০৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিমান দুর্ঘটনায় আহত: দেশে আনা হচ্ছে ৪ জনকে

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজনকে দেশে আনা হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য একজনকে সিঙ্গাপুরে, দুইজনকে ভারতে নেয়া হবে।

আহত যাদের দেশে আনা হচ্ছে তারা হলেন, শাহরিন আহমেদ, আলমুন নাহার অ্যানি, কামরুন্নেসা স্বর্ণা ও মেহেদী হাসান। ইয়াকুব আলী ও ইমরানা কবির হাসিকে ভারত এবং মো. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে নেপালের কাঠমান্ডুতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে কবির হোসেন, শেখ রাশেদ রুবাইয়াত ও মো. শাহীন বেপারিকে।

আজ বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালি চিকিৎসকরা ১০ বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। দুজনকে এখনও আইসিইউতে রাখা হয়েছে, একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বার্ন ইউনিটে। আর একজনকে পরিবার দিল্লিতে নিয়ে যেতে তার ছাড়পত্র মিলেছে।

আর কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেওয়া শাহরিন আহমেদকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ফিরছেন তার ভাই লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজ আহমেদ।

সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

দূতাবাস কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম ইমাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক লুৎফর কাদির লেলিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দল ইতোমধ্যে নেপালের পথে রওনা হয়েছেন। তারা অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় সহযোগিতা দেবেন।

এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের দুই সদস্যও রয়েছেন, যারা পোড়া লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজে নেপালকে সহায়তা করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহের সংখ্যার ভিত্তিতে কোন দেশের কতজন মারা গেছেন, তা হিসাব করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। সেই হিসেবেই বাংলাদেশের ২৬ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিমানে আগুন ধরে যাওয়ায় পুড়ে যাওয়া অনেকের মরদেহ আলাদা করে শনাক্ত করা যায়নি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় গেলো সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলার বম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে বিমানে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিমান দুর্ঘটনায় আহত: দেশে আনা হচ্ছে ৪ জনকে

প্রকাশিত : ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজনকে দেশে আনা হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য একজনকে সিঙ্গাপুরে, দুইজনকে ভারতে নেয়া হবে।

আহত যাদের দেশে আনা হচ্ছে তারা হলেন, শাহরিন আহমেদ, আলমুন নাহার অ্যানি, কামরুন্নেসা স্বর্ণা ও মেহেদী হাসান। ইয়াকুব আলী ও ইমরানা কবির হাসিকে ভারত এবং মো. রেজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে নেপালের কাঠমান্ডুতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে কবির হোসেন, শেখ রাশেদ রুবাইয়াত ও মো. শাহীন বেপারিকে।

আজ বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালি চিকিৎসকরা ১০ বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। দুজনকে এখনও আইসিইউতে রাখা হয়েছে, একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বার্ন ইউনিটে। আর একজনকে পরিবার দিল্লিতে নিয়ে যেতে তার ছাড়পত্র মিলেছে।

আর কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেওয়া শাহরিন আহমেদকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশে ফিরছেন তার ভাই লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজ আহমেদ।

সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

দূতাবাস কর্মকর্তা আলিমুল ইসলাম ইমাম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক লুৎফর কাদির লেলিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি চিকিৎসক দল ইতোমধ্যে নেপালের পথে রওনা হয়েছেন। তারা অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসায় সহযোগিতা দেবেন।

এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের দুই সদস্যও রয়েছেন, যারা পোড়া লাশের ডিএনএ পরীক্ষা করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজে নেপালকে সহায়তা করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহের সংখ্যার ভিত্তিতে কোন দেশের কতজন মারা গেছেন, তা হিসাব করেছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। সেই হিসেবেই বাংলাদেশের ২৬ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিমানে আগুন ধরে যাওয়ায় পুড়ে যাওয়া অনেকের মরদেহ আলাদা করে শনাক্ত করা যায়নি।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় গেলো সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলার বম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। এতে বিমানে থাকা ৭১ আরোহীর মধ্যে ৩৬ বাংলাদেশিসহ ৫২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ বাংলাদেশিসহ ১৯ জন আহত হন।