“আম জাম বড়ই পেপে পাকা আনারস, এলো আবার মধু মাস রসে টসটস।” বাহারি রসালো ফলের সমারোহ নিয়ে এলো জৈষ্ঠ্য মাস। হাটে-বাজারে, রাস্তায়-ফুটপাতে, শহরে-গ্রামে এখন শুধু বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহ। দেখলেই যেন জিভে জল এসে যায়। এমন-ই এক রসালো ফল হলো তালের শাঁস। গ্রামগঞ্জের সকলেই চেনেন এ ফলটি। তাল ফলের নরম অংশটি খুবই সুস্বাদুু। প্রচন্ড গরমে তালের এই শাঁসটি শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। অঞ্চল ভিত্তিক এর বিভিন্ন নাম রয়েছে। মধুমাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালকুর, কেউ বলে তালের আটি। আমাদের অঞ্চলে একে বলা হয় তালের ডাব। গরমের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালের শাঁস অনেক উপকারী। এর রয়েছে অনেক পুষ্টি গুণ। তাই জৈষ্ঠ্যের এ মধুমাসে বাজারে নানা ফলের সাথে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে তালের শাঁস। বর্তমানে গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন স্থানে এই মৌসুমী ফল তালের শাঁস বিক্রি বেড়েছে। অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাল গাছ থেকে অপরিপক্ক তাল ফল পাইকারী কিনে এনে কেটে কেটে বিভিন্ন দামে বিক্রয় করে। গ্রীষ্মের এই তাপদাহে মুরাদনগরে তালের শাঁস প্রাণ জুড়াচ্ছে পথিকের। তালের শাঁস খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। গতকাল উপজেলার সদর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রহিমপুর গ্রামের যুবক মোঃ সোহেল (২৫) তাল শাঁস বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের অনেক ভীড়, বিক্রেতা শাঁস কেটে সারতে পারছে না, ক্রেতারা দাঁড়িয়ে রয়েছে শাঁস নিতে।
বহু বছর ধরে তালের শাঁস বিক্রি করে আসা ভুবনঘর গ্রামের সফিকুল ইসলাম (৫০) বলেন, প্রতি বছরই এ সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাল ক্রয় করে গাছ থেকে পেরে এনে শাঁস বিক্রি করেন। জৈষ্ঠ্যে মাস পর্যন্ত চলবে তালের শাঁস বিক্রি। প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ টি তাল বিক্রি করা যায়। একটি শাঁস (চোখ) আকার ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে তার প্রায় চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে তার ভালই লাভ হয় বলে জানান। তাল ক্রয় করতে আশা আবু কাউছার জানান, গত বছরের থেকে এবারে তাল শাঁসের দাম অনেকটাই বেশি। তারপরও মৌসুমি ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহের কমতি নেই তাদের।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















