রংপুরে শনিবার ভোর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কোরবানির হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। ক্রেতারা বলছেন গত বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি। সরকারের ঘোষণায় হাটগুলো খুলে দেয়ায় জমজমাট হয়ে উঠেছে পশুর হাট। তবে হাটে সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা কেউই মানছেন না। মুখে অনেকের মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই কোথাও। ফলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঈদের আগে কোথাও কোথাও দুই দিনের বেশি হাট বসবে না। তাই দাম কমে যাওয়ার শঙ্কায় হাটে যারা গরু নিয়ে আসছেন তারা দাম হাকাচ্ছেন গত বারের চেয়ে বেশি। গত শুক্রবার ছিল রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জের হাট। সেখানে দেখা গেছে সামাজিক দুরত্ব মানার কোন বালাই নেই। ঠেলাঠেলি করে গরু ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিটি গরুর দাম গত বছরের চেয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি রয়েছে। এর আগের দিন ছিল নগরীর বুড়িহাট হাট। সেখানে ও দেখা গেছে একই চিত্র।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ির হাটে ঈদে কোরবানির পশুর উপচেপড়া ভিড় নিয়ে মানুষ গরু-ছাগল কেনাবেচা করছেন। মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তাররোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসার অনুমোতি দিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। এছাড়াও অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের চেয়ে এবার বেশি দাম হাকাচ্ছেন খামারিরা। রংপুর মহানগরীর মাস্টারপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরের গ্রামের এক খামার থেকে একটি গরু কিনেছেন ৭৫ হাজার টাকায়। তিনি বলেন ওই সাইজের গরু গত বছর বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকায়।
প্রায় একই কথা বললেন ইমরোজ হোসেন ইমু নামে এক ব্যক্তি। তিনি বুড়ির হাট থেকে বৃহস্পতিবার গরু কিনেছেন ৬৫ হাজার টাকায়। তার দাবি, এই সাইজের গরু গত বছর বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকায়। তবে খামারিরা বলছেন অন্যান্য বছর ঈদের একমাস আগে থেকে কোরবানির পশু কেনা বেচা হয়ে থাকে। এবার হাটের সংখ্যা কম। তাই দাম কমে যাওয়ার শঙ্কায় অনেকেই বেশি দাম চাচ্ছেন। রবাটসনগঞ্জ এলাকার খামারি শরিফুল ইসলাম বলেন, সামনে মাত্র দু’টি হাট রয়েছে। এই দুই হাটে গরু বিক্রি করতে পারবো কিনা এ নিয়ে চিন্তায় আছি। তবে তিনি বলেন, অনেকেই দাম কমে যাওয়ার শঙ্কায় বেশি দামে গরু বিক্রি করছেন।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশ্যে এই বিভাগের আট জেলায় দেড় লাখের বেশি খামারি সাড়ে ৪ লাখের বেশি গরু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ২ লাখের ওপর গৃহস্থ প্রায় ৯লাখ গরু-খাসি বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে রংপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি।






















