১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যরাতে অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে নিয়ে প্রশংসায় ওসি হানিফ

মধ্যরাতে শ্বাসকষ্টে ভোগা এক নারীকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন মানিকগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ সরকার।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) রাতে মানিকগঞ্জ শহরের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার নামে এক নারী ফেসবুকে তার বিপদে ওসি’র সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মানিকগঞ্জ-১৮০০ নামে ফেসবুক গ্রæপে একটি পোস্ট দেন। এরপর থেকেই পোস্টটি ভাইরাল হয়। এমন মহৎ কাজের জন্য সবাই ওসি হানিফের প্রশংসা করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।

নার্গিস আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে আমার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য আমি ও আমার স্বামী বাসা থেকে বের হই। কিন্তু রাস্তায় কোনো যানবাহন না থাকায় মনে হচ্ছিল আমার আর বুঝি বাঁচা হবে না। এমন সময় ডিবি পুলিশের ওসি হানিফ সরকার ডিউটি শেষ করে ফিরছিলেন। বাসার নিচে আমাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনা শুনে দ্রæত আমাদেরকে তার গাড়িতে করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানায় আমার দ্রæত অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয় তাদের কাছে অক্সিজেন নেই। এরপর আমাদের নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ক্লিনিকে ঘুরেন হানিফ সরকার। কিন্তু কোথাও অক্সিজেন মিলছিল না। রাত যতই বাড়ছিল আমার শরীর ততই খারাপ হচ্ছিল।

পরে ওসি হানিফ সরকার মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অক্সিজেনের জন্য নিজের পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলে তারা রাজি হন। ভর্তি হবার পর আমাকে অক্সিজেন দেয়া হলে আধাঘণ্টা পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি। চিকিৎসক জানায় এজমার কারণে আমার এমন শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে রাত ২ টার দিকে তিনি আমাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেন।

নারগিস আক্তার বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমত আর হানিফ ভাইয়ের চেষ্টায় আমি বেঁচে গেছি। মধ্যরাতে তিনি পাশে এসে না দাঁড়ালে হয়তো আমি বাঁচতাম না।

মানিকগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হানিফ সরকার বলেন, মধ্যরাতে ওই নারী ও তার স্বামীর অসহায়ত্ব দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজের গাড়িতে করেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। অক্সিজেনের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরার পর মুন্নু মেডিকেল হাসপাতালে যোগাযোগ করে তাকে অক্সিজেন দেবার ব্যবস্থা করা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে রিলিজ করে দিলে পুনরায় বাসায় পৌঁছে দিই।

একজন মানুষ হিসাবে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ তাকে সুস্থ করে তুলেছেন এ জন্য শুকরিয়া জানাচ্ছি। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সবসময়ই মানুষের সুখ দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে বলে জানান ওসি হানিফ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটির বিরোধে ধাক্কাধাক্কিতে, সভাপতি মৃত্যু!

মধ্যরাতে অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে নিয়ে প্রশংসায় ওসি হানিফ

প্রকাশিত : ০৫:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অগাস্ট ২০২১

মধ্যরাতে শ্বাসকষ্টে ভোগা এক নারীকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন মানিকগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হানিফ সরকার।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) রাতে মানিকগঞ্জ শহরের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার নামে এক নারী ফেসবুকে তার বিপদে ওসি’র সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মানিকগঞ্জ-১৮০০ নামে ফেসবুক গ্রæপে একটি পোস্ট দেন। এরপর থেকেই পোস্টটি ভাইরাল হয়। এমন মহৎ কাজের জন্য সবাই ওসি হানিফের প্রশংসা করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।

নার্গিস আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে আমার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য আমি ও আমার স্বামী বাসা থেকে বের হই। কিন্তু রাস্তায় কোনো যানবাহন না থাকায় মনে হচ্ছিল আমার আর বুঝি বাঁচা হবে না। এমন সময় ডিবি পুলিশের ওসি হানিফ সরকার ডিউটি শেষ করে ফিরছিলেন। বাসার নিচে আমাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন।

তিনি আরো জানান, ঘটনা শুনে দ্রæত আমাদেরকে তার গাড়িতে করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানায় আমার দ্রæত অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয় তাদের কাছে অক্সিজেন নেই। এরপর আমাদের নিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে ক্লিনিকে ঘুরেন হানিফ সরকার। কিন্তু কোথাও অক্সিজেন মিলছিল না। রাত যতই বাড়ছিল আমার শরীর ততই খারাপ হচ্ছিল।

পরে ওসি হানিফ সরকার মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অক্সিজেনের জন্য নিজের পরিচয় দিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করলে তারা রাজি হন। ভর্তি হবার পর আমাকে অক্সিজেন দেয়া হলে আধাঘণ্টা পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি। চিকিৎসক জানায় এজমার কারণে আমার এমন শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে রাত ২ টার দিকে তিনি আমাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেন।

নারগিস আক্তার বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমত আর হানিফ ভাইয়ের চেষ্টায় আমি বেঁচে গেছি। মধ্যরাতে তিনি পাশে এসে না দাঁড়ালে হয়তো আমি বাঁচতাম না।

মানিকগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হানিফ সরকার বলেন, মধ্যরাতে ওই নারী ও তার স্বামীর অসহায়ত্ব দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজের গাড়িতে করেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। অক্সিজেনের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরার পর মুন্নু মেডিকেল হাসপাতালে যোগাযোগ করে তাকে অক্সিজেন দেবার ব্যবস্থা করা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে রিলিজ করে দিলে পুনরায় বাসায় পৌঁছে দিই।

একজন মানুষ হিসাবে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। আল্লাহ তাকে সুস্থ করে তুলেছেন এ জন্য শুকরিয়া জানাচ্ছি। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সবসময়ই মানুষের সুখ দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে বলে জানান ওসি হানিফ।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ