দুই পাশেই চলাচলের রাস্তা বসবাসের অসংখ্য ঘরবাড়ি কিন্তু মাঝখানে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পড়েছে ১২ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। চারদিকে যখন উন্নয়ন আর উন্নত সভ্যতার ছোঁয়া তখন এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভোগান্তি। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে চলমান মানুষগুলো। সব থেকে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিশু এবং স্কুল, মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক লোক, গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ্য মানুষরা। এমনি দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর চাকলা ঘাটে সেতুর আভাবে অন্তত ১২ গ্রাম এখনও পিছিয়ে আছে। শুষ্ক মৌসুমে সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষায় এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হয়ে পড়েন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নৌকা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপারে প্রতিবছর ঘটছে দুর্ঘটনা।
উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে কুর্শা ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে যমুনেশ্বরী নদীর ওই খেয়াঘাট অবস্থিত। ওই খেয়াঘাটের চারপাশে জয় বাংলা, কবিরাজপাড়া, খিয়ারপাড়া, হাজিপাড়া, কুঠিপাড়া, জুম্মাপাড়া, সরকারপাড়া, চাকলা, জলুবার, বানয়িপাড়া, জেলেপাড়া, নদীর পার, পাচানীসহ ১২টি গ্রাম। এই ঘাটে সেতু না থাকায় এসব গ্রামের ২০ হাজার মানুষকে অতিকষ্টে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ওপর সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে আছে হাজারও মানুষ। বিশেষ করে অসুস্থ নারী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা , দিনমজুর , রিক্সা-ভ্যান ও বাইক চালকের ভোগান্তি বেশি হয়। বর্তমানে নদীর ওপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সবাই এই সাঁকো ব্যবহার করছে। কিন্তু কোনও ধরনের যান এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হলেও বর্ষাকালে বাড়ে ভোগান্তি। অনেক সময় কাঠের সেতুটি ভেসে যায়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা হয় একমাত্র যোগাযোগের উপায়। নৌকা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল করতে গিয়ে প্রতিবছর ঘটছে দুর্ঘটনা।
ওহিমাপুর চাকলা খেয়াঘাটের প্রবীণ মাঝি আবজারুল ইসলাম (৫৫) বলেন, ‘সরকার কত কিছু করে, খালি হামার গ্রামের কাছত পুল কোনা বানের না পারে। এটে একনা পুলের জন্য হামার কষ্ট চিরকাল।’ একই গ্রামের কালু মিয়া (৩১) বলেন, ‘বাহে, হামার বাপ-দাদারাও এই নদীর জন্যে কষ্ট প্যায়া মরি গেইছে। হামরাও যাবার পথে, তবু এটেকোনা পুল হয়ছে না।’ জয় বাংলা গ্রামের কৃষক পলাশ বাবু (৩৫) বলেন, ‘নির্বাচন আসলে নেতারা কয়, তোমার নদীটা তো বড় সমস্যা। ভোট দেও, এবার ব্রিজ হয়া যাইবে। হামরা তাতে মাতি ভোট দেই। কিন্তু ব্রিজ আর হয় না।’ বানিয়াপাড়া গ্রামের বিধান রায় (৫৫) বলেন, ‘নদীতে সেতু না থাকায় ধান, পাট, চাল, শাকসবজি শহরে নিয়া বিক্রি করা মুশকিল। বাধ্য হয়ে কম দামত জিনিসপত্র বেচতে হয়।’ নদীর পাড় গ্রামের কাইয়ুম হক (৩৩) বলেন, ‘যদি রাইতোত কায়ও বাড়িত মরিও যায়, তাও রোগী মেডিকেলত নিয়া যাওয়া মুশকিল।’
ওহিমাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামলী রানী বলেন, চাকলা ঘাটে সেতু না থাকায় বর্ষাকালে নদীর ওপারের পাচানী, জলুবার, নারায়ণজন গ্রামের বেশির ভাগ শিশু ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না।
ঘাট এলাকার বাসিন্দা কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য তুহিনুর ইসলাম বলেন, ১৫টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ বারবার সেতু দাবি করে পাবে না, এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে।
কুর্শার ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক বলেন, এখানে সেতু নির্মিত হলে অবহেলিত এ অঞ্চলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আহাম্মেদ হায়দার বলেন, শিগগিরই খোঁজ নিয়ে ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















