পঞ্চগড়ের দুইটি পৌরসভাসহ ৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদে এক যোগে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টায়। এদিন প্রতি ইউনিয়নে ৬০০ জনকে টিকা দেবার ঘোষণা ছিলো। সেই আলোকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদেও যথা সময়ে শুরু হয় টিকাদান। শুরু থেকেই এখানে ছিলো দীর্ঘ লাইন। ৬০০ জনের টিকা বরাদ্দ থাকলে ১০-১১টার দিকে ভিড় হয় সহস্রাধিক মানুষের। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে থেকেও টিকা না নিয়েই বাড়ি ফিরেছেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে এই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের পৃথক লাইন। প্রত্যেক লাইনে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। ছিলোনা কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই। মুখে মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্বের নিয়মনীতি দেখা যায়নি। আর বরাদ্দকৃত ৬০০ টিকার আর বাকী ছিলো মাত্র ৯০টি।
এমন খবরে টিকা না নিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন আফিয়া বেগম (৭০)। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়ে ছিলাম। সামনে এখনো প্রায় ৫০ জন আছে। শুনলাম টিকা শেষের দিকে তাই চলে যাচ্ছি।
দীর্ঘ লাইন আর স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত দেখে লাইনেই দাড়াননি টিকা নিতে আসা হাসিবুল ইসলাম।
টিকা নিতে আসা কুলছুম বেগম বলেন, ১০টার দিকে এসে লাইনে দাগিয়েছি এখন বলতেছে হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে। একই কথা বলেন মর্জিনা বেগম।
ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য কর্মী আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘৩টা বুথে ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছে। এদেরকে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও রেডক্রিসেন্ট সদস্যরা সহযোগিতা করছে। বরাদ্দের চেয়ে মানুুষ বেশি হলে আমাদের কিছু করার নেই।
হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মূসা কলিমুল্লাহ বলেন, আজকে শুধু ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের লোকজনকে টিকা দেয়ার ঘোষণা ছিলো। কিন্তু সব ওয়ার্ডের মানুুষ আসায় ভিড় বেড়েছে। তাদেরকে সামাজিক দুরত্বের ব্যাপারে বারবার বলা হলেও কেউ মানছেনা।
তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে ৬০০ জনের টিকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর বেশি হলে অন্যদের টিকা ছাড়াই চলে যেতে হবে। তবে যারা এখানে টিকা পাবেনা তারা সদর হাসপাতালে গিয়ে নিতে পারবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















