০২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাবিতে অনিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগে পাঁয়তারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের-ঢাবি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মতান্ত্রিক ও অবাঞ্চিত প্রচেষ্টায় শিক্ষক নিয়োগের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীরা বলছেন, পরিচালকের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগদানের চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিয়োগ প্রত্যাশী বলেন, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে দুইটি প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সিন্ডিকেট সভার সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে এই দুই পদের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত/আবেদনপত্র আহ্বান করা হয় এবং আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিধিমোতাবেক ইনস্টিটিউটের কোঅর্ডিনেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি, ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভার সুপারিশ মোতাবেক পরিচালক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত নির্বাচন বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে বিজ্ঞাপিত পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা আকতার শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এজেন্ডা দিয়ে বিগত এক বছরের মধ্যে ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির কোনো সভা আহ্বান করেননি।

জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের পরিচালক দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আবেদনপত্র বাছাই করার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভা ডাকেন। এই কমিটির সভা ১৪ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করা হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় পত্রমারফত এবং ইমেইলে কমিটির সকলকে জানানো হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির ওই সভায় ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। আর একজন এসে অন্যদের না দেখে চলেও যান, যাকে মিটিং বলা যায় না। সভায় কোরাম না হওয়া সত্ত্বেও পরিচালক কেবলমাত্র একজন সদস্যকে নিয়ে দুজনে মিলে প্রায় ৪০টি আবেদনপত্র বাছাই করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনপত্রসহ সকল কাগজপত্রাদি জমা দেন। অথচ ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভায় কমপক্ষে ৩ জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনের অনুপস্থিতিতে মাত্র ২ জনে, বাস্তবে পরিচালক একাই প্রায় ৪০টি আবেদনপত্র বাছাই করেন। ফলে প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয় বলে অনেক শিক্ষকই মনে করেন। সর্বশেষ আগামী রবিবার সকাল ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট লেকচারার পদে নির্বাচনী বোর্ড সাক্ষাৎকারের জন্য প্রার্থীদের ডেকেছে। আবেদনকারীরা বলছেন, মুলত এর মাধ্যমে পরিচালকের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগদানের অপচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান বলেন, পোস্টটি এ্যাড হয়েছিলো ২০১৫ সালে। আমি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছি ২০১৬ সালে। এরপরেই শিক্ষক নিযোগে আমি একটা তারিখ দিয়েছিলাম। সে সময় কথা উঠেছিলো সমাজবিজ্ঞান অনুষদে যে শিক্ষক আছে তাতে শিক্ষক রপ্তানি করা যাবে। এরপর তারিখ পাওয়ার পরেও অজানা কারণে আর কিছু হয়নি। পরে পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করি। বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সদস্য হওয়ার পরও বিষয়টি জানতে পারিনি। যদি দুইজনেও সভা করেন তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটির বৈধ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়তো বিষয়টি জানে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম থেকেই আমাদেরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্তমান পরিচালক তাহমিনা আকতার বলেন, কোরাম বলে কোনো কথা নেই। তারপরও যদি আমি ধরি, ৬ জনের মধ্যে দুজনের উপস্থিতি মানে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছে। ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ সদস্য যাদের মেইল ও চিঠি দেয়া হয়েছে তাদের স্বাক্ষরিত কপিও আমাদের কাছে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কোন অভিযোগ থেকে থাকলে আমি নামে-বেনামে ভুক্তভোগীদের থেকে অভিযোগ আহবান করছি। কেউ যদি মনে করে নিয়োগটি ঠিকভাবে হচ্ছে না তবে অবশ্যই আমি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

ঢাবিতে অনিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগে পাঁয়তারা

প্রকাশিত : ০৪:০৯:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের-ঢাবি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মতান্ত্রিক ও অবাঞ্চিত প্রচেষ্টায় শিক্ষক নিয়োগের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীরা বলছেন, পরিচালকের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগদানের চেষ্টা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিয়োগ প্রত্যাশী বলেন, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সভায় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে দুইটি প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। সিন্ডিকেট সভার সুপারিশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে এই দুই পদের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত/আবেদনপত্র আহ্বান করা হয় এবং আবেদনপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিধিমোতাবেক ইনস্টিটিউটের কোঅর্ডিনেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটি, ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভার সুপারিশ মোতাবেক পরিচালক শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত নির্বাচন বোর্ডের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করে বিজ্ঞাপিত পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা আকতার শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এজেন্ডা দিয়ে বিগত এক বছরের মধ্যে ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির কোনো সভা আহ্বান করেননি।

জানা গেছে, ইনস্টিটিউটের পরিচালক দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আবেদনপত্র বাছাই করার জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভা ডাকেন। এই কমিটির সভা ১৪ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করা হলেও ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় পত্রমারফত এবং ইমেইলে কমিটির সকলকে জানানো হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির ওই সভায় ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। আর একজন এসে অন্যদের না দেখে চলেও যান, যাকে মিটিং বলা যায় না। সভায় কোরাম না হওয়া সত্ত্বেও পরিচালক কেবলমাত্র একজন সদস্যকে নিয়ে দুজনে মিলে প্রায় ৪০টি আবেদনপত্র বাছাই করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনপত্রসহ সকল কাগজপত্রাদি জমা দেন। অথচ ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সভায় কমপক্ষে ৩ জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হলেও ৬ সদস্যের মধ্যে ৪ জনের অনুপস্থিতিতে মাত্র ২ জনে, বাস্তবে পরিচালক একাই প্রায় ৪০টি আবেদনপত্র বাছাই করেন। ফলে প্রচলিত নিয়ম লঙ্ঘন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয় বলে অনেক শিক্ষকই মনে করেন। সর্বশেষ আগামী রবিবার সকাল ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট লেকচারার পদে নির্বাচনী বোর্ড সাক্ষাৎকারের জন্য প্রার্থীদের ডেকেছে। আবেদনকারীরা বলছেন, মুলত এর মাধ্যমে পরিচালকের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগদানের অপচেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান বলেন, পোস্টটি এ্যাড হয়েছিলো ২০১৫ সালে। আমি সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছি ২০১৬ সালে। এরপরেই শিক্ষক নিযোগে আমি একটা তারিখ দিয়েছিলাম। সে সময় কথা উঠেছিলো সমাজবিজ্ঞান অনুষদে যে শিক্ষক আছে তাতে শিক্ষক রপ্তানি করা যাবে। এরপর তারিখ পাওয়ার পরেও অজানা কারণে আর কিছু হয়নি। পরে পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করি। বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ কমিটির সদস্য হওয়ার পরও বিষয়টি জানতে পারিনি। যদি দুইজনেও সভা করেন তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটির বৈধ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়তো বিষয়টি জানে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম থেকেই আমাদেরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে বর্তমান পরিচালক তাহমিনা আকতার বলেন, কোরাম বলে কোনো কথা নেই। তারপরও যদি আমি ধরি, ৬ জনের মধ্যে দুজনের উপস্থিতি মানে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যথাযথ নিয়ম মেনে করা হয়েছে। ‘সি’ এন্ড ‘ডি’ সদস্য যাদের মেইল ও চিঠি দেয়া হয়েছে তাদের স্বাক্ষরিত কপিও আমাদের কাছে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কোন অভিযোগ থেকে থাকলে আমি নামে-বেনামে ভুক্তভোগীদের থেকে অভিযোগ আহবান করছি। কেউ যদি মনে করে নিয়োগটি ঠিকভাবে হচ্ছে না তবে অবশ্যই আমি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো।