০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে মূলধন জোগাবে সরকার

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পাশাপাশি বাড়ছে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি (নিরাপত্তা সঞ্চিতি)। এ পরিস্থিতিতে জনগণের টাকায় ফের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে মূলধন জোগানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর মূলধন পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বৈঠক ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সচিবালয়ে ডাকা ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউনুসুর রহমান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, সোনালী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসিক ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে থাকতে এরই মধ্যে চিঠি দেয়া হয়েছে। বছর বছর মূলধন জোগান দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে সরকার। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলো করা হলেও এখন তা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মূলধন ঘাটতি হওয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে সরকারের হাজার কোটি টাকা মূলধন জোগানের কঠোর সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত মিলিয়ে সরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি সাত হাজার ৬২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ঘাটতি আট হাজার ২৮২ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। এ ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি দুই হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৯০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকও প্রথম বারের মতো ঘাটতিতে পড়েছে। সরকার মালিকানাধীন বিশেষায়িত খাতের কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি সাত হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঘাটতি ৭৪২ কোটি টাকা। তবে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও অগ্রণী ব্যাংকে কোনো মূলধন ঘাটতি নেই।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হলে বাজেট থেকে তার জোগান দিতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অর্থাৎ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানদ- ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ নূন্যতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি জনগণের করের টাকায় জোগান দেয়া প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অনিয়ম, আর্থিক কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যা আদায় করা যাচ্ছে না।

ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর এ হার বেশি। তিনি বলেন, সরকারের উচিৎ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অর্থ না দিয়ে তাদের দক্ষতা ও খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে যারা ব্যর্থ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ এভাবে মূলধনের ঘাটতি মেটাতে সরকার অর্থ দিলে তারা কাজ না করে টাকা নিতে উৎসাহী হবে। ‘সরকারের অর্থ মানে হলো সাধারণ জনগণের ওপর দায় চাপানো। তাই আগামীতে জনগণের করের অর্থ বরাদ্দ দিতে যাতে না হয় সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে’- যোগ করেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভেড়ামারায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অবহিতকরণ সভা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে মূলধন জোগাবে সরকার

প্রকাশিত : ০৯:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির পাশাপাশি বাড়ছে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি (নিরাপত্তা সঞ্চিতি)। এ পরিস্থিতিতে জনগণের টাকায় ফের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে মূলধন জোগানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর মূলধন পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বৈঠক ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সচিবালয়ে ডাকা ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউনুসুর রহমান।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, সোনালী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসিক ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে থাকতে এরই মধ্যে চিঠি দেয়া হয়েছে। বছর বছর মূলধন জোগান দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে সরকার। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকগুলো করা হলেও এখন তা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে মূলধন ঘাটতি হওয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে সরকারের হাজার কোটি টাকা মূলধন জোগানের কঠোর সমালোচনা করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত মিলিয়ে সরকারি খাতের ছয় ব্যাংকে ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি সাত হাজার ৬২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের ঘাটতি আট হাজার ২৮২ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে সোনালী ব্যাংকের। এ ব্যাংকের ঘাটতি তিন হাজার ১৪০ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি দুই হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এছাড়া জনতা ব্যাংকের ঘাটতি এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৬৯০ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকও প্রথম বারের মতো ঘাটতিতে পড়েছে। সরকার মালিকানাধীন বিশেষায়িত খাতের কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি সাত হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঘাটতি ৭৪২ কোটি টাকা। তবে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও অগ্রণী ব্যাংকে কোনো মূলধন ঘাটতি নেই।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি তৈরি হলে বাজেট থেকে তার জোগান দিতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সাল থেকে ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকগুলোকে ৪০০ কোটি টাকা অর্থাৎ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের বেশি পরিমাণ অর্থ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মানদ- ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে ১০ শতাংশ নূন্যতম মূলধনের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি জনগণের করের টাকায় জোগান দেয়া প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, অনিয়ম, আর্থিক কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি আর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যা আদায় করা যাচ্ছে না।

ফলে নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে গিয়ে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর এ হার বেশি। তিনি বলেন, সরকারের উচিৎ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির অর্থ না দিয়ে তাদের দক্ষতা ও খেলাপি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে যারা ব্যর্থ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কারণ এভাবে মূলধনের ঘাটতি মেটাতে সরকার অর্থ দিলে তারা কাজ না করে টাকা নিতে উৎসাহী হবে। ‘সরকারের অর্থ মানে হলো সাধারণ জনগণের ওপর দায় চাপানো। তাই আগামীতে জনগণের করের অর্থ বরাদ্দ দিতে যাতে না হয় সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে’- যোগ করেন তিনি।