মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষা সৈনিক মীর আনিসুল হক পেয়ারা ইন্তেকাল করেছেন। রবিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রংপুরে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না… ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মীর আনিসুল হক পেয়ারার ছোট মেয়ে ও রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক শাহিনা সুলতানা।
সোমবার পারিবারিক সিদ্ধান্তে সকাল ১১টায় মাহিগঞ্জ শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মাহিগঞ্জ কবরস্থানে তাঁর দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে।
আনিসুল হক পেয়ারার মৃত্যুতে রংপুরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গণে শোকের ছায়া মেনে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মহল থেকে শোক প্রকাশ করে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনিসুল হক পেয়ারা রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ছিলেন। তিনি ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর থেকে বাসায় শয্যাশয়ী হয়ে পড়েছিলেন।
দীর্ঘ তিন বছর ধরে শয্যাশয়ী থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আনিসুল হক পেয়ারা ১৯৩৬ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন । তিনি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন। এ কারণে ৫২’র পরে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়েছিল। দীর্ঘ দিন তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। পলাতক থাকায় ১৯৫৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরে ১৯৫৫ সালে পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ১৯৫৬ সালে আবার তাকে পলাতক হতে হয়। ১৯৬১ সালে মাহিগঞ্জ আফানউল্ল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন আনিসুল হক পেয়ারা। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনের সময় দুই মাস কারাবন্দি ছিলেন। একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















