০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

করোনা রোগীকে বাঁচাতে ছুটে চলেছেন “অক্সিজেন কন্যা” রিয়া

করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রচন্ড শাসকষ্টে ছটফট করছেন নয়াটোলা মহল্লার এক রোগী। মুঠোফোনে কল পেয়েছেন অক্সিজেন কন্যা। মুহূর্তের মধ্যে শরীরে পিপিই, গøাভস ও মাস্ক পরে সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন। টিম লিডার সামিউল আলীম বাইকে স্টার্ট দেন। বাইকের পিছনে বসে দু‘হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার চেপে ধরে ছুটে চলেছেন রোগীর বাড়ির দিকে। রোগীর বাড়িতে পৌঁছে যান অক্সিজেন কন্যা। করোনা রোগীর মুখে নিজের ভীতিহীন হাতে অক্সিজেন লাগিয়ে দেন। রোগী শান্তির নিঃশ^াস নেন। আর এ দৃশ্য দেখে আত্মতৃপ্তির নিঃশ^াস নেন অক্সিজেন কন্যা নিজেও। এই অক্সিজেন কন্যার পুরো নাম খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া। বয়স উনিশ। গত এইচএসসি পরীক্ষায় সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। নীলফামারীর সৈয়দপুরের কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবাদানকারি সে¦চ্ছাসেবী সংগঠন “সংযোগ সৈয়দপুর” এর একজন অকুতোভয় স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যমত নারী সদস্য রিয়া। সারাদেশে সচেতন মানুষের নিকট করোনাভাইরাস যখন ভয়ের কারণ ঠিক তখনও করোনা রোগীর জীবন বাঁচাতে বুকে অদম্য সাহস ও আত্মবিশ^াস নিয়ে ছুটে চলেছেন অক্সিজেন কন্যা রিয়া। আর তাকে সামনে এগিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন “সংযোগ সৈয়দপুর” এর উপদেষ্টা এম. আর আলম ঝন্টু, সংগঠনটির আহŸায়ক ইরফান আলম ইকু ও দলনেতা সামীউল আলীম। আর এ মহৎ কাজে সবসময় পাশে থাকছেন সদস্য সচিব নওশাদ আনসারী, সদস্য এইচএম ফেরদৌস ও আরএইচ তপু‘র মত মানবিক কর্মীরা। এই সংগঠনের সদস্যরা ইতোমধ্যে করোনা রোগীকে অক্সিজেন সেবা দেয়ার প্রাথমিক প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। আর এ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ও সংগঠনটির স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মো. আরমান হোসেন রনি। রোগীর শরীরে অক্সিজেনের পরিমান নির্ণয়ে অক্সিমিটার ব্যবহার, রোগীর মুখে অক্সিজেন লাগানোর জন্য ফ্লো মিটার, অক্সিজেন মাস্ক ও ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহারের কৌশল রপ্ত করেছেন রিয়া। ফলে মুমুর্ষু রোগীকে সামান্য সময়ের মধ্যে অক্সিজেন সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন রিয়া। আর তার বিদ্যুৎ গতির কাজ দেখে এলাকার অক্সিজেন সেবাগ্রহীতা ও সংগঠনের সদস্যরা তাকে “অক্সিজেন কন্যা” উপাধি দিয়েছেন।

গত ১৯ জুলাই “সংযোগ সৈয়দপুর” ও শিল্প পরিবার ইকু গ্রæপ যৌথভাবে সৈয়দপুরে করোনা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবাদানের ব্রত নিয়ে জন্য গড়ে তুলেছেন একটি অক্সিজেন ব্যাংক। এই সংগঠনে রয়েছেন প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী। যাদের অধিকাংশই হচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। সংগঠনটির সদস্য সচিব নওশাদ আনসারী বলেন, ‘আমাদের এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে রিয়া একজন অত্যন্ত সাহসী ও আন্তরিক স্বেচ্ছাসেবী। করোনা মহামারিতে অনেক নারী যখন ভয়ে নিজেদেরকে ঘরে চারদেয়ালে বন্দি করে রেখেছেন, ঠিক সেসময় একজন নারী হিসেবে তিনি আমাদের টিমে একজন আইডল। তার অদম্য সাহস ও অসহায় মানুষের জীবন বাঁচাতে একজন মানবিক কর্মী হিসেবে তার স্পৃহা দেখেই আমরা তার নাম দিয়েছি- “অক্সিজেন কন্যা’। সংগঠনটির আহŸায়ক ইরফান আলম ইকু বলেন, ‘মহামারি করোনার মধ্যে সৈয়দপুরে অক্সিজেনের অভাবে কাউকে মরতে দেব না- এ কথাটি চিন্তা করেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। আমাদের এ সংগঠনে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। রোগীর পক্ষ থেকে মোবাইলে কল পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে আমাদের টিমের সদস্যরা সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। এ টিমে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী রাতদিন পরিশ্রম করছেন। প্রতিদিনই তারা করোনা রোগীর মুখোমুখি হচ্ছেন। আর এজন্য বাড়তি সতর্কতায় স্বেচ্ছাসেীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত পিপিই, গøাভস ও কেএন-৯৫ মাস্কসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন।’ কথা হল খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া‘র সাথে। দেশের এ ক্রান্তিকাল ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে একজন নারী হিসেবে মানবসেবায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মানবসেবা আমাকে আকৃষ্ট করত। সমাজের ভালো মানুষদের অনুসরণ করতাম। করোনা মহামারিতে অক্সিজেনের জন্য ছটফট করা মুমুর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবায় সম্পৃক্ত করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমাকে এ মহৎ কাজে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন আমার মা আর দৈনিক প্রথম আলো‘র সৈয়দপুর প্রতিনিধি এমআর আলম ঝন্টু। এছাড়া “সংযোগ সৈয়দপুর” টিমের একনিষ্ঠ সদস্যরা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :

ফাঁকিকৃত ৫৩২ কোটি টাকার আয়কর আদায় করলো আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট

করোনা রোগীকে বাঁচাতে ছুটে চলেছেন “অক্সিজেন কন্যা” রিয়া

প্রকাশিত : ০৮:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অগাস্ট ২০২১

করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রচন্ড শাসকষ্টে ছটফট করছেন নয়াটোলা মহল্লার এক রোগী। মুঠোফোনে কল পেয়েছেন অক্সিজেন কন্যা। মুহূর্তের মধ্যে শরীরে পিপিই, গøাভস ও মাস্ক পরে সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন। টিম লিডার সামিউল আলীম বাইকে স্টার্ট দেন। বাইকের পিছনে বসে দু‘হাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার চেপে ধরে ছুটে চলেছেন রোগীর বাড়ির দিকে। রোগীর বাড়িতে পৌঁছে যান অক্সিজেন কন্যা। করোনা রোগীর মুখে নিজের ভীতিহীন হাতে অক্সিজেন লাগিয়ে দেন। রোগী শান্তির নিঃশ^াস নেন। আর এ দৃশ্য দেখে আত্মতৃপ্তির নিঃশ^াস নেন অক্সিজেন কন্যা নিজেও। এই অক্সিজেন কন্যার পুরো নাম খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া। বয়স উনিশ। গত এইচএসসি পরীক্ষায় সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। নীলফামারীর সৈয়দপুরের কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবাদানকারি সে¦চ্ছাসেবী সংগঠন “সংযোগ সৈয়দপুর” এর একজন অকুতোভয় স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যমত নারী সদস্য রিয়া। সারাদেশে সচেতন মানুষের নিকট করোনাভাইরাস যখন ভয়ের কারণ ঠিক তখনও করোনা রোগীর জীবন বাঁচাতে বুকে অদম্য সাহস ও আত্মবিশ^াস নিয়ে ছুটে চলেছেন অক্সিজেন কন্যা রিয়া। আর তাকে সামনে এগিয়ে যেতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন “সংযোগ সৈয়দপুর” এর উপদেষ্টা এম. আর আলম ঝন্টু, সংগঠনটির আহŸায়ক ইরফান আলম ইকু ও দলনেতা সামীউল আলীম। আর এ মহৎ কাজে সবসময় পাশে থাকছেন সদস্য সচিব নওশাদ আনসারী, সদস্য এইচএম ফেরদৌস ও আরএইচ তপু‘র মত মানবিক কর্মীরা। এই সংগঠনের সদস্যরা ইতোমধ্যে করোনা রোগীকে অক্সিজেন সেবা দেয়ার প্রাথমিক প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। আর এ গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার ও সংগঠনটির স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মো. আরমান হোসেন রনি। রোগীর শরীরে অক্সিজেনের পরিমান নির্ণয়ে অক্সিমিটার ব্যবহার, রোগীর মুখে অক্সিজেন লাগানোর জন্য ফ্লো মিটার, অক্সিজেন মাস্ক ও ন্যাজাল ক্যানুলা ব্যবহারের কৌশল রপ্ত করেছেন রিয়া। ফলে মুমুর্ষু রোগীকে সামান্য সময়ের মধ্যে অক্সিজেন সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন রিয়া। আর তার বিদ্যুৎ গতির কাজ দেখে এলাকার অক্সিজেন সেবাগ্রহীতা ও সংগঠনের সদস্যরা তাকে “অক্সিজেন কন্যা” উপাধি দিয়েছেন।

গত ১৯ জুলাই “সংযোগ সৈয়দপুর” ও শিল্প পরিবার ইকু গ্রæপ যৌথভাবে সৈয়দপুরে করোনা রোগীদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবাদানের ব্রত নিয়ে জন্য গড়ে তুলেছেন একটি অক্সিজেন ব্যাংক। এই সংগঠনে রয়েছেন প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী। যাদের অধিকাংশই হচ্ছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। সংগঠনটির সদস্য সচিব নওশাদ আনসারী বলেন, ‘আমাদের এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে রিয়া একজন অত্যন্ত সাহসী ও আন্তরিক স্বেচ্ছাসেবী। করোনা মহামারিতে অনেক নারী যখন ভয়ে নিজেদেরকে ঘরে চারদেয়ালে বন্দি করে রেখেছেন, ঠিক সেসময় একজন নারী হিসেবে তিনি আমাদের টিমে একজন আইডল। তার অদম্য সাহস ও অসহায় মানুষের জীবন বাঁচাতে একজন মানবিক কর্মী হিসেবে তার স্পৃহা দেখেই আমরা তার নাম দিয়েছি- “অক্সিজেন কন্যা’। সংগঠনটির আহŸায়ক ইরফান আলম ইকু বলেন, ‘মহামারি করোনার মধ্যে সৈয়দপুরে অক্সিজেনের অভাবে কাউকে মরতে দেব না- এ কথাটি চিন্তা করেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। আমাদের এ সংগঠনে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। রোগীর পক্ষ থেকে মোবাইলে কল পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে আমাদের টিমের সদস্যরা সেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। এ টিমে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী রাতদিন পরিশ্রম করছেন। প্রতিদিনই তারা করোনা রোগীর মুখোমুখি হচ্ছেন। আর এজন্য বাড়তি সতর্কতায় স্বেচ্ছাসেীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত পিপিই, গøাভস ও কেএন-৯৫ মাস্কসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন।’ কথা হল খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া‘র সাথে। দেশের এ ক্রান্তিকাল ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে একজন নারী হিসেবে মানবসেবায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মানবসেবা আমাকে আকৃষ্ট করত। সমাজের ভালো মানুষদের অনুসরণ করতাম। করোনা মহামারিতে অক্সিজেনের জন্য ছটফট করা মুমুর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবসেবায় সম্পৃক্ত করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করছি। আমাকে এ মহৎ কাজে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন আমার মা আর দৈনিক প্রথম আলো‘র সৈয়দপুর প্রতিনিধি এমআর আলম ঝন্টু। এছাড়া “সংযোগ সৈয়দপুর” টিমের একনিষ্ঠ সদস্যরা আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর