গাজীপুরের কালীগঞ্জে মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ট কালীগঞ্জ পৌরবাসী। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। সারাদেশে ডেঙ্গুর যে ভয়ানক প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে এখনই যদি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তাহলে অতি শীঘ্রই জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার বাজারসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের গ্রামগুলো অত্যন্ত নোংরা আবর্জনায় ভরে আছে। বাজারের ভিতরের উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনা পরিপূর্নভাবে পরিষ্কার না করে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। যেখনে সেখানে ডাবের খোসা ও প্লাস্টিকের খালি বোতলের ছড়াছড়ি। পরিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই ময়লা পানি জমা হচ্ছে। খুদ কালীগঞ্জ পৌর ভবনের পিছনেই জমে আছে বৃষ্টির পানি। যাতে এই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু বাহিত মশার লার্ভা থেকে জন্ম নিচ্ছে অগণিত মশা। অন্যদিকে, মশার যন্ত্রনা থেকে সন্ধ্যার পরে বাসা বাড়িতে মশা নিয়ন্ত্রনের জন্য কয়েল ব্যবহার করলেও তা স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।
পৌরসভা থেকে নিয়ম করে প্রতিদিন বর্জ্য পরিচ্ছন্ন এবং পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও তাতে আন্তরিকতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। পৌর এলাকার বাস-স্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়ক এবং বাজারের অভ্যন্তর থেকে ময়লা আবর্জনা ভ্যানে করে নিয়ে গেলেও উচ্ছিষ্ট ও প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিনষ্টকারী নানান দ্রব্য পড়ে থাকে যা মশার বংশ বিস্তারের জন্য সহায়ক।
সম্প্রতি কালীগঞ্জ পৌরসভায় উপজেলার পরিষদ থেকে একটি ফগার মেশিন আসে। আর আগের ছির দু’টি। এই তিনটি ফগার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ম করে মশক নিধনে ধোঁয়া দিলেও কার্যত এর কোন সুফল পাচ্ছেনা পৌরবাসী। পুরো পৌর এলাকার জন্য এই তিনটি মেশিন যথেষ্ট নয় বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। তিনটি মেশিন দিয়ে শুধুমাত্র প্রধান সড়কের আশপাশে দেওয়া হচ্ছে ধোয়া। কিন্তু যারা একটু ভিতরের দিকে থাকছেন তারা এই সেবা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। তাই এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের ভাদার্ত্তী গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী সারাদিন ব্যবসার কাজ শেষ করে বাড়ীতে আসেন সন্ধ্যায়। কিন্তু বাড়িয়ে এসে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা থেকেই মলারী খাটিয়ে বসে বিশ্রাম নিতে হয়। তানাহলে মশার যন্ত্রায় বসা কঠিন হয়ে যায়। তবে তিনি মনে করেন কালীগঞ্জ পৌরসভার যে তিনটি মশা মরার ফগার মেশিন রয়েছে তা যথেষ্ট হয়। পৌরবাসীকে মশার যন্ত্রনা থেকে রক্ষা রতে অনতিবিলম্বে আরো কয়েকটি ফগার মেশিন আনা দরকার।
পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের বালীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হক জানান, প্রতিদিন মশার যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে কয়েল ব্যবহার করছেন। তবে তিনি এই কয়েল ব্যবহারকে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি বরে মনে করছেন। এ জন্য তিনি সন্ধ্যায় থেকে অনেক সময় মশারী খাটিয়ে রাখেন।
৭নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাদি জানান, রুটিন করে সপ্তাহে বা মাসে ১/২ দিন না।স্থানীয়ভাবে যে মশার উপদ্রুপ রয়েছে তাতে করে অন্তত্য প্রতিদিনই এই ফগার মেশিন দিয়ে মশার ঔষধ দেওয়া দরকার। তা নাহলে মশার উপদ্রুপ থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হবে।
আব্দুল হাদি আরো জানান, সপ্তাহে গড়ে ১দিন ফগার মেশিনের ব্যবহার হচ্ছে একেক এলাকায়। যে কারণে মশার বংশবিস্তার রোধে কোন ভূমিকা রাখতে পারছেনা এই যন্ত্র।শুধুমাত্র পৌর সদর এলাকায় গার্ভেজ ভ্যন এর ব্যবস্থা রয়েছে।বাকি ওয়ার্ডগুলো এই সুবিধার বাইরে। যে কারণে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে ডেঙ্গু রোগবাহী মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে খুবই দ্রুত গতিতে। এ ব্যাপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশরাফউজ্জামান বলেন, আমাদের পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ড। আর এই ৯টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ৩টি ফগার মেশিন। যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। পৌরসভায় মেশিন আসার পরে মাত্র ২দিন আমার এলাকায় আমি ব্যবহার করতে পেরেছি। যে কারণে ওই ওয়ার্ডের মানুষ এর উপকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই অভিমত ব্যক্ত করেন পৌলসভার ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আমিরুন্নেছা।
কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এসএম রবীন হোসেন বলেন, পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত তিনটি ফগার মেশিনের সুবিধা পেয়েছে। যদিও এটি পর্যাপ্ত নয় কিন্তু তবে ধীরে ধীরে এই অবস্থার উন্নতি হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
মেয়র বলেন, আমাদের বেশ কিছু টিম পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, আবর্জনা ও পয়ঃনিষ্কাশন কাজে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। নিয়ম করে প্রতিদিন ফগার মেশিন দিয়ে ধোয়াও দেওয়া হচ্ছে। এই মেশিনের সুফল পেতে হলে সাধারণ জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে। নিজের আঙ্গিনা অপরিচ্ছন্ন রেখে শুধু ফগার মেশিনের জন্য বসে থাকলেও চলবেনা। পৌরসভার সেবার মান পর্যায়ক্রমে আরো বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শিবলী সাদিক বলেন, পৌরসভার জন্য তিনটি ফগার মেশিন কোনভাবেই যথেষ্ট নয়। এ দিয়ে পুরো পৌরসভার প্রয়োজন কোন ভাবেই পূরণ হবে না। খুব দ্রুত আরো কিছু মেশিনের ব্যবস্থা হবে। উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি বিষয়ের উপর খেয়াল রাখছে। যেহেতু আমাদের চাহিদার তুলনায় যোগান কম তাই যা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও উচিত নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। যেহেতু এখন বর্ষাকাল তাই আমাদের চারপাশের জমে থাকা পানি আমাদের নিজেদের আগে পরিষ্কার করতে হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ






















