০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পার্বতীপুরে লাভের পথে পাথর খনি

দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া পাথর খনি পরপর তিন বছর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত নয় মাসে ১১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ মে.টন পাথর বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা। বিগত দুই অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে আরও বেশী মুনাফা হবে বলে আশাবাদী খনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদন, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) পূর্ণমাত্রায় পাথর উৎপাদন করায় পর পর তিন বছর ধরে লাভের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, নিয়োমিত ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে ২০২০ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে এমজিএমসিএল। করোনার কারণে দরপত্র দাখিলের সময় কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ তা ২০ জুন করা হয়। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হলে খনির পাথর উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, অব্যাহত লোকসানের মুখে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে মধ্যপাড়া খনির উৎপাদন ও রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় ও দেশীয় প্রতিষ্টান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেড নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। উত্তর কোরিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামনাম এর রেখে যাওয়া বেশীরভাগ মাইনিং যন্ত্রপাতি পুরাতন এবং আয়ুস্কাল শেষ হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার উপযোগী করে ২০১৪ সালে ২৪ ফেব্রæয়ারী পাথর উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি।

নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে বেলারুশের খনি বিশেষজ্ঞ এবং দেশীয় প্রকৌশলীসহ প্রায় সাড়ে ৭শ’ খনি শ্রমিক নিয়ে তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের সক্ষমতা অর্জন করে জিটিসি। পাথর উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে জিটিসি মধ্যপাড়া খনিকে লোকসানের হাত থেকে প্রথম বারের মত লাভের মুখ দেখায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে খনিটি যথাক্রমে ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও ২২ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে।

এদিকে, সময়মত বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খনন যন্ত্র আমদানী না করায় খনন যন্ত্রের অভাবে ২০১৫ সালে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। জিটিসি’র মতে প্রয়োজনীয় খনন যন্ত্রের অভাবে তারা ৩ বছর খনিটি পরিচালনা করতে পারেনি। এ জন্য মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে জিটিসি ৩ বছর সময় এবং যন্ত্রাংশ ক্রয় বাবদ ৩০৩ কোটি টাকা দাবি করে। বিষয়টি এক পর্যায়ে আরবিটেশন ট্রাইবুনাল পর্যন্ত গড়ায়। আরবিটেশন ট্রাইবুনাল স্থিতিতাবস্থা দিলে তা জিটিসি’র পক্ষে যায়। জিটিসির সাথে চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রæয়ারী। খনন যন্ত্রপাতির অভাবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে খনি উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন ব্যহত হয় এবং চুক্তির বেশিরভাগ সময় পাথর উত্তোলন না করে বসে থাকতে হয় জিটিসিকে।

জিটিসির সাথে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পেট্রোবাংলা বিকল্প কোনো ঠিকাদার নিয়োগ দিতে না পারায় জিটিসি’র চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। জিটিসি’র সাথে সাইট লেটার এগ্রিমেন্ট সাক্ষরিত হয় ২০২০ সালের ২০ ফেব্রæয়ারী। চুক্তি কার্যকর হয় ২৯ জুলাই। নতুন চুক্তি অনুযায়ী এক বছরে জিটিসি ১.১ মিলিয়ন মে.টন পাথর উৎপাদন করে দিবে। জিটিসি ১০ মাসেই সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে। জিটিসি খনি পরিচালনার পাশাপশি খনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি খনির প্রধান গেটের সামনে ‘চ্যারিটি হোম’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা স্থাপন করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দিচ্ছে। খনি শ্রমিকদের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত সন্তাদের প্রতিমাসে শিক্ষা বৃত্তিও প্রদান করছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি জানান, “খনির উৎপাদন অবস্থা ভালো থাকায় আমরা বিদ্যমান ঠিকাদারকে মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দিচ্ছি। তবে বর্তমান ঠিকাদারের কাজে দুর্বলতা পাওয়া গেলে আমরা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

পার্বতীপুরে লাভের পথে পাথর খনি

প্রকাশিত : ০৫:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১

দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া পাথর খনি পরপর তিন বছর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত নয় মাসে ১১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ মে.টন পাথর বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় করেছে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা। বিগত দুই অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে আরও বেশী মুনাফা হবে বলে আশাবাদী খনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদন, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) পূর্ণমাত্রায় পাথর উৎপাদন করায় পর পর তিন বছর ধরে লাভের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, নিয়োমিত ঠিকাদার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়ে ২০২০ সালের ফেব্রæয়ারী মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করে এমজিএমসিএল। করোনার কারণে দরপত্র দাখিলের সময় কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ তা ২০ জুন করা হয়। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হলে খনির পাথর উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, অব্যাহত লোকসানের মুখে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে মধ্যপাড়া খনির উৎপাদন ও রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় ও দেশীয় প্রতিষ্টান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেড নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। উত্তর কোরিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামনাম এর রেখে যাওয়া বেশীরভাগ মাইনিং যন্ত্রপাতি পুরাতন এবং আয়ুস্কাল শেষ হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার উপযোগী করে ২০১৪ সালে ২৪ ফেব্রæয়ারী পাথর উত্তোলন শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি।

নানা প্রতিকুলতা কাটিয়ে বেলারুশের খনি বিশেষজ্ঞ এবং দেশীয় প্রকৌশলীসহ প্রায় সাড়ে ৭শ’ খনি শ্রমিক নিয়ে তিন শিফট চালু করে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের সক্ষমতা অর্জন করে জিটিসি। পাথর উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে জিটিসি মধ্যপাড়া খনিকে লোকসানের হাত থেকে প্রথম বারের মত লাভের মুখ দেখায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে খনিটি যথাক্রমে ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও ২২ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে।

এদিকে, সময়মত বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় খনন যন্ত্র আমদানী না করায় খনন যন্ত্রের অভাবে ২০১৫ সালে পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। জিটিসি’র মতে প্রয়োজনীয় খনন যন্ত্রের অভাবে তারা ৩ বছর খনিটি পরিচালনা করতে পারেনি। এ জন্য মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে জিটিসি ৩ বছর সময় এবং যন্ত্রাংশ ক্রয় বাবদ ৩০৩ কোটি টাকা দাবি করে। বিষয়টি এক পর্যায়ে আরবিটেশন ট্রাইবুনাল পর্যন্ত গড়ায়। আরবিটেশন ট্রাইবুনাল স্থিতিতাবস্থা দিলে তা জিটিসি’র পক্ষে যায়। জিটিসির সাথে চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়ে যায় ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রæয়ারী। খনন যন্ত্রপাতির অভাবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে খনি উন্নয়ন ও পাথর উত্তোলন ব্যহত হয় এবং চুক্তির বেশিরভাগ সময় পাথর উত্তোলন না করে বসে থাকতে হয় জিটিসিকে।

জিটিসির সাথে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পেট্রোবাংলা বিকল্প কোনো ঠিকাদার নিয়োগ দিতে না পারায় জিটিসি’র চুক্তির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। জিটিসি’র সাথে সাইট লেটার এগ্রিমেন্ট সাক্ষরিত হয় ২০২০ সালের ২০ ফেব্রæয়ারী। চুক্তি কার্যকর হয় ২৯ জুলাই। নতুন চুক্তি অনুযায়ী এক বছরে জিটিসি ১.১ মিলিয়ন মে.টন পাথর উৎপাদন করে দিবে। জিটিসি ১০ মাসেই সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে। জিটিসি খনি পরিচালনার পাশাপশি খনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি খনির প্রধান গেটের সামনে ‘চ্যারিটি হোম’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা স্থাপন করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দিচ্ছে। খনি শ্রমিকদের উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত সন্তাদের প্রতিমাসে শিক্ষা বৃত্তিও প্রদান করছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি জানান, “খনির উৎপাদন অবস্থা ভালো থাকায় আমরা বিদ্যমান ঠিকাদারকে মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ দিচ্ছি। তবে বর্তমান ঠিকাদারের কাজে দুর্বলতা পাওয়া গেলে আমরা নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করব।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ