লক্ষ্মীপুর জেলাসহ রায়পুরে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ও প্রাণহানী। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে শহরে ‘লকডাউন’ কার্যকরে ১১ পয়েন্টে বাঁশ দিয়ে বেড়া (ব্যারিকেড) দিয়েছে পৌরসভার কাউন্সিরগন। বুধবার সকাল থেকে প্রশাসনের নির্দেশনায় শহরে রেডজোন ঘোষনার পর উপজেলার ১০ ইউপির সীমান্ত এলাকায় কঠোর লকডাউন কার্যকর হচ্ছে।
রায়পুর পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাটসহ কয়েকজন কাউন্সিলর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মেয়র বলেন, শহরের বাইরে ১১ পয়েন্টে বাঁশের বেড়া দিয়ে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সড়কগুলো হচ্ছে, উপজেলা পরিষদের পাশে টিএসসি মোড়, রায়পুর -চাঁদপুর সড়কের পৌরসভার শেষ সীমানা, পানপাড়া সড়কের লেংড়া বাজার মোড় ও দেওয়ান এলাকার মোড়, হায়দরগঞ্জ সড়কের খাজুরতলা মোড়, মীরগঞ্জ সড়কের তুলাতুলি মোড়, গাজিনগর সড়কের পোষ্ট অফিস মোড়, রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের মধুপুর এলাকা মোড়, পশ্চিম কাঞ্চনপুর শীবপুর এলাকার মোড়, কাপিলাতুলি সড়কের সহকারি পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পাশে দেনায়েতপুর এলাকা মোড়।
এদিকে- সকাল ৯টায় রায়পুর শহরের পানপাড়া সড়কের দেওয়ানজি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একদিকে বাঁশ দিয়ে আটকানো। যাতে একপ্রান্তের গাড়ি অন্যপ্রান্তে যেতে না পারে। তবে এক পাশে একটু ফাঁকা রাখা হয়েছে, সেখান দিয়ে জরুরি সেবার গাড়িগুলো ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।।। এছাড়া সব চেকপোস্টে অননুমোদিত প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ পায়ে হাঁটা মানুষদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। তবে যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউই প্রবেশ করতে পারছেন না।
রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, ‘পুলিশ সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনে কাজ করছে। কিন্তু লকডাউনের শুরু অনেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বাসার বাইরে বের হচ্ছেন। তাই লকডাউন কার্যকর করতে জনপ্রতিনিদের সাথে নিয়ে শহরের ১১ পয়েন্টে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। এতে কেউ চাইলেই হুট করে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না।’
তিনি আরো বলেন, বুধবার (২৯ জুলাই) উপজেলা মাসিক আইনশৃংখলা ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘প্রতিটি বেড়ার সামনেই জনপ্রতিনিধিদের চেকপোস্ট রয়েছে। এতে শুধু অনুমোদিত গাড়ি ছাড়া হচ্ছে। অন্যথায় অন্যদে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।’
রায়পুরের ইউএনও সাবরীন চৌধুরী বলেন, মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসন রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করছে, তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না তা বোধগম্য না।।
উল্লেখ্য-রায়পুরে গত ২৪ ঘন্টায় (বৃহস্পতিবার পর্যন্ত) ৩০ জন আক্রান্ত হয়। এপর্যন্ত মৃত্যু ৫ জন। সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগিদের জন্য ২০ বেড বরাদ্ধ থাকলেও ভর্তি আছেন ২০ জনই। আরো কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন।






















