যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন রেল বাজার থেকে মাত্র ৩ মিনিটের রাস্তা কাটশেকরা গ্রাম। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় মোমিনুর রহমান নামে এক কৃষক জমিতে ফসলের পরিচর্যার কাজ করছেন। একই জমিতে সাথী ফসল হিসাবে বারো মাসী তরমুচ, নালিম চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি। প্রতি বিঘা জমিতে আয় করছেন লাখ টাকা।
তার সাথে ্একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ২ বিঘা জমিতে মাচা পদ্ধতিতে ছোট জাতের তরমুচ চাষ করে পুরুষ্কার প্রাপ্ত হন।
সম্প্রতি মহমারী করোনা, আর লকডাউনের কারনে উৎপাদিত ফসল সময়মত বিক্রি করতে না পারায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনি। তায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার জমির পরিমান কমিয়ে দেড় বিঘা জমিতে সাথী ফসল হিসাবে টমেটা, শশা, নালীম, তরমুচ চাষ শুরু করেছে। পালায় ঝুলছে কালো রঙের ছোট ছোট বøাকবেরী জাতের তরমুচ। তিনি আরো জানান আগামীতে ইৎপাদন হবে রবি, সাগরকিং, গ্রাউন্ড গোল্ড জাতের তরমুচ, যা উপরে কালো কাটলে ভিতরে টকটকে লাল আর হলুদ।
কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় তার দেখাদেখি অনেকে আগ্রহ হচ্ছে এ চাষে। এক বিঘা ১২ কাটা জমিতে কালো-হলুদ তরমুজ চাষে প্রথম ধাপে খরচ হয় লাখ টাকা। প্রথম পর্যাযে খরচ একটু বেশি হয়। কারন মাচা তৈরী করতে হয়। একবার মাচা তৈরী করলে তিন বার ব্যাবহারকরা করা যায়। তরমুজ গুলো সাধারণত তিন থেকে চার কেজি ওজন হয়। খরচ খরচা বাদে তিনগুন লাভ হয়েছিল বলে তিনি জানান। এসব তরমুচ প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তরমুজ বছরে তিবার ফলন পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ফলন হয় ১০০ থেকে ১২০ মণ।
অন্য জাতের তরমুজের মৌসুম শেষ হওয়ার পর মে থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত মাটির ঢিবি তৈরী করে পলিথিন দিয়ে এবং মাচা তৈরী করে কালো ও হলুদ জাতের তরমুজের চাষ করা যায়। মাত্র ৫৫- ৬০ দিনেই প্রতিটি তরমুজ প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত।এই জাতীয় তরমুজ বিক্রি করে বিঘা প্রতি জমিতে দুই মাসে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভাব।বেকার যুবকদের জন্য এটা একটা নতুন বার্তা।তারা এচাষে এগিয়ে এলে তাদের হতাশার দিন শেষ হবে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, বর্তমানে ধান, গম, পাট সহ অন্য ফসল চাষে ফলন ভালো হলেও কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছেনা। তাই কৃষি বিভাগ থেকে লাভজনক চাষের জন্য সব সময় উদ্ধ করা হয়। বর্তমানে শার্শার কৃষকরা এসব ফসলের পাশাপাশি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক ফসল চাষে ঝুকছেন। কালো-হলুদ তরমুজ, আর নালীম চাষে সফল হওয়ায় এর চাষ বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। বøাক বেবি ও হলুদ জাতের তরমুজ প্রথম চাষ হয় চুয়াডাঙ্গায়। এরপর জয়পুরহাট, মেহেরপুর ও ঢাকার ধামরাইয়ের চাষিরাও এ তরমুজ চাষ করেন। আর শার্শায় বøাক বস, জাতটি চাষ করা হচ্ছে।




















