প্রায় দেড় বছর পর খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে সরাদেশেই চলছে উৎসাহ উদ্দীপনা, নানান প্রস্ততি। কিন্তু বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ঘোষিত সময়ে স্কুলে পাঠদান নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে মানিকগঞ্জের দেড় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ফলে শিক্ষক, অভিভাবক আর শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা। পানি না কমা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফেরানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্যার পানি উঠেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বেলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সরেজমিন দেখা যায়, স্কুল আঙ্গিনায় নৌকা চলছে। পুরো প্রাঙ্গণ জুড়েই কচুরিপানা আর ময়লা-আর্বজনা। টিউবওয়েল ও টয়লেটও তলিয়ে গেছে পানিতে। পাশ্ববর্তী ঘিওর উপজেলার গোয়ালজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো কোমর সমান পানি। তলিয়ে আছে চারপাশের রাস্তা-ঘাট। প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম নিজে নৌকা চালিয়ে ঘুরিয়ে দেখান স্কুলের চারপাশ। তিনি জানান, ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুলতে প্রস্ততি রয়েছে তাদের। তবে চারপাশে পানি থাকায় নৌকা ছাড়া স্কুলে আসা যায় না। এ অবস্থায় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহও দেখাচ্ছেন না। স্কুলের ছবি তুলে কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্কুলের আশপাশের কয়েকজন অভিভাবক জানান, প্রায় দেড় বছর পর স্কুল খুলছে-এতে আমরা খুবই খুশি। কিন্তু পানির মধ্যে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। কারণ এর মধ্যে গেলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পানি না যাওয়া পর্যন্ত বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো সম্ভব নয়। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫২। এরমধ্যে ১১৯ বিদ্যালয়ের মাঠ, ২৫ বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম বন্যার পানিতে ডুবে যায়। এছাড়া ১৯ বিদ্যালয়ে বানভাসীরা আশ্রয় নেওয়ায় আপাতত খোলা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া পাঁচ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণী কক্ষে বন্যার পানি রয়েছে।
১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুল আঙিনায় চলছে নৌকা
-
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি - প্রকাশিত : ০৮:৫০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
- 79
ট্যাগ :
জনপ্রিয়




















