দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ, ভোগান্তি আর অদৃশ্য প্রভাবের জালে আটকে ছিল কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব ও ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা। অবশেষে সেই বহুল আলোচিত ‘সিন্ডিকেট’ ভাঙতে একযোগে ৩৫ কর্মচারীকে বদলি করেছে প্রশাসন।
গত ২০ এপ্রিল জারি করা এক অফিস আদেশে ১৬তম গ্রেডভুক্ত তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ জন কর্মচারীকে বিভিন্ন শাখায় স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের পর বছর একই টেবিলে অবস্থান করে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী চক্র ভাঙতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব ও এলএ শাখার কিছু কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই ডেস্কে থেকে একটি অঘোষিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলেন, যেখানে ফাইলের গতি নির্ভর করত লেনদেন,ও তদবিরের, ওপর। ফলে সাধারণ মানুষকে পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে।
রাজস্ব শাখায় কাজ করতে আসা ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বলেন, “ফাইল আটকে রাখা এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছিল। ছোট একটি কাজের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। তাদের চাহিদা পূরণ না করলে ফাইল খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যেত। এই বদলি আমাদের জন্য স্বস্তির।
ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রত্যাশী আরিফুল ইসলামও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “একটি চেক পেতে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে সরাসরি সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এখন অন্তত সে অবস্থা বদলাবে বলে আশা করছি।
প্রশাসনের ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে এই দুই শাখাকে ঘিরে অনিয়ম, দেরি ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছিল।
এই প্রেক্ষাপটে ৩৫ কর্মচারীর গণ-বদলিকে অনেকে ‘দেরিতে হলেও কার্যকর’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে,শুধু বদলি করলেই কি সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, নাকি একই চক্র নতুন করে আবার গড়ে উঠবে?
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন,প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বদলি সরকারি চাকরির নিয়মিত প্রক্রিয়া। কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।
তবে সচেতন মহলের মতে, কেবল বদলিই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের সংস্কৃতি ভাঙতে প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, জবাবদিহিতা এবং কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি। অন্যথায় ‘সিন্ডিকেট’ শুধু মুখ বদলাবে, চরিত্র নয়।
ডিএস./




















