১১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

রূপগঞ্জে এক বছরেই পানিতে ডুবে ১৬ শিশুর মৃত্যু

মানুষের অসচেতনতা ও সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপের অভাবে দেশে প্রতিদিনই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো সম্ভাবনাময় প্রাণ, আদরের ধন খুঁইয়ে দুঃসহ বেদনার হাহাকার প্রলম্বিত হচ্ছে হাজারো পরিবারে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত বছরে পনিতে ডুবে ১৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ উপজেলার বানিয়াদি এলাকায় পানিতে ডুবে রাকিব হোসেন (০৬) নামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৪
জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাকিব ওই এলাকার সজল মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় বানিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাকিব খেলা করতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় শিশু তাসলিম ছুটে এসে বিষয়টি রাকিবের পরিবারকে জানায়। পরে তারা পুকুর থেকে রাকিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলার তারাব পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ মিয়া (১২) নামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুকুর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। আব্দুল্লাহ মিয়া ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। সে একই এলাকায় নানা সামসুদ্দিন আহাম্মেদের বাড়িতে থাকতো। কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, আব্দুল্লাহ দুপুরে নানা বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় বাড়ির লোকজন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে আব্দুল্লাহর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ১ মে রাতে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নোয়াগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

৩০ এপ্রিল উপজেলার চারিতাল্লুক এলাকার কবির হোসেনের ছেলে জিসান (৬) নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ওই দিন বিকেলে সমবয়সী মামাতো ভাই তুরাগসহ (৬) খেলতে বের হয়ে তারা নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। পরে রাতে দুই শিশুর মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে উঠে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে সহোদর দুই বোনসহ তিন বোন ডুবে মারা গেছে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো উপজেলার বেলদী নামাপাড়া এলাকার মাসকুর মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় বেলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাকসুদা আক্তার (৯) ও তার ছোট বোন দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার (৭) এবং মাসকুর মিয়ার ভাই হাফিজউদ্দিনের মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার (১০)। ওই শিশুদের পরিবারের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই তিন শিশু বাড়ির কাউকে কিছু না বলে গোসল করার জন্য শীতলক্ষ্যা নদীতে যায়। বেলা আড়াইটার সময়ও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে এলাকাবাসী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ওই শিশুদের পোশাক মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর এলাকার নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পর পর তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পানিতে ডুবে সাফিন আহাম্মেদ (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত সাফিন আহাম্মেদ পার্শ্ববর্তী জাঙ্গীর এলাকার ফয়সাল আহাম্মেদের ছেলে। জানা গেছে, শিশু সাফিন আহাম্মেদ দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকার নাছিরুল্লাহ হেফজখানার শিক্ষার্থী। খেলাধুলার সময় পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায়। পরে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে আবির (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সদর ইউপির পিতলগঞ্জ দক্ষিণপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত আবির হোসেন পিতলগঞ্জ দক্ষিণপাড়া এলাকার তেল ব্যবসায়ী আলী হোসেনের ছেলে। ফিটার দিয়ে দুধ খেতে খেতে খেলার ছলে বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে যায় শিশু আবির। পরে পরিবারের লোকজন খুঁজে না পেয়ে ওই ডোবায় দুধের ফিটারটি ভাসতে দেখে পানিতে খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করে। পরে ডোবা থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে।

শিমুল (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীর পাড় এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত শিমুল ওই এলাকার রুপ চাঁন সরকারের ছেলে। নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ আয়েশা বেগম জানান, দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টির সময় মাঝিনা নদীর পাড় এলাকার খালে বর্ষার পানিতে গোসল করতে ছিলো শিশু শিমুল। এসময় হঠাৎ করে শিমুল পানিতে তলিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শিমুল উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

লেকে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সামিন মাহাদী (১২) নামে ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার তারাব পৌরসভার গর্ন্ধবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত সামিন মাহাদী গর্ন্ধবপুর উত্তরপাড়া এলাকার শহীদ আলমের ছেলে। তার বাবা শহীদ আলম জানান, শনিবার ১২টার দিকে তার ছেলে স্থানীয় গর্ন্ধবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিন মাহাদী স্কুল ছুটির পর বাড়িতে আসে। দুপুর ১টার দিকে তার সহপাঠী সোহায়েম, নয়ন, ইমতিয়াজসহ কয়েজনের সঙ্গে বাড়ির সামনে লেকে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানায় সে পানিতে তলিয়ে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে লেকের পানিতে মাহাদীর দেহ ভেসে উঠে। এসময় আশেপাশে লোকজন মাহাদীকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভুলতা এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে নাছিম (১২) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নাছিম লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার টেলিপাড়া এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে। সে উপজেলার ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে ৫/৭ জন শিশু ভুলতা (দিঘী) পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় নাছিম পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তার সহপাঠী শিশুরা স্থানীয় লোকজনদের খবর দিলে তারা নাছিমের লাশ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে রূপগঞ্জে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে মাদরাসা ও স্কুলের পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ফাঁকিকৃত ৫৩২ কোটি টাকার আয়কর আদায় করলো আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট

রূপগঞ্জে এক বছরেই পানিতে ডুবে ১৬ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৭:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১

মানুষের অসচেতনতা ও সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপের অভাবে দেশে প্রতিদিনই পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো সম্ভাবনাময় প্রাণ, আদরের ধন খুঁইয়ে দুঃসহ বেদনার হাহাকার প্রলম্বিত হচ্ছে হাজারো পরিবারে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত বছরে পনিতে ডুবে ১৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জ উপজেলার বানিয়াদি এলাকায় পানিতে ডুবে রাকিব হোসেন (০৬) নামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৪
জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রাকিব ওই এলাকার সজল মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় বানিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। স্থানীয়রা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাকিব খেলা করতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় শিশু তাসলিম ছুটে এসে বিষয়টি রাকিবের পরিবারকে জানায়। পরে তারা পুকুর থেকে রাকিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলার তারাব পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ মিয়া (১২) নামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পুকুর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। আব্দুল্লাহ মিয়া ওই এলাকার ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। সে একই এলাকায় নানা সামসুদ্দিন আহাম্মেদের বাড়িতে থাকতো। কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, আব্দুল্লাহ দুপুরে নানা বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় বাড়ির লোকজন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে আব্দুল্লাহর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ১ মে রাতে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার নোয়াগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

৩০ এপ্রিল উপজেলার চারিতাল্লুক এলাকার কবির হোসেনের ছেলে জিসান (৬) নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ওই দিন বিকেলে সমবয়সী মামাতো ভাই তুরাগসহ (৬) খেলতে বের হয়ে তারা নিখোঁজ হন। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে। পরে রাতে দুই শিশুর মরদেহ বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে উঠে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে সহোদর দুই বোনসহ তিন বোন ডুবে মারা গেছে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো উপজেলার বেলদী নামাপাড়া এলাকার মাসকুর মিয়ার মেয়ে ও স্থানীয় বেলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাকসুদা আক্তার (৯) ও তার ছোট বোন দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার (৭) এবং মাসকুর মিয়ার ভাই হাফিজউদ্দিনের মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার (১০)। ওই শিশুদের পরিবারের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই তিন শিশু বাড়ির কাউকে কিছু না বলে গোসল করার জন্য শীতলক্ষ্যা নদীতে যায়। বেলা আড়াইটার সময়ও তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে বেলা তিনটার দিকে এলাকাবাসী শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ওই শিশুদের পোশাক মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর এলাকার নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পর পর তিন শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

পানিতে ডুবে সাফিন আহাম্মেদ (১১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত সাফিন আহাম্মেদ পার্শ্ববর্তী জাঙ্গীর এলাকার ফয়সাল আহাম্মেদের ছেলে। জানা গেছে, শিশু সাফিন আহাম্মেদ দক্ষিণ নবগ্রাম এলাকার নাছিরুল্লাহ হেফজখানার শিক্ষার্থী। খেলাধুলার সময় পার্শ্ববর্তী পুকুরে পড়ে যায়। পরে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে আবির (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সদর ইউপির পিতলগঞ্জ দক্ষিণপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত আবির হোসেন পিতলগঞ্জ দক্ষিণপাড়া এলাকার তেল ব্যবসায়ী আলী হোসেনের ছেলে। ফিটার দিয়ে দুধ খেতে খেতে খেলার ছলে বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে যায় শিশু আবির। পরে পরিবারের লোকজন খুঁজে না পেয়ে ওই ডোবায় দুধের ফিটারটি ভাসতে দেখে পানিতে খোঁজাখুঁজি করতে শুরু করে। পরে ডোবা থেকে আবিরের লাশ উদ্ধার করে।

শিমুল (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীর পাড় এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত শিমুল ওই এলাকার রুপ চাঁন সরকারের ছেলে। নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ আয়েশা বেগম জানান, দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টির সময় মাঝিনা নদীর পাড় এলাকার খালে বর্ষার পানিতে গোসল করতে ছিলো শিশু শিমুল। এসময় হঠাৎ করে শিমুল পানিতে তলিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন শিমুল উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

লেকে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে সামিন মাহাদী (১২) নামে ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার তারাব পৌরসভার গর্ন্ধবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। নিহত সামিন মাহাদী গর্ন্ধবপুর উত্তরপাড়া এলাকার শহীদ আলমের ছেলে। তার বাবা শহীদ আলম জানান, শনিবার ১২টার দিকে তার ছেলে স্থানীয় গর্ন্ধবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সামিন মাহাদী স্কুল ছুটির পর বাড়িতে আসে। দুপুর ১টার দিকে তার সহপাঠী সোহায়েম, নয়ন, ইমতিয়াজসহ কয়েজনের সঙ্গে বাড়ির সামনে লেকে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানায় সে পানিতে তলিয়ে যায়। দুপুর দেড়টার দিকে লেকের পানিতে মাহাদীর দেহ ভেসে উঠে। এসময় আশেপাশে লোকজন মাহাদীকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউএস বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ভুলতা এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে নাছিম (১২) নামে এক স্কুল ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নাছিম লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার টেলিপাড়া এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে। সে উপজেলার ভুলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণীর ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুরে ৫/৭ জন শিশু ভুলতা (দিঘী) পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় নাছিম পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তার সহপাঠী শিশুরা স্থানীয় লোকজনদের খবর দিলে তারা নাছিমের লাশ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে রূপগঞ্জে উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে মাদরাসা ও স্কুলের পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর