মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে নাজমা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (৪ জুলাই) শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ফেচুয়াধারা গ্রামে অভিযান চালিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে রফিক (৪৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।
আটক রফিক হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের সরফদি নগর গ্রামের শফি উদ্দিনের ছেলে।
নিহত নাজমা হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের সরফদি নগর গ্রামের ইসলাম সর্দারের স্ত্রী ও শিবালয় উপজেলার মালুচী গ্রামের কাশেম আলীর ছোট মেয়ে।
নিহত নাজমার স্বামী ইসলাম সর্দার বলেন, সকাল বেলা আমি এবং আমার স্ত্রী খেতে মরিচ তুলতে যাচ্ছিলাম। খেতে বর্ষার পানি থাকায় আমার স্ত্রী আমাকে বললো তুমি নৌকা দিয়ে ওই পথে যাও। আর আমি হেটে এদিক দিয়ে যাই। কিছুদুর যাওয়ার পর পাশের খেতে থাকা আমার বড় ভাই মোশারফ কান্নার শব্দ শুনতে পায়। আমার বোনের ছেলে শামিম পাশের খেত থেকে চিৎকার করে বলে এই রফিক, মামিকে মারোস কেন? আমার ভাই ও ভাগিনার চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এসে রফিককে ধাওয়া দেয়ার পর সে পালিয়ে যায়।
তিনি আরো বলেন, এরপর আমরা সবাই দেখি হাটুপানিতে আমার স্ত্রী নাজমা পড়ে রয়েছে। আমার বড় ছেলে রনি সর্দার লোকজনের সহযোগিতায় নাজমাকে মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে এক্সরে রিপোর্ট দেখার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। তাকে দ্রæত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসাপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হরিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই ও ঘটনার বিস্তারিত শুনি। অভিযুক্ত রফিককে আটকের জন্য তদন্ত ওসি মোশারফ হোসেনসহ ৪ জনকে দায়িত্ব দেই। তারা অভিযান চালিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে রফিক (৪৫) কে আটক করতে সক্ষম হয়। কথাকাটির একপর্যায়ে বাঁশ দিয়ে নাজমাকে আঘাত করে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ



















