চট্টগ্রামে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২০টি সোনার বার ডাকারি মামলার আলোচিত-সমালোচিত স¤প্রতি প্রত্যহারকৃত ফেনী ডিবির ওসি সাইফুল ইসলাম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউপির লুদিয়ারা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন চাউল ব্যবসায়ী। মাতা কুুসুম বেগম একজন গৃহীনি। সাইফুল ইসলাম ছাত্র জীবন থেকে অত্যান্ত মেধাবী, সৎ ও চৌকস ছিলেন। বৃত্তি পেয়েছেন পঞ্চম শ্রেণীতে। পরিবারে দু’ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার বড়। ২০১১ সালে তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মারা যান। মাতা কুসুম বেগমকে নিয়ে বর্তমান ফেনীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে তার গ্রামে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চার পাশে টিনের ভেড়া গেরা একটি বাড়ি। ভিতরে ডুকতে প্রথমে দেখতে পাই আদা ভাঙা চুরা পুরাতন পরিত্যাক্ত টিনের একটি ঘর। এটি সাইফুলদের ঘর। এখানে কেউ থাকেন না। তার পাশে আদা পাঁকা একটি ঘর। ওঘরের একপাশে দুটি রুমে থাকেন তার ছোট চাচা তাজুল ইসলাম। আর বাঁকি রুমগুতে তালা মারা। তার বড় চাচা মাস্টার নজরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ঢাকা থাকেন। মেজু চাচা মনিরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম থাকেন। বিশেষ কোন কারণ ছাড়া তারা বাড়িতে আসেন না। পৌত্রিক সম্পত্তি বলতে তার পিতা বাড়িতে ৫ শতক ও নাল জমি ১৫ শতকের মালিক তারা। সে অনুযায়ী সাইফুলদের জায়গা জমিন এখনো ভাগ বাটোয়ারা হয়নি।
সাইফুলের ছোট ভাই সাইদুল ইসলাম পড়াশোনা শেষ করে স¤প্রতি ঢাকায় রবি কোম্পানিতে চাকরি করেন। বোনদের মধ্যে বড় জন লিনা বেগম গুণবতী স্বামীর বাড়িতে থাকেন, মেজু বোন লিজা স্বামী সংসার নিয়ে লন্ডনে রয়েছেন ও ছোট পপি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ে চাকরি। সেও স্বামী নিয়ে ঢাকায় থাকেন। বিশেষ কাজ ছাড়া তারা কেউ বাড়িতে আসেন না। বাড়িতে আসলেও তাকে মামাদের বাড়িতে।
এ বিষয় কথা হয় ওই গ্রামের মৃত. মফিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে তিনি জানান, সাইফুল ইসলাম একজন সৎ মানুষ। ব্যক্তিগত ভাবে আমি তাকে চিনি। ধন সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই নেই।
ওই গ্রামের মৃত. আজাদের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, সাইফুলরা বাড়িতে তেমন কোন আসেন না। তারা সবাই বাহিরে থাকেন। ধন সম্পত্তি তেমন কিছ্ ুনেই। বাড়িতে আসলে মামার বাড়িতে থাকেন।
তার গ্রামের পাতড্ডা বাজারে প্রায় ১০-১২ জন লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাইফুল একজন ভালো মানুষ। আমরা কোন তার কবরে যাবো না। তারা বাড়িতে থাকে না। এলাকায় ধন সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই নেই।
এ বিষয়ে ওই ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, সাইফুল আমার ওয়ার্ডের একজন ভোটার। আমার জানামতে সে অনেক ভালো। তারা কেউই বাড়িতে থাকেন না। ধন সম্পত্তি তেমন কিছুই নেই।
এ বিষয়ে বাতিসা ইউপি চেয়ারম্যান জি এম জাহিদ হোসেন টিপু বলেন, তার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। সে অনেক ভালো। ধন সম্পত্তি তেমন কিছু নেই।
অপরদিক নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, সাইফুল ইসলামের স্ত্রীর নামে ঢাকার গুলশানে একটি প্ল্যাট ও তার নামে কক্সবাজারে একটি প্ল্যাট রয়েছে।






















