১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাহাড়ের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, বাদ যাচ্ছে না ফসলি জমিও

আলীকদমে এস্কেভেটর দিয়ে এভাবে পাহাড় ও ফসলি জমি কেটে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়

হিল্লোল দত্ত, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
পার্বত্যজেলা বান্দরবানের আলীকদমে ফসলি জমি ও পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তিন ইটভাটায়। বন ও পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন অবৈধভাবে ফসলি জমি ও পাহাড় কাটলেও নেওয়া হচ্ছে না স্থায়ীভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা। ইটভাটাগুলোর কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে শতশত একর সবুজ পাহাড় ও ফসলি জমি। তারাবনিয়া এলাকায় এবিএম, আমতলী এলাকায় ইউবিএম সহ আলীবাজার এলাকায় এফবিএম এই তিন ইটভাটার আশপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় ও জমি কাটানো হয়েছে ইটভাটার পক্ষ থেকে, মাটি নিয়ে যাওয়ার কারনে এক সময়ের ফসলি জমিগুলো ডোবায় পরিণত হয়েছে।
এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে সেই মাটি (ডাম্পার) ছোট ট্রাক দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে এক ডাম্পার চালক বলেন, এবিএমের ম্যানেজার আব্দুল কাদেরের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এই মাটিগুলো স্থুপ আকারে ইটভাটায় জমানো হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন ও গফুর আহম্মেদ বলেন, দিনে সীমিত আকারে হলেও রাতে মাটি কাটা ও মাটি পরিবহন বেপরোয়া হয়ে উঠে। ইট ও মাটির গাড়ি চলাচলের ফলে সড়কগুলো ভেঙ্গে একাকার হয়ে ঐ সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়াও অসাধ্য হয়ে পড়েছে। মাটি কাটার বিষয়ে এবিএমের ম্যনেজার আব্দুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমির মালিক মাটি বিক্রি করেছে, আমরা কিনেছি। জমির মালিক মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছে। তবে মালিকানা জমির মাটি কাটতে প্রশাসনের অনুমতি লাগে কিনা তা আমার জানা নেই। অন্যদিকে ইউবিএম ইটভাটার অংশীদার জামাল উদ্দিনের সাথে পাহাড় কাটার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাহার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্রীরূপ মজুমদার জানান, লকডাউন শেষে আলীকদমের ইটভাটাগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাহাড়ে ইটভাটার অনুমতির সুযোগ নেই। আলীকদমের ইটভাটাগুলো অবৈধভাবে চলছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সায়েদ ইকবাল জানান, পাহাড় ও ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি আনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও মাটি কাটা বন্ধ করা হচ্ছে। অবৈধভাবে পাহাড়কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, সবার একান্তিক সহযোগিতায় পাহাড় ও ফসলি জমি কাটা বন্ধ করা সহজ হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ

ট্যাগ :

পাহাড়ের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, বাদ যাচ্ছে না ফসলি জমিও

প্রকাশিত : ০৩:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১

হিল্লোল দত্ত, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি
পার্বত্যজেলা বান্দরবানের আলীকদমে ফসলি জমি ও পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তিন ইটভাটায়। বন ও পরিবেশ আইনকে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন অবৈধভাবে ফসলি জমি ও পাহাড় কাটলেও নেওয়া হচ্ছে না স্থায়ীভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা। ইটভাটাগুলোর কারণে বিলুপ্ত হচ্ছে শতশত একর সবুজ পাহাড় ও ফসলি জমি। তারাবনিয়া এলাকায় এবিএম, আমতলী এলাকায় ইউবিএম সহ আলীবাজার এলাকায় এফবিএম এই তিন ইটভাটার আশপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় ও জমি কাটানো হয়েছে ইটভাটার পক্ষ থেকে, মাটি নিয়ে যাওয়ার কারনে এক সময়ের ফসলি জমিগুলো ডোবায় পরিণত হয়েছে।
এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে সেই মাটি (ডাম্পার) ছোট ট্রাক দিয়ে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করে এক ডাম্পার চালক বলেন, এবিএমের ম্যানেজার আব্দুল কাদেরের নির্দেশে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এই মাটিগুলো স্থুপ আকারে ইটভাটায় জমানো হচ্ছে। এদিকে স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন ও গফুর আহম্মেদ বলেন, দিনে সীমিত আকারে হলেও রাতে মাটি কাটা ও মাটি পরিবহন বেপরোয়া হয়ে উঠে। ইট ও মাটির গাড়ি চলাচলের ফলে সড়কগুলো ভেঙ্গে একাকার হয়ে ঐ সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়াও অসাধ্য হয়ে পড়েছে। মাটি কাটার বিষয়ে এবিএমের ম্যনেজার আব্দুল কাদেরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমির মালিক মাটি বিক্রি করেছে, আমরা কিনেছি। জমির মালিক মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছে। তবে মালিকানা জমির মাটি কাটতে প্রশাসনের অনুমতি লাগে কিনা তা আমার জানা নেই। অন্যদিকে ইউবিএম ইটভাটার অংশীদার জামাল উদ্দিনের সাথে পাহাড় কাটার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাহার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্রীরূপ মজুমদার জানান, লকডাউন শেষে আলীকদমের ইটভাটাগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাহাড়ে ইটভাটার অনুমতির সুযোগ নেই। আলীকদমের ইটভাটাগুলো অবৈধভাবে চলছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সায়েদ ইকবাল জানান, পাহাড় ও ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি আনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও মাটি কাটা বন্ধ করা হচ্ছে। অবৈধভাবে পাহাড়কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, সবার একান্তিক সহযোগিতায় পাহাড় ও ফসলি জমি কাটা বন্ধ করা সহজ হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ