সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশেও ১৯৯২ সাল থেকে প্রতিবছর ১-৭ আগষ্ট বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে এবং ২০১০ সাল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ জাতীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থা এর সহযোগীতায় বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ সফলভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। মাতৃ ও শিশু পুষ্টি বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১৪ সালে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদ্বোধন করেন ও বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ বছর ২ আগস্ট, ২০২১ বেলা ১১.০০ টায় অনলাইনে আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২১ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক, এমপি; সভাপতিত্ব করেন জনাব লোকমান হোসেন, মিয়া, সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সম্মানিত সচিব জনাব মো. আলী নূর; সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য), জনাব সৈয়দ মজিবুল হক; সম্মানিত অতিথি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ; সম্মানিত অতিথি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনাব সাহান আরা বানু, এনডিসি এবং সম্মানিত অতিথি জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, জনাব অধ্যাপক ডা: নাসির উদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, লাইন ডাইরেক্টর, জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২১ এর প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাইন্টিস্ট অধ্যাপক ডা. এস কে রায়।
বিশ্বব্যাপী World Alliance for Breastfeeding Action (WABA) কর্তৃক এই বছর বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছেঃ “Protect Breastfeeding, A shared Responsibility” অর্থাৎ, “মাতৃদুগ্ধ দান সুরক্ষায়ঃ সকলের সম্মিলিত দায়”।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২১ এর উদ্দেশ্য
১. মায়ের দুধ খাওয়ানোর সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সকলকে অবহিত করা
২. মায়ের দুধ খাওয়ানোকে জনস্বাস্থ্য সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা
৩. সর্বোচ্চ সফলতার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা
আজ শোকের মাসে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেছেন সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাননীয় মন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক, এমপি তার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন যে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, জন্মের ১ ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ালে মৃত্যুর হার শতকরা ৩১ ভাগ কমে যায়। আর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ালে (এক ফোঁটা পানিও নয়) শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি আরো ১৩% কমে যায়। তাই শিশুর মুত্যুহার রোধে এবং শারিরীক ও মানসিক বিকাশে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। মাতৃদুগ্ধ দানে মা ও শিশু উভয়েই উপকৃত হন। ঘরে বাইরে সব জায়গায় মায়ের দুধ দানের সুরক্ষায় আমাদের দেশে বিভিন্ন শিল্প কারখানায়, হাসপাতাল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার তৈরি করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও নির্দেশনা রয়েছে। এখনো সব জায়গায় হয়নি, সব জায়গাতে যেন করা হয়ে সেই চেষ্টা করতে হবে। সেই সাথে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য কোম্পানিসমূহের ডিজিটাল বাজারজাতকরণ কৌশল চিহ্নিতকরণ ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। World Breastfeeding Trends Initiative (WBTi) ২০২০ সালের Infant & Young Child Feeding (IYCF) বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যক্রমের Tracking, Assessing & Monitoring মূল্যায়ন পূর্বক (Assessment) অনুযায়ী বিশ্বব্যপী ৯৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১ম স্থান অর্জন করেছে এবং মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য আইন টি ১ম শ্রেনীর আইন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি খুবই আনন্দের। করোনায় আক্রান্ত মাও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মুখে মাস্ক পরিধান করে শিশুকে মায়ের দুধ দিতে পারবেন। সবশেষে মাতৃদুগ্ধ দানের সুরক্ষায় সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২১ উপলক্ষ্যে জাতীয় পুষ্টি সেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন সারাদেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে যা মাসব্যাপী পালিত হবে।

















