মো. আমান উল্লাহ, মো. বরকত উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, মো. শাহাদাৎ হোসেন ওরফে স্বপন, ফাহিম ইসলাম এবং তাহসিব রহমান।

এদের মধ্যে আমান উল্লাহ, আহসান উল্লাহ এবং বরকত উল্লাহ তিন ভাই। তারা প্রতিদিন ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করেছে। আহসান সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।

তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ এবং ২৩ টি স্মার্টফোন এবং ২ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আসামিরা যাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করছে সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওরা শত শত হাজার হাজার চেইন। কখনো চট্টগ্রাম থেকে প্রশ্ন পাঠানো হয়, কখনো আরেক জেলা থেকে। তাদের শনাক্ত করা কঠিন।

সম্পতি একটি পরীক্ষার প্রশ্ন সেদিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ফাঁস হয়েছে। তদন্তে ৩০-৪০ মিনিট আগে ফাঁসের তথ্য পাওয়া গেলে এতো আগে প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস রোধের পরামর্শ দেন আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কর্মকর্তার মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কারও সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এপর্যন্ত তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

>>প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে আটক ১৪

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা তারেক রহমানের

কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস: দাবি ডিবির

প্রকাশিত : ০২:০৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

পরীক্ষা শুরু হওয়ার হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট আগে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস হয় বলে দাবি করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগেই আসল প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। আর এর আগে অনলাইনে যেসব প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় এগুলো সাধারণত ভুয়া।

রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন এ দাবি করেন।

শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে আটক ১৪ জনের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আব্দুল বাতেন বলেন, প্রশ্নপত্র সিলগালা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সাধারণত ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রে যাওয়ার পর পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০-৪০ মিনিট আগে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় প্রশ্নফাঁস হয়। তারা মোবাইলে ছবি তুলে বাইরে পাঠান।

‘আমি শিওর, এই প্রশ্ন ফাঁসের পর যদি কেউ কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে তাহলে ওই শিক্ষার্থীর বেনিফিট পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলেই থাকে। দাবি করেন আব্দুল বাতেন।

db-2-20180211133221

আটকরা হলেন, মো. রাহাত ইসলাম, মো. সালাহউদ্দিন, মো. সুজন, মো. জাহিদ হোসেন, মো. সুফল রায় ওরফে শাওন, মো. আল-আমিন, মো. সাইদুল ইসলাম, মো. আবির ইসলাম নোমান, মো. আমান উল্লাহ, মো. বরকত উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, মো. শাহাদাৎ হোসেন ওরফে স্বপন, ফাহিম ইসলাম এবং তাহসিব রহমান।

এদের মধ্যে আমান উল্লাহ, আহসান উল্লাহ এবং বরকত উল্লাহ তিন ভাই। তারা প্রতিদিন ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করেছে। আহসান সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।

তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ এবং ২৩ টি স্মার্টফোন এবং ২ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

আসামিরা যাদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করছে সুনির্দিষ্টভাবে কারো নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওরা শত শত হাজার হাজার চেইন। কখনো চট্টগ্রাম থেকে প্রশ্ন পাঠানো হয়, কখনো আরেক জেলা থেকে। তাদের শনাক্ত করা কঠিন।

সম্পতি একটি পরীক্ষার প্রশ্ন সেদিন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ফাঁস হয়েছে। তদন্তে ৩০-৪০ মিনিট আগে ফাঁসের তথ্য পাওয়া গেলে এতো আগে প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হল? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস রোধের পরামর্শ দেন আবদুল বাতেন। তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থী নয়, পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কর্মকর্তার মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের কারও সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এপর্যন্ত তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

>>প্রশ্ন ফাঁসের দায়ে আটক ১৪