০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ আজ

আমাদের দেশে অনাকাঙ্খিত শিশু মৃত্যুর পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে একটি কারণ হলো পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু অথচ শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। এ ধরনের মৃত্যু আমাদের চোখের সামনে প্রায়ই ঘটলেও তা নিয়ে বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পায় না।

এ নিয়ে কোনো দিবস ছিল না। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ২৫ জুলাইকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এ বছরই প্রথম পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি ঘোষণার জন্য যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। পাশাপাশি সমর্থন দিয়েছে সমর্থন দিয়েছে ৭৯টি সদস্য রাষ্ট্র।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত এক দশকে ২.৫ মিলিয়ন মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে, যা ছিল প্রতিরোধযোগ্য। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ের অনলাইন নিউজপোর্টালে ২০২০ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৭৫ টি ঘটনার কথা প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় সারা দেশে ১ হাজার ১৬৪ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৪০২ জন ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়।

প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। পরিবারের অসতর্কতা এর অন্যতম একটি কারণ। অথচ একটু সতর্ক হলেই এই ধরনের মৃত্যু থেকে শিশুকে আমরা রক্ষা করতে পারি। অভিভাভকের অগোচরেই একটি শিশু চলে যায় পাশের কোনো খালে। তারপর তার করুণ পরিণতি ঘটে।

 

গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত গ্লোবাল হেলথ আ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ’সমষ্টি’ পরিচালিত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে প্রকাশিত পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংবাদ বিশ্লেষণের তথ্যে দেখা যায়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর মধ্যে মোট ৮২ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এদের ৮০ শতাংশের বয়স আবার ৯ বছরের কম। পরিবারের সদস্যদের অসর্তকতার কারণেই মৃত্যু ঘটছে এদের সিংহভাগের। পানিতে ডুবে মোট মৃতুদের ৮১ শতাংশই পরিবারের অগোচরে পানিতে গিয়ে মারা যায়। এই তথ্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে ৪২৫ টি পৃথক ঘটনায় সারাদেশে ৭৬৯ ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়। যার ৮২ শতাংশই শিশু। আবার বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের বৈশি^ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ৪৩ শতাংশের কারণ পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) ২০১৭ সালে প্রকাশিত ’গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ ষ্টাডি’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই বছর ১৪ হাজার ২৯ জন পানিতে ডুবে মারা যায়।

 

এ রিপোর্ট অনুযায়ী পানিতে ডুবে মৃত্যুর দিক থেকে কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। একটি বিষয় স্পষ্ট যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় শিশুর অভিভাবকের চরম দায়িত্বহীনতা কাজ করে। কাজ করে অসচেতনতা। শিশুর প্রতি একটু সচেতনা না হলে যে কতবড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তার প্রমাণ পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। অভিভাবকের সচেতনতার সাথে সাথে আর একটি বিষয় হলো সাঁতার শেখা যা পানিতে নিজেকে ভাসিয়ে রক্ষার কৌশল। একসময় নয়-দশ বছরের একটি শিশুর সাঁতার জানা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। তার কম বয়সীরাও অনায়াসেই সাঁতার কাটতে সক্ষম ছিল।

 

বাংলাদেশ নদীর দেশ। বাংলাদেশ খাল-বিল, পুকুর,ডোবার দেশ। নদী-নালা খাল বিলের সাথে আমাদের দেশের মানুষের আতœার সম্পর্ক। এদেশের বাড়ির বাইরে দু’পা ফেললেই এসব জলাভূমির দেখা মেলে। সুতরাং এ কথা দৃঢ়ভাবে বলতে হয় যে আমাদের দেশে সাঁতার শেখাটা একরকম বাধ্যতামূলক কাজ বা শিশুদের সাঁতার শেখানোটা অভিভাবকের দায়িত্বের মধ্যেই পরে। মাত্র দুই তিন দশক আগেও এমন শিশু খুব কমই খুঁজে পাওয়া যেতো যে সাঁতার জানেনা বা শিশু থেকে শেখেনি। নদীতে ঝাঁপাঝাপি করা, সাঁতার কাটা, মাছ ধরা এসব ছিল শৈশবেরই একটি অংশ। এখন সময় বদলেছে। শহরায়নের হাওয়া লেগেছে সবখানে। সেই নগরায়ণের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের নদ-নদী,পুকুর-ডোবা,খাল-বিল।

সাঁতার বিষয়টি তো আর এমন নয় যে বইয়ে পড়েই কেউ শিখে যাবে। বরং এটি অভ্যাসের বিষয়। সেই অভ্যাস আজকের শিশু কোথায় করবে? সেই সুযোগ আজ তার কোথায়? ফলে একটি প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি চর্চা ছাড়াই। যদিও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার জন্য কেবল সাঁতার শেখাই যে একমাত্র দায়ী এমনটা নয়।

অভিভাবকের অসচেতনতার কথাও বলা হয়েছে জোরালোভাবে। অনেক সময়ই একা একা শিশু সবার অলক্ষ্যে চলে যায় পুকুরঘাটে বা নদীতে বা পাশ^বর্তী কোনো খালে। কেউ লক্ষ্য করে না। যখন খেয়াল হয় তখন অনেক দেরী হয়ে যায়।

আবার সাঁতার শেখানোর প্রতিও অভিভাবকের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। অন্তত আগের চেয়ে কমেছে বলেই মনে হয়। শিশুর এই অতি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে নিজেরাই আগ্রহী হচ্ছে না। এর ফলেও শিশুরা সাঁতার শেখার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলের অনেক পরিবার তাদের সন্তানকে সাঁতার শিখতে ভর্তি করিয়ে দেয় অথবা কোনো সুইমিংপুলে নিজেরাই চর্চা করায়।

 

গ্রামে গঞ্জে আজও শিশুরা সাঁতার শেখার সুযোগ পাচ্ছে নিজ থেকেই। তবে সেই হার কমে আসছে। অথচ পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধকল্পে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ শীর্ষক কর্মসূচির কাজ চলমান রয়েছে। এরপরও পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধ করা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে যে প্রধানত অসেচতনতা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর জন্য সর্বাধিক দায়ী, তাই প্রথমে সমাজকে সচেতন হতে হবে এবং শিশুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আর এরপর শিশুকে সাঁতার শেখানোর কাজটি করতে হবে। তা হলেই এ ধরনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু আমরা রোধ করতে সক্ষম হবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ

 

 

ট্যাগ :

বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৬ জন’কে গ্রেফতার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ

বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস’ আজ

প্রকাশিত : ০৪:০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১

আমাদের দেশে অনাকাঙ্খিত শিশু মৃত্যুর পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে একটি কারণ হলো পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু অথচ শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। এ ধরনের মৃত্যু আমাদের চোখের সামনে প্রায়ই ঘটলেও তা নিয়ে বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পায় না।

এ নিয়ে কোনো দিবস ছিল না। পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ২৫ জুলাইকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। এ বছরই প্রথম পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি ঘোষণার জন্য যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। পাশাপাশি সমর্থন দিয়েছে সমর্থন দিয়েছে ৭৯টি সদস্য রাষ্ট্র।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, গত এক দশকে ২.৫ মিলিয়ন মানুষ পানিতে ডুবে মারা গেছে, যা ছিল প্রতিরোধযোগ্য। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ের অনলাইন নিউজপোর্টালে ২০২০ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৭৫ টি ঘটনার কথা প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় সারা দেশে ১ হাজার ১৬৪ শিশুসহ মোট ১ হাজার ৪০২ জন ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়।

প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। পরিবারের অসতর্কতা এর অন্যতম একটি কারণ। অথচ একটু সতর্ক হলেই এই ধরনের মৃত্যু থেকে শিশুকে আমরা রক্ষা করতে পারি। অভিভাভকের অগোচরেই একটি শিশু চলে যায় পাশের কোনো খালে। তারপর তার করুণ পরিণতি ঘটে।

 

গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত গ্লোবাল হেলথ আ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ’সমষ্টি’ পরিচালিত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে প্রকাশিত পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংবাদ বিশ্লেষণের তথ্যে দেখা যায়, পানিতে ডুবে মৃত্যুর মধ্যে মোট ৮২ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু। এদের ৮০ শতাংশের বয়স আবার ৯ বছরের কম। পরিবারের সদস্যদের অসর্তকতার কারণেই মৃত্যু ঘটছে এদের সিংহভাগের। পানিতে ডুবে মোট মৃতুদের ৮১ শতাংশই পরিবারের অগোচরে পানিতে গিয়ে মারা যায়। এই তথ্য ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে ৪২৫ টি পৃথক ঘটনায় সারাদেশে ৭৬৯ ব্যক্তি পানিতে ডুবে মারা যায়। যার ৮২ শতাংশই শিশু। আবার বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের বৈশি^ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ৪৩ শতাংশের কারণ পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) ২০১৭ সালে প্রকাশিত ’গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ ষ্টাডি’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই বছর ১৪ হাজার ২৯ জন পানিতে ডুবে মারা যায়।

 

এ রিপোর্ট অনুযায়ী পানিতে ডুবে মৃত্যুর দিক থেকে কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। একটি বিষয় স্পষ্ট যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় শিশুর অভিভাবকের চরম দায়িত্বহীনতা কাজ করে। কাজ করে অসচেতনতা। শিশুর প্রতি একটু সচেতনা না হলে যে কতবড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তার প্রমাণ পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা। অভিভাবকের সচেতনতার সাথে সাথে আর একটি বিষয় হলো সাঁতার শেখা যা পানিতে নিজেকে ভাসিয়ে রক্ষার কৌশল। একসময় নয়-দশ বছরের একটি শিশুর সাঁতার জানা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। তার কম বয়সীরাও অনায়াসেই সাঁতার কাটতে সক্ষম ছিল।

 

বাংলাদেশ নদীর দেশ। বাংলাদেশ খাল-বিল, পুকুর,ডোবার দেশ। নদী-নালা খাল বিলের সাথে আমাদের দেশের মানুষের আতœার সম্পর্ক। এদেশের বাড়ির বাইরে দু’পা ফেললেই এসব জলাভূমির দেখা মেলে। সুতরাং এ কথা দৃঢ়ভাবে বলতে হয় যে আমাদের দেশে সাঁতার শেখাটা একরকম বাধ্যতামূলক কাজ বা শিশুদের সাঁতার শেখানোটা অভিভাবকের দায়িত্বের মধ্যেই পরে। মাত্র দুই তিন দশক আগেও এমন শিশু খুব কমই খুঁজে পাওয়া যেতো যে সাঁতার জানেনা বা শিশু থেকে শেখেনি। নদীতে ঝাঁপাঝাপি করা, সাঁতার কাটা, মাছ ধরা এসব ছিল শৈশবেরই একটি অংশ। এখন সময় বদলেছে। শহরায়নের হাওয়া লেগেছে সবখানে। সেই নগরায়ণের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের নদ-নদী,পুকুর-ডোবা,খাল-বিল।

সাঁতার বিষয়টি তো আর এমন নয় যে বইয়ে পড়েই কেউ শিখে যাবে। বরং এটি অভ্যাসের বিষয়। সেই অভ্যাস আজকের শিশু কোথায় করবে? সেই সুযোগ আজ তার কোথায়? ফলে একটি প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি চর্চা ছাড়াই। যদিও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনার জন্য কেবল সাঁতার শেখাই যে একমাত্র দায়ী এমনটা নয়।

অভিভাবকের অসচেতনতার কথাও বলা হয়েছে জোরালোভাবে। অনেক সময়ই একা একা শিশু সবার অলক্ষ্যে চলে যায় পুকুরঘাটে বা নদীতে বা পাশ^বর্তী কোনো খালে। কেউ লক্ষ্য করে না। যখন খেয়াল হয় তখন অনেক দেরী হয়ে যায়।

আবার সাঁতার শেখানোর প্রতিও অভিভাবকের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। অন্তত আগের চেয়ে কমেছে বলেই মনে হয়। শিশুর এই অতি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে নিজেরাই আগ্রহী হচ্ছে না। এর ফলেও শিশুরা সাঁতার শেখার বাইরে থেকে যাচ্ছে। শহরাঞ্চলের অনেক পরিবার তাদের সন্তানকে সাঁতার শিখতে ভর্তি করিয়ে দেয় অথবা কোনো সুইমিংপুলে নিজেরাই চর্চা করায়।

 

গ্রামে গঞ্জে আজও শিশুরা সাঁতার শেখার সুযোগ পাচ্ছে নিজ থেকেই। তবে সেই হার কমে আসছে। অথচ পানিতে ডুবে যাওয়া প্রতিরোধকল্পে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ শীর্ষক কর্মসূচির কাজ চলমান রয়েছে। এরপরও পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধ করা যাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে যে প্রধানত অসেচতনতা পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর জন্য সর্বাধিক দায়ী, তাই প্রথমে সমাজকে সচেতন হতে হবে এবং শিশুর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আর এরপর শিশুকে সাঁতার শেখানোর কাজটি করতে হবে। তা হলেই এ ধরনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু আমরা রোধ করতে সক্ষম হবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ইমরান মাসুদ