০৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

জনবল সংকটের কারণে নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে অর্থাৎ একযুগ ১২ বছর আগে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখানো ৩১ শয্যার জনবল ও নেই।

৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বেলাব উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় ২.৫ লক্ষ মানুষের বসবাস। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে কেবল মাত্র একটি সরকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।বেলাব উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলার একাংশের মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। কিন্তু কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে অনেকেরই ফিরে যেতে হয় সেবা না নিয়েই।

২০০৯ সালে ১১ এপ্রিল বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করনের ফলক উন্মোচন করেন তৎকালীন এমপি,বর্তমার শিল্পমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।কিন্তু এখনও কাগজে-কলমে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে হাসপাতালটি। চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্টাফ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং অপারেশন থিয়েটার নেই,এক্স-রে থাকলেও অচলাবস্থায় পড়ে আছে জনবল সংকটে ব্যবহার হচ্ছে না। তাই চিকিৎসা নিতে সহজে কেউ এখানে আসতে চান না। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ২০ জনের বেশি রোগী কখনোই এখানে ভর্তি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
১৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। আবাসিক মেডিকেল অফিসার, গাইনি অ্যান্ড অবস, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্টসহ সবকটি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদই শূন্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
স্থানীয় সুবিধা বঞ্চিতরা জানান, হাসপাতালটিতে সেবার মান ভালো নয়।৫০ শয্যার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।
মেডিকেল অফিসার (আরএমও)ভারপ্রাপ্ত.ডা.শাহরিয়ার ইমরান বলেন,আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই,এক্স-রে মেশিন থাকা সত্বেও ব্যবহার করতে পারছিনা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায়। অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অসুবিধা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে নরসিংদী সদর কিংবা ভৈরব প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাতে হয় রোগীদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাশেদুল হাসান মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হয় দীর্ঘ ১২ বছর পূর্বে দেওয়া মেশিন ব্যবহার না করলে সে গুলোর মান ঠিক থাকে কি না। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি নয়। মোট জনবলের অর্ধেক পদ শূন্য বলে স্বীকার করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলে অতি শীঘ্রই ৫০ শয্যা বেডের প্রশসনিক অনুমোদন পেতে যাচ্ছি। যার ফলে ডাক্তার সহ সকল সমস্যা দূর হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য সেবার মান জনবলের স্বল্পতার কারণে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি চিকিৎসা সেবা দিতে। ৫০ শয্যা বেডের প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে যাচ্ছি অতি শীঘ্রই,ফলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার,নার্স, পরিচ্ছন্ন কর্মী সহ সকল সমস্যা দূর করতে সক্ষম হবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু

নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

প্রকাশিত : ০৭:৫০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২১

জনবল সংকটের কারণে নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে অর্থাৎ একযুগ ১২ বছর আগে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখানো ৩১ শয্যার জনবল ও নেই।

৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বেলাব উপজেলা। এ উপজেলায় প্রায় ২.৫ লক্ষ মানুষের বসবাস। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে কেবল মাত্র একটি সরকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।বেলাব উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুলিয়ারচর উপজেলার একাংশের মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। কিন্তু কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে অনেকেরই ফিরে যেতে হয় সেবা না নিয়েই।

২০০৯ সালে ১১ এপ্রিল বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করনের ফলক উন্মোচন করেন তৎকালীন এমপি,বর্তমার শিল্পমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন।কিন্তু এখনও কাগজে-কলমে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে হাসপাতালটি। চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্টাফ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং অপারেশন থিয়েটার নেই,এক্স-রে থাকলেও অচলাবস্থায় পড়ে আছে জনবল সংকটে ব্যবহার হচ্ছে না। তাই চিকিৎসা নিতে সহজে কেউ এখানে আসতে চান না। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ২০ জনের বেশি রোগী কখনোই এখানে ভর্তি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
১৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৫ জন চিকিৎসক দিয়েই চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। আবাসিক মেডিকেল অফিসার, গাইনি অ্যান্ড অবস, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্টসহ সবকটি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদই শূন্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
স্থানীয় সুবিধা বঞ্চিতরা জানান, হাসপাতালটিতে সেবার মান ভালো নয়।৫০ শয্যার কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে কাঙ্খিত সেবা পাওয়া সম্ভব হবে।
মেডিকেল অফিসার (আরএমও)ভারপ্রাপ্ত.ডা.শাহরিয়ার ইমরান বলেন,আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই,এক্স-রে মেশিন থাকা সত্বেও ব্যবহার করতে পারছিনা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায়। অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের চিকিৎসা দিতে অসুবিধা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে নরসিংদী সদর কিংবা ভৈরব প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাতে হয় রোগীদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাশেদুল হাসান মাহমুদের কাছে জানতে চাওয়া হয় দীর্ঘ ১২ বছর পূর্বে দেওয়া মেশিন ব্যবহার না করলে সে গুলোর মান ঠিক থাকে কি না। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি নয়। মোট জনবলের অর্ধেক পদ শূন্য বলে স্বীকার করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলে অতি শীঘ্রই ৫০ শয্যা বেডের প্রশসনিক অনুমোদন পেতে যাচ্ছি। যার ফলে ডাক্তার সহ সকল সমস্যা দূর হবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য সেবার মান জনবলের স্বল্পতার কারণে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি চিকিৎসা সেবা দিতে। ৫০ শয্যা বেডের প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে যাচ্ছি অতি শীঘ্রই,ফলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার,নার্স, পরিচ্ছন্ন কর্মী সহ সকল সমস্যা দূর করতে সক্ষম হবো।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ