ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রায় সস্তি ও নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে গভীর রাত পর্যন্ত সয়েল কম্পেক্টর (এক ধরনের রোলার মেশিন) চালিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। সকাল, দুপুর, রাত সব সমই নগরীর কাজে ব্যস্ত থাকছেন তিনি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে শিগগির চালু হচ্ছে এই নতুন রাস্তা। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী কলেজ গেট থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট এড়িয়ে খুব সহজেই গাজীপুরে প্রবেশ করতে পারবে।
টঙ্গীর বনমালা রেলগেট থেকে সুকন্দিরবাগ ব্রিজ পর্যন্ত বিকল্প সংযোগ সড়কটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে দিন-রাত চেষ্টা করছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় প্রতিদিনই সরেজমিন গভীর রাত পর্যন্ত উপস্থিত থেকে প্রকল্পটির কাজ তদারকি করছেন গাসিক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।
গত মঙ্গলবার রাত ১১টা থেকে সোয়া ৩টা পর্যন্ত মেয়র প্রকল্প এলাকায় অবস্থানকালে তিনি নিজে কিছু সময় সয়েল কম্পেক্টর চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের উৎসাহ জুগিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও প্রায় রাতেই নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তা প্রশস্তকরণ, ড্রেনসহ সব কাজই পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন।
এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাস র্যাপিড ট্রানজিট-বিআরটি প্রকল্পের কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। কাঙ্ক্ষিত বিকল্প সড়কটির কাজ আরও আগেই সম্পন্ন হয়। কিন্তু এরই মধ্যে রেলওয়ের ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হলে বিকল্প সড়কটির টঙ্গী বনমালা থেকে সুকন্দিরবাগ ব্রিজ পর্যন্ত অংশ বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ফলে বিকল্প ওই সড়কের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন নগরবাসী। ইতোমধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিকল্প সড়কের ওই অংশে ডাবল লাইনের জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে। এতে বিকল্প সড়কটি ওই অংশে আরও সংকোচিত হয়ে পড়লে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় মেয়র পাশের জমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তাটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেন। জমির মালিকরাও স্বেচ্ছায় জায়গা দিতে রাজি হন। বর্তমানে বিকল্প সড়কটির ওই অংশে দিন-রাত দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।
মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিকল্প সড়কটি নগরবাসীকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে উৎসর্গ করছি। মেয়র নগরবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী যার যার অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আগে জীবন, পরে জীবিকা। বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আরও অনেক উৎসব আনন্দ উপভোগ করা যাবে। ঈদযাত্রা যেন অন্তিম যাত্রায় পরিণত না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ




















