নেপালের কাঠমাণ্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুল নির্দেশনার কারণেই বিধ্বস্ত হয়েছে বিএস-২২১ ফ্লাইটটি- এমনটাই সন্দেহ করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
সোমবার রাজধানীর বারিধারায় নিজেদের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স-এর মুখপাত্র জানান, ‘আমাদের কাছে যে ইনফরমেশন এসেছে, এটা আপনারা ইউটিউবে গেলেই পাবেন। ইউটিউবে একটা এটিসি কনভার্সেশনের ক্লিপ এসেছে। আমাদের পাইলটদের সঙ্গে নেপালের কাঠমাণ্ডুর এটিসি টাওয়ারের সঙ্গে ল্যান্ডিংয়ের আগের একটি কনভার্সেশন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শুনলে বুঝবেন, এখানে টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কমিউনিকেশনে এটিসির পক্ষ থেকে একটা ভুল বার্তা দেয়ার, গাফেলতি হওয়ার টেন্ডেন্সি দেখা যাচ্ছে। আমরা এটাকে ইনভেস্টিগেট করছি।’
‘আমরা সন্দেহ করছি যে কাঠমাণ্ডু এটিসি টাওয়ারের পক্ষ থেকে গাফিলতি ছিলো। তারা আমাদের পাইলটদেরকে ভুল বার্তা দেয়। সেকারণেই এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে,’ বলে দাবি করেন তিনি।
‘তাদের কথা হচ্ছিলো পাইলট রানওয়ের কোন দিক দিয়ে ল্যান্ড করবেন। ৩ মিনিটের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে আমাদের পাইলটকে বিভিন্ন বার্তা দেয়া হয়েছে। এই বার্তার কনফিউশনের জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছি আমরা,’ বলেন তিনি।
বিমানটিতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিলো কিনা- এই প্রশ্নের উত্তরে ইউএস বাংলার মুখপাত্র জানান, ‘অবশ্যই না। এই বিমানটির বয়স ১৬ বছর। এই মডেলের চারটি বিমান আছে আমাদের। ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান কিন্তু জীবিত আছেন। তিনি এক্স-এয়ারফোর্সের একজন পাইলট। তার ফ্লাইং আওয়ার পাঁচ হাজারের বেশি। এই এয়ারক্র্যাফ্টে উনি ১৭০০ ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করেছেন। উনি এই এয়ারক্র্যাফ্টের একজন ইন্সট্রাক্টর। এটিসি কনভার্সেশন শোনার পর আমাদের মনে হচ্ছে না, যে আমাদের বৈমানিকদের দিক থেকে কোনো গাফিলতি ছিলো।’
ইউএস বাংলার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ২০১৫ সালে এই একই বিমানের আরও একবার দুর্ঘটনার মুখে পড়ার পরও এটিকে নিয়মিতভাবে আকাশে ওড়ানোর।
ইউএস বাংলার মুখপাত্র জানান, এটি সেই বিমানটি নয়। এটি একই মডেলের হলেও ভিন্ন একটি উড়োজাহাজ।
সোমবার দুপুরে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলার বিমানটি কাঠমাণ্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী।


























