জীবনযুদ্ধে পরাজিত মানুষদের জীবন বদলে ফেলার নতুন স্বপ্ন দেখানোর মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মুজিববর্ষে কেউ গৃহ ও ভূমিহীন থাকবে না’- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাস্তবায়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২ শতাংশ জমির সঙ্গে ঘর পেয়েছেন সারা দেশের প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবার ঘর উপহার পাচ্ছে।
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সারাদেশের মত পার্বত্য জেলা রাঙামাটির আলোচিত নানিয়ারচর উপজেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা। দূর্গম এই অঞ্চলের সবুজ পাহাড়ের গহীন অরণ্যে যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন তারা কল্পনাও করেননি যে মুজিববর্ষে পাবেন জমিসহ বাড়ি।
ইতোমধ্যে অধিকাংশ ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়। ঘরের সাথে জমির কাগজপত্রের মালিকানা পেয়ে ভীষণ খুশি এসব গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার। বিনামূল্যে এসব ঘর পেয়ে আনন্দে আপ্লুত সুবিধাভোগীরা। তাদের অনেকেরই কাছে এরকম একটি ঘরের মালিক হওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। অবশেষে তাদের এ স্বপ্ন পুরণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা হওয়ায় খুশি দারিদ্রপীড়িত দূর্গম জনপদের ভূমিহীন ও গৃহহীনরা। নিজেদের মাথা গোজার ঠাই করে দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাণ খুলে দোয়াও করছেন অনেকে। ঘর পেয়ে এসব পরিবার অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন সুবিধাভোগীরা।
কয়েকশ’ পরিবারের মত এরকমই একজন বিধবা বৃদ্ধা দুলালী খীসা। আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে আবেগাপ্লুত তিনি।
দুলালী খীসা জানান, “দীর্ঘদিন স্বামী ছাড়া এই বৃদ্ধা বয়সে খোঁজ খবর নেয়ার মত কেও নেই, বাপেরও জমিজমা নাই। কোনও মত বেঁচে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমারে একটা ঘর দিছে, দুই শতক জমি দিছে, মাথা গুজার একটা ঠাঁই পেয়েছি, আমি ভীষণ খুশি, আমি জীবনেও ভাবি নাই আমার একটা ঘর হবে।”
কথা বলতে বলতে বৃদ্ধার দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে আনন্দাশ্রু।
রুপের রাণী রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় নির্মিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোর নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে পার্বত্য জেলার দূর্গম নানিয়ারচর উপজেলায় গেলে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দুলালী খীসা।
আরেক উপকারভোগী প্রতিবন্ধী মোঃ জমির আলম। শারিরিক প্রতিবন্ধীর কারনে কোনো কাজ করতে না পারায় তার স্ত্রী এলাকার মানুষের বাড়িতে ঝি- এর কাজ করেন, কখনো বা কাঁথা সেলায় করে কোনওমতে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। না ছিল জমি, না ছিল ঘর। পরের ঘরে মানুষের দয়া-দক্ষিণায় যদিও একটু ঠাঁয় মিলেছে কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি বেশি দিন।
তিনি জানান, “আমি জীবনে কল্পনাও করিনি আমার নিজের একটা ঘর হবে, হবে একটি ঠিকানা। সমাজের আর দশজনের মত বলতে পারবো ‘আমার বাড়ি’ যা স্বপ্নেও কোনওদিন ভাবিনি, তা প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী যেন ভাল থাকেন, সুস্থ থাকেন।”
শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন মোঃ হারুন। কখনো পাহাড়ে বা কখনো অরণ্যেই ছিল তার বসবাস, যখন যেখানে বাগান, চাষের কাজ পেত সেখানেই চলে যেত-এক কথায় যেখানেই রাত সেখানেই কাত। আশ্রয়ন প্রকল্পে নিঃস্ব ও গৃহহীন অন্যদের মতই একটি ঘর পেয়েছে তিনিও, পেয়েছেন দুই শতক জমি। শেখ হাসিনার জন্য তার একটি আশ্রয় হয়েছে। এতে উচ্ছাসিত মোঃ হারুন ।
হারুন জানান, “ঘর পেয়েছি, পেয়েছি জমি। প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘরই দেননি, বিদ্যুৎও দিয়েছেন, খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করেছেন। ঘর করার সময় আমরা প্রতিদিনই দেখভাল করেছি,। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই ঋণ শোধ করবো কীভাবে?। দোয়া করি আল্লাহ শেখ হাসিনার হায়াতদারাজ করুক।”
নানিয়ারচর এই প্রকল্পের আওতায় ৩১ টি ঘর হস্তান্তর হয়েছে। ৩০ টি নির্মাণাধীন
দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নকশা অনুযায়ী দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৯ ফুট, প্রস্থ ২২ ফুটসহ সাড়ে ৮ ফুট উচ্চতা সম্বলিত একটি ঘরে বারান্দা, ৮ ফুট করে দু’টি কক্ষ, একটি রান্না ঘর, একটি লেট্রিনের ব্যবস্থা আছে। ঘরগুলো নির্মিত হচ্ছে দেড় ফুট মাটির নিচে ১০ইঞ্চি ইটের ওপর ৫ইঞ্চি দেয়ালের গাঁথুনি দিয়ে।
নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি রহমান তিন্নি জানান, “মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নানিয়ারচরে গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে দুইকক্ষ বিশিষ্ট ৩৬টি সেমিপাকা ঘর, গৃহগুলো নির্মাণশৈলী ও গুণগতমান অনুমোদিত ডিজাইন প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়েছে। আমরা কাজগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেছি। বৈরী আবহাওয়া, অতি বৃষ্টি, করোনাকালীন প্রতিকূল অবস্থায় শ্রমিক সংকট থাকায় গৃহগুলো নির্মাণে একটু বেগ পেতে হয়েছে। কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হলে দ্রুত সেসব সমস্যা সমাধান করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করেই নির্মাণ করা হয়েছে
এবং শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে নিবিড় তত্ত্বাবধানে দুর্যোগ সহনীয় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে এসব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।
প্রত্যকটি ঘরের নির্মাণ কাজ চলাকালীন সময়ে আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে কাজের গুনগত মান নির্ণয় করে আসি।
এইসব গৃহ। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ সম্পন্ন করে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি, বরং আগামী দিনগুলোতে এই পরিবারগুলোর পাশে থাকতে নানিয়ারচর উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”
উল্লেখ্য ২০২০-২১ অর্থবছরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির শ্রেষ্ঠ নির্বাহী অফিসার হিসেবে জাতীয় শুদ্ধাচার পুরুষ্কার গ্রহন করেন নির্বাহী অফিসার শিউলি রহমান তিন্নি। এবং জনমানুষের কাংখিত সেবা নিশ্চিত করতে ছুটে চলেন প্রতিনিয়ত দূর্গম পাহাড় আর গহীণ অরণ্যে।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া এই পরিবারগুলোর অতীতের গল্প ভিন্ন হলেও সামনের দিনগুলোর ভাবনা তাদের প্রায় একইরকম। সবাই নিজের ঘরে একটু স্বস্তির জীবন পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















