মিসরের উত্তর-পূর্ব এলাকা সিনাইয়ে সেনা অভিযানে ১৬ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয় ৩৪ জন। অভিযানে অস্ত্রের গুদামসহ বেশ কয়েকটি ভবন, মোটরসাইকেল এবং গাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে গত রবিবার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল তামের রিফাই জানিয়েছেন। গত শুক্রবার থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, লুকিয়ে থাকার জন্য সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ৬৬টি আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমান ও গোলাবারুদ হামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এসব আস্তানা ব্যবহার করতো তারা। তবে হতাহতের যে সংখ্যা সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা যায়নি বলে আলজাজিরা দাবি করেছে।
নিল ডেলটা ও পশ্চিম ডেলটার কিছু অংশ ও সিনাই উপদ্বীপ থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করতে দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শুক্রবার ‘সমন্বিত’ নিরাপত্তা অভিযান চালায়। বেশ কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত সংকুচিত ও খুবই কম জনসংখ্যা অধ্যুষিত সিনাই উপদ্বীপে সরকারবিরোধী প্রচারে সচেষ্ট সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে মিশরীয় সরকার।
২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসিকে সামরিক বাহিনী উৎখাত করার সিনাই উপদ্বীপে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে বিদ্রোহীরা, যাদের মিশরীয় সরকার সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করেছে।
২০১৭ সালের নভেম্বরে উত্তরাঞ্চলীয় সিনাই প্রদেশের বির আল আবেদ মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুক হামলায় ২৩৫ জন লোক নিহত হয়। পরে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ওই অঞ্চল পুনরুদ্ধারে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন এবং যেকোনোভাবে দমনের আদেশ দেন। সামনের মাসে মিশরে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল ছোট একটি বিরোধী দল সামনে রেখে এ নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে সিসি খুব সহজেই জয় লাভ করতে পারেন।






















