বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শেরপুর উপজেলা শাখা বগুড়ায় ৮৬ থেকে ৯৬ এক দশকে দুই মেয়াদে সভাপতি’র দায়িত্বে থাকা রবিউল ইসলাম আশু’র কথাই বলছি।
যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্জন করেন বিএ ডিগ্রী। নব্বই দশকের শুরুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএ-রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নের সুযোগ লাভ করেন আশু। রা’বিঃ ছাত্রলীগ আমির আলী হল শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৮৪ সালে শেরপুর ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন রবিউল ইসলাম আশু। কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে দুইবার ভিপি পদে মনোনয়ন পান তিনি। বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত হয়েও হতে পারেননী জয়ী। আশু দাবী করেন ভোট গননার শেষ মুহুর্তে তৎকালীন ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল খালেকের পুত্রকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তার প্রতিদন্দ্বি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর সহযোগিরা। পরে মুক্তিপণ হিসেবে ভোটের রায় কারচুপি করিয়ে মুক্তি দেয়া হয় ভাইস প্রিন্সিপাল পুত্রকে। এভাবেই আপহরণ ট্রাজেডিতে বিসর্জন দিতে হয় ছাত্র সংসদের ভিপি হওয়ার সপ্ন।
”সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য”আন্দোলন সহ ছাত্র ঐক্য গড়ে উঠার আগে বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এরশাদ বিরোধী একক আন্দোলনে বগুড়া অঞ্চলে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ৯০ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে তৎকালীন ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দর সাথে আন্দোলনে অংশ নেন রবিউল আশু।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সময়ের বৈরী পরিবেশে লড়াই সংগ্রামের ছাত্র রাজনীতি ও শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি অসহযোগ আন্দোলনে সক্রিয় থেকেছেন শেরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় সকল আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকায় নেতৃত্ব দিতেন আশু।
তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ সফর সঙ্গীও হতেন তিনি, দিতেন প্রটোকল।
এ উপজেলায় ওই সময়কার বহুল পরিচিত ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান আশুর প্রিয়াঙ্কা ভিডিও ষ্টুডিও শেরপুর উপজেলা পরিষদ গেটেই দেখেছি। ভাড়ায় চলতো ক্যাসেট, ভিডিও প্লেয়ার ও টিভি। ৯১ পরবর্তী সরকার বিরোধী আন্দোলনে শেরপুর এলাকায় সক্রিয় থাকার প্রতিদানে ছাত্রদল-যুবদল-বিএনপি কর্তৃক সকাল বিকাল আশুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙ্গচুর ছিলো নিত্য ঘটনা।
রাজপথে আন্দোলন লড়াই সংগ্রাম সহ কলেজে নবীন বরন অনুষ্ঠানের খরচ মেটাতে সংগঠনকে ভালোবেসে গলার স্বর্নের চেন খুলে বিক্রি করতে কষ্ট পাননী আশু, বরং দলের জন্য নিবেদন করতে পেরে ধন্য হয়েছেন।
৯৬ এ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে একটি সফল সন্মেলনের মাধ্যমে শেরপুর উপজেলাকে ছাত্রলীগের একটি নতুন কমিটি উপহার দিয়ে আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ শেরপুর উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। জেলা সভাপতি আসাদুর রহমান দুলু’র নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠাতা সাঃ সম্পাদক সংগ্রাম কুন্ডুকে সাথে নিয়ে সু-সংগঠিত করেন সেচ্ছাসেবক লীগ শেরপুর উপজেলার সকল ইউনিট। ঠিকাদারি ব্যাবসায় যুক্ত হন আশু। ৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পেলেও চাঁদাবাজি টেন্ডার বাজি করেননি তিনি।
মান সম্মত চাকুরীর প্রস্তাব পেয়েও রাজনীতির নেশায় নাকোচ করেছেন। বরং সৎ থেকে পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া সম্পদ বিকিয়ে বিভিন্ন অনুসঙ্গের খরচ মিটিয়েছেন।
ব্যক্তি জীবনে হাতাশা থাকবেই তাইবলে থেমে থাকেননি আশু।
মূলদলে কাঙ্খিত পদ-পদবী থেকে বঞ্চিত হওয়া, ২০০১ পরবর্তী খালেদা-নিজামী বিরোধী আন্দোলন সহ সব মিলিয়ে ৩০/৩২ টি রাজনৈতিক মামলার স্বিকার হয়ে সর্বশেষ ২৬ টি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে ২০০৬ সালে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান। শুরু করেন জীবন যুদ্ধের লাড়াই। ঢাকা থেকে বগুড়া কোর্ট চত্বরে নিয়মিত মামলার হাজিরা সহ পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে সঞ্চয় বলতে শূন্য হাতে এক দশক পর ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে নাড়ীর টানে তিনি ফেরেন বাড়ি। জীবন যুদ্ধে তিনি এখনও সপ্ন দেখেন, দায়িত্ব পেলে দলের জন্য হতে চান সক্রিয়।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















