গাজীপুরের কালীগঞ্জে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধার এক কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (২৯ আগস্ট) দুপুরে লাল মিয়া (৪০) নামে এক লম্পটকে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।
এর আগে তাকে শনিবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও এলাকা থেকে লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় একটি মামলা (নং ১০) দায়ের করেন।
রোববার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনিসুর রহমান।
আটককৃত লাল মিয়া উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের লেহাজ উদ্দিনের ছেলে।
ওসি জানান, লাল মিয়া ভুক্তভোগী ওই নারীকে বহুদিন ধরে উত্যক্ত ও অশ্লীল প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। শনিবার (২৮ আগস্ট) রাতে সে সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগীর রুমে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ওই নারীর চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। ভূক্তভোগীর চিৎকারে লম্পট লাল মিয়া তার পরিহিত লুঙ্গি রেখে পালিয়ে যায়। পরে ব্রাহ্মণগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ধর্ষণ চেষ্টার মামলা শেষে দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, লম্পট লাল মিয়া একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে বহুদিন ধরে রাস্তাঘাটে আমার পথ আটকিয়ে নানারকম কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে ভয়ভীতি দেখাতো। বেশ কিছুদিন ধরে বলছিল সে আমার অনেক বড় ক্ষতি করবে। আমি কিছুটা ভয়েই ছিলাম। আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আজ নেই। তাঁর সন্তান হিসেবে আমার অসহায়ত্ব বিবেচনা করে সরকার আমাকে এই আশ্রয়ণকেন্দ্রে একটি ঘর উপহার দেন। আর এই লম্পট লাল মিয়া আমার ঘরে ঢুকে আমাকে ধর্ষণের জন্য চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের সহযোগীতায় আমি রক্ষা পাই। আমি তার দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, লাল মিয়া সত্যিকার অর্থে একজন বখাটে ও খারাপ প্রকৃতির লোক। সে এর আগেও কয়েকবার অন্য একটি কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে ওই কিশোরী থানায় অভিযোগ করলে তাকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় সে জামিনে বের হলেও নিজেকে শুধরায়নি। পুনরায় আবার সে একই কাজ করল।




















