বাকি মাত্র আর এক দিন। আগামি ২১ জুলাই বুধবার পালিত হতে যাচ্ছে ইসলাম ধর্মাম্বলীদের পবিত্র ঈদুল-আযহা। এ ঈদে কোরবানির পশু জবাই, পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন ছুরি-চাকু, চাপাতি, বটি, দা সহ লোহার তৈরী বিভিন্ন উপকরণ। তাই পশুর হাটগুলোর পাশাপাশি এখন কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জামাদি কিনতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে ‘দা-বটির’ দোকানগুলোতে।
প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সঙ্কটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান কার্মকাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প।
ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ময়মনসিংহের ভালুকা থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছোট বাজার ও ভালুকা পৌর শহরের কামাররা । যেন নিশ্বাস ফেলারও সময় পাচ্ছেন না তারা। সবাই ব্যস্ত, লোহার তৈরি ধারালো সরঞ্জামাদি তৈরি করছেন, কেউবা করছেন মেরামত।
ভালুকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কামারের দোকানগুলোর সামনে সাজানো ছুরি-চাপাতি, দা-বটি। ক্রেতারা এসে পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী, কিনে নিয়ে যাচ্ছে কোরবানির পশুর মাংস কাটার সরঞ্জাম। শুধু যে নতুন দা-বটি কেনার জন্যই লোকজন কামারের দোকানে আসেন তা নয়, জং ধরা পুরোনো দা-বটি শাণ দিতেও আসছে অনেকেই।
শান দেয়া নতুন দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। ভিতরে চলছে কাজ। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখে মুখে প্রচÐ ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কাজের ব্যস্ততা।
ঈদুল-আযহা সামনে রেখে উপজেলার কামারের দোকানগুলোতে মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করছে কর্মকাররা। এ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সেখানে লোহা আর হাতুড়ির শব্দে এখন আকাশ-বাতাস মুখরিত। এ পেশার মানুষ সারা বছর কমবেশি লোহার কাজ করলেও ঈদুল আযহা সামনে রেখে বৃদ্ধি পায় তাদের কর্ম ব্যস্ততা। ভোর থেকে শুরু করে রাত অবধি চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ।
ঈদের বেচাকেনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোরঞ্জন কর্মকার বলেন, গত কয়েকদিন ধরে অর্ডার বেড়েছে। দিনরাত কাজ করছি। সারা বছরই দা-বটি সাপল ও কোদাল তৈরি ও মেরামতের করি। কিন্তু কোরবানির ঈদে ছুরি-চাকু, চাপাতি চাহিদা বেশি। নতুন বিক্রির পাশাপাশি পুরোনো ছুরি-চাকু শাণ দিচ্ছি। স্প্রিং ও জাহাজের লোহা দিয়ে এসব জিনিসপত্র বানানো। তবে স্প্রিংয়ের দা ও চাপাতির দাম একটু বেশি।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা, বঁটি অত্যাবশ্যকীয়। সেগুলো সংগ্রহ এবং প্রস্তুত রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। আর এ উপকরণ তৈরি ও শান বা লবণ-পানি দেয়ার কাজে প্রয়োজন কামারদের। পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ঢু-মারছেন। আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন।
ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের বিচিত্র চন্দ্র বর্মন বলেন, আগের মতো ক্রেতা নেই, আবার বেচাকেনা! আর কয়েক দিন পর ঈদ। অন্যান্য বছর এই সময়ে জমে ওঠে দা-বঁটির বাজার। দা, বঁটি, ছুরি বানিয়ে কূল পাইনা, কোরনার কারণে এবার বিক্রিই নেই।
এছাড়া উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় দাম একটু বেশি নিতে হচ্ছে। চায়না স্টিলের ছুরি-চাকুর কারণে আমাদের এখন ব্যবসা কমে গেছে। তবে প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ব্যবসা ভালোই হয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















