০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঠিকাদারের বালু উত্তোলনের গর্ত ভরাট করলো প্রশাসন

ঠিকাদারের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে আক্কেল সেলামি দিতে হলো নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে। এক পক্ষ কাল ব্যাপি ড্রেজার মেসিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হলো সেই গর্ত দুটি। ওই গর্ত দুটির ফলে প্রধানমন্ত্রীর একটি আশ্রয়ন প্রকল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিল বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়।

পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ কিলোমিটার চাড়ালকাটা নদী পুর্ণখনন করা হয়। খনন করা বালু উপজেলা প্রসাশন ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩৫ ও ৩৬ নম্বর দুটি লট ১২লাখ ২২ হাজার ৭১৫টাকায় নিলাম টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিয়াম ট্রেডার্সের কাছে বিক্রি করে। এসময় দরপত্রে বালুর পরিমাান উল্লেখ করা হয় দুই লাখ তিন হাজার ৯১৫ ঘনফুট। কিন্তু টেন্ডারের পর রাতারাতি বালু মাফিয়ার একটি চক্র বালু লুট করে নিয়ে যায়। ঠিকাদার টেন্ডারে উল্লেখিত পরিমানের দশভাগ বালু না পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রসাশনের কাছে তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অবশেষে ঠিকাদারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে উপজেলা প্রসাশন। ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয় বালুর জায়গা থেকে যেভাবে পারেন বালু নিয়ে যান। ঠিকাদার ১৫ ফিট গভীর করে দুটি গর্ত থেকে বালু উত্তোলন করে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। এব্যাপারে কয়েকটি অনলাইন ভার্সনে ঠিকাদারের বালু উত্তলনের গর্তে ঝুঁকির মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রসঙ্গে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রসাশনের টনক নড়ে। তখন একপক্ষ কাল ব্যাপী সেই খাল অদৃশ্য অর্থায়নে ভরাট করে তারা।

ওই এলাকার গুড্ডি বর্মন,তুশার বর্মন ও রুপেনসহ আরও অনেকে বলেন, ঠিকাদারের বালু লুটের ক্ষতি পূরণ পুষিয়ে দেয়ার জন্য দুটি গর্ত করে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলো উপজেলা প্রসাশন।কিন্তু গর্ত দুইটির ফলে আশ্রয়ন প্রকল্প ঝুকির মধ্যে পড়ায় তারাই আবার নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ১৫ দিন ব্যাপী গর্ত দুটি ভরাট করে।

এব্যাপারে সিয়াম ট্রের্ডাসের মালিক ঠিকাদার সোহাগ হোসেন বলেন, আমি ক্ষতি গ্রস্থ হওয়ার পর পানি উন্নয়ন র্বোড ও উপজেলা প্রসাশনের কাছে আবেদন করি। তারা আমাকে আশস্ত করেন স্তুবকৃত স্থান থেকে আপনি যেভাবে পারেন বালু নিয়ে যান। আমি দুটি গর্ত করে বালু উত্তোলন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন, আমি ডিসি স্যারের অনুমতি নিয়ে গর্ত দুটি ভরাট করেছি। কোন অর্থয়নে গর্ত দুটি ভরাট করেছেন জানতে চাইলে তিনি সিয়াম ট্রের্ডাসের জামানতের টাকা কেটে নেয়া হবে বলে জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ঠিকাদারের বালু উত্তোলনের গর্ত ভরাট করলো প্রশাসন

প্রকাশিত : ০৮:২৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুন ২০২১

ঠিকাদারের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে আক্কেল সেলামি দিতে হলো নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনকে। এক পক্ষ কাল ব্যাপি ড্রেজার মেসিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হলো সেই গর্ত দুটি। ওই গর্ত দুটির ফলে প্রধানমন্ত্রীর একটি আশ্রয়ন প্রকল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিল বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়।

পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ কিলোমিটার চাড়ালকাটা নদী পুর্ণখনন করা হয়। খনন করা বালু উপজেলা প্রসাশন ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩৫ ও ৩৬ নম্বর দুটি লট ১২লাখ ২২ হাজার ৭১৫টাকায় নিলাম টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিয়াম ট্রেডার্সের কাছে বিক্রি করে। এসময় দরপত্রে বালুর পরিমাান উল্লেখ করা হয় দুই লাখ তিন হাজার ৯১৫ ঘনফুট। কিন্তু টেন্ডারের পর রাতারাতি বালু মাফিয়ার একটি চক্র বালু লুট করে নিয়ে যায়। ঠিকাদার টেন্ডারে উল্লেখিত পরিমানের দশভাগ বালু না পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রসাশনের কাছে তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। অবশেষে ঠিকাদারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে উপজেলা প্রসাশন। ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয় বালুর জায়গা থেকে যেভাবে পারেন বালু নিয়ে যান। ঠিকাদার ১৫ ফিট গভীর করে দুটি গর্ত থেকে বালু উত্তোলন করে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। এব্যাপারে কয়েকটি অনলাইন ভার্সনে ঠিকাদারের বালু উত্তলনের গর্তে ঝুঁকির মুখে আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রসঙ্গে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রসাশনের টনক নড়ে। তখন একপক্ষ কাল ব্যাপী সেই খাল অদৃশ্য অর্থায়নে ভরাট করে তারা।

ওই এলাকার গুড্ডি বর্মন,তুশার বর্মন ও রুপেনসহ আরও অনেকে বলেন, ঠিকাদারের বালু লুটের ক্ষতি পূরণ পুষিয়ে দেয়ার জন্য দুটি গর্ত করে বালু উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিলো উপজেলা প্রসাশন।কিন্তু গর্ত দুইটির ফলে আশ্রয়ন প্রকল্প ঝুকির মধ্যে পড়ায় তারাই আবার নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে ১৫ দিন ব্যাপী গর্ত দুটি ভরাট করে।

এব্যাপারে সিয়াম ট্রের্ডাসের মালিক ঠিকাদার সোহাগ হোসেন বলেন, আমি ক্ষতি গ্রস্থ হওয়ার পর পানি উন্নয়ন র্বোড ও উপজেলা প্রসাশনের কাছে আবেদন করি। তারা আমাকে আশস্ত করেন স্তুবকৃত স্থান থেকে আপনি যেভাবে পারেন বালু নিয়ে যান। আমি দুটি গর্ত করে বালু উত্তোলন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা বেগম বলেন, আমি ডিসি স্যারের অনুমতি নিয়ে গর্ত দুটি ভরাট করেছি। কোন অর্থয়নে গর্ত দুটি ভরাট করেছেন জানতে চাইলে তিনি সিয়াম ট্রের্ডাসের জামানতের টাকা কেটে নেয়া হবে বলে জানান।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ