০৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের প্রত্যাশা

উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান অল্প পরিসরে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। আত্রাই, রাণীনগর, মান্দা, সদরের উপজেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে। স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এদিকে রাণীনগরে ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার আত্রাই, রানীনগর, মান্দা উপজেলায় এবং সদর উপজেলার দক্ষিনে বিলাঞ্চলে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার কাটা-মাড়াই ধানের হিসেবে প্রতি হেক্টরে চালের আকারে ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন ফলনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলায় পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
কৃষি বিভাগের সূত্র অনুযায়ী এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১৭ হাজার ৯শ’ ৯০ হেক্টর, রাণীনগরে ১৮ হাজার ৮শ’ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১৮ হাজার ৪শ’ হেক্টর, বদলগাছিতে ১১ হাজার ৭শ’ ৫০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৮ হাজার ৩শ’ ৭০ হেক্টর, পতœীতলায় ১৯ হাজার ৬শ’ ৫০ মেট্রিক টন, ধামইরহাটে ১৮ হাজার ৬শ’ ৫ হেক্টর, সাপাহারে ৫ হাজার ২শ’ ৩০ হেক্টর, পোরশায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর, মান্দায় ১৯ হাজার ৯শ’ ৩০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ২০ হাজার ৯শ’ ৮৫ হেক্টর।
এর মধ্যে উন্নত ফলনশীল জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে জিরাশাইল, ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৮১, ব্রিধান-৫৮, কাটারীভোগসহ প্রায় ২৬ জাতের ধান চাষ করেছেন। অপরদিকে হাইব্রীড জাতের মধ্যে তেজ, এস এল-৮ এইচ, হিরনা-২, হিরা-৬ ও ঝলকসহ প্রায় ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন।
কৃষি বিভাগের সূত্র মতে হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন হিসেবে এ বছর জেলায় মোট ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫শ’ ৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, জেলার পুরো ধান কাটা-মাড়াই করতে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। নওগাঁয় স্থানীয়ভাবে শ্রমিক রয়েছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১শ’ ৮৫ জন। ঘাটতি ৭৮ হাজার ৮শ’ ৫৫ জন শ্রমিক অন্য জেলা থেকে নিয়ে আসতে হবে।
অপরপ্রশ্নে তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁদের স্ব-স্ব উপজেলায় শ্রমিকরে চাহিদাপত্র প্রেরন করছেন। চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আনয়নের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে প্রহণ করা হয়েছে। ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য শ্রমিক সংকট হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের প্রত্যাশা

প্রকাশিত : ০৪:৩০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

উদ্বৃত্ত ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান অল্প পরিসরে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। আত্রাই, রাণীনগর, মান্দা, সদরের উপজেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে। স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
এদিকে রাণীনগরে ইরি-বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ দুলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতোসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার আত্রাই, রানীনগর, মান্দা উপজেলায় এবং সদর উপজেলার দক্ষিনে বিলাঞ্চলে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার কাটা-মাড়াই ধানের হিসেবে প্রতি হেক্টরে চালের আকারে ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন ফলনের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলায় পুরোদমে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
কৃষি বিভাগের সূত্র অনুযায়ী এ বছর জেলায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১৭ হাজার ৯শ’ ৯০ হেক্টর, রাণীনগরে ১৮ হাজার ৮শ’ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১৮ হাজার ৪শ’ হেক্টর, বদলগাছিতে ১১ হাজার ৭শ’ ৫০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৮ হাজার ৩শ’ ৭০ হেক্টর, পতœীতলায় ১৯ হাজার ৬শ’ ৫০ মেট্রিক টন, ধামইরহাটে ১৮ হাজার ৬শ’ ৫ হেক্টর, সাপাহারে ৫ হাজার ২শ’ ৩০ হেক্টর, পোরশায় ৮ হাজার ৫০ হেক্টর, মান্দায় ১৯ হাজার ৯শ’ ৩০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ২০ হাজার ৯শ’ ৮৫ হেক্টর।
এর মধ্যে উন্নত ফলনশীল জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে জিরাশাইল, ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-৮১, ব্রিধান-৫৮, কাটারীভোগসহ প্রায় ২৬ জাতের ধান চাষ করেছেন। অপরদিকে হাইব্রীড জাতের মধ্যে তেজ, এস এল-৮ এইচ, হিরনা-২, হিরা-৬ ও ঝলকসহ প্রায় ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন।
কৃষি বিভাগের সূত্র মতে হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ২০ মেট্রিক টন হিসেবে এ বছর জেলায় মোট ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫শ’ ৯২ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, জেলার পুরো ধান কাটা-মাড়াই করতে মোট ৪ লাখ ২৫ হাজার ৪০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। নওগাঁয় স্থানীয়ভাবে শ্রমিক রয়েছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১শ’ ৮৫ জন। ঘাটতি ৭৮ হাজার ৮শ’ ৫৫ জন শ্রমিক অন্য জেলা থেকে নিয়ে আসতে হবে।
অপরপ্রশ্নে তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সাথে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁদের স্ব-স্ব উপজেলায় শ্রমিকরে চাহিদাপত্র প্রেরন করছেন। চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আনয়নের পদক্ষেপ ইতিমধ্যে প্রহণ করা হয়েছে। ধান কাটা-মাড়াইয়ের জন্য শ্রমিক সংকট হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ