জেলার সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিট লক্ষ্মীপুরের-রায়পুর সরকারী ডিগ্রী কলেজ। ষাটের দশকে চারজন শিক্ষক ও একশত বিশ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই সহস্রাধিক। তবে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা একবারেই কম। তৎকালীন জমিদার মিয়া বংশের মৌঃ আলী আহম্মদ চৌধুরী রায়পুর পৌরসভার কেরোয়া গ্রামে (রায়পুর- পানপাড়া সড়কের পাশে) সাড়ে ১৪ একর সম্পত্তিতে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী নিয়ে ১৯৭০ সালে কলেজটি একাদশ শ্রেনি ও ১৯৮০ সালে স্নাতক (পাস) শ্রেনির পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। পরে ১৯৮৭ সালের ২৮ মার্চ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণ করা হয়েছিলো। উল্লেখ্য-দেড় বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর তা খুলে দেয়ার ঘোষনা দিলেও অধ্যক্ষ ও ১০ শিক্ষকের পদ শুণ্য থাকায় চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার ( ৯ সেপ্টেম্বর) -কলেজ সূত্রে জানাযায়, ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারী থেকে অধ্যক্ষ নাই । এ কলেজে ১৯জন শিক্ষক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৯ জন । সংকট রয়েছে ১০ জন। পদার্থ, গনিত, ইসলাম ও আইসিটি বিভাগে শিক্ষক ই নেই গত পাঁচ বছর। এমন পরিস্তিতিতে পাঠদান অনিয়মিত হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে বাংলা বিভাগে একজন প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক একজন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে একজন, ব্যবস্থাপনা বিভাগে দুইজন, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে একজন করে নেই। অর্থনীতি, পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষিশিক্ষা বিভাগে প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত শ্রেনি কার্যক্রম চলছেনা। শিক্ষার্থীরা নিদ্দিষ্ট সিলেবাস শেষ করতে পারছে না। সরকারের নির্দেশনা প্রতিষ্ঠান থেকে এসাইনমেন্টের মাধ্যমে লেখাপড়া চলছে। জেনারেল বিষয়ের পাশাপাশি উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের এইচএসসি ও স্নাতক(পাস) পর্যায়ে পড়াশুনা করতে পাশের উপজেলা চাঁদপুরের হাইমচর, ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া, রামগঞ্জ থেকে শিক্ষার্থীরা রায়পুর সরকারি কলেজে এসে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু শিক্ষক সংকট দূর করতে না পারলে শিক্ষার্থীরা এ কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ হারাতে বসেছে।
বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, একাদশ, এইচএসসি ও স্নাতক(পাস) পর্যায়ের শিক্ষক না থাকায় অতিথি শিক্ষক সহ অন্য বিভাগের শিক্ষকরা আমাদের ক্লাশ করান। কলেজ খোলা থাকলে ও শিক্ষকের অভাবে পাঠদান হয় না।
এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হাসিবুর রহমান ও বিএসএসের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার লাইজু বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাশ করা সম্ভব হয় নাই। দুুই বছর ধরে অধ্যক্ষ ও ১৫ বছর ধরে ১০ শিক্ষক নাই। এ অবস্থার মধ্যে গত দেড় বছর পর সরকার ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছে। আমরা চরম হতামার মধ্যে রযেছি।
কলেজের হিসাববিজ্ঞান প্রভাষক মামুন খান বলেন, কলেজের দীর্ঘদিনের এ অবস্থার কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রভাষক মো: মনিরুল ইসলাম বলেন গত চার বছর ধরে প্রায় চার হাজার বই সংরক্ষণ করে গ্রন্থাগারিক চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আসবাব পত্র সরবরাহ ও পুরোনোগুলো মেরামত করার জন্য সরকারি সহযোগীতা প্রয়োজন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে পত্রিকা ও ম্যাগাজিন, রোবার স্কাউট ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ চক্রের উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।
রায়পুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আরশাদ আলী শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, ২০১৬ সালে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করি। শূন্য পদে ৯ জন শিক্ষকের জন্য মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর , মন্ত্রণালয় ও ডিজির কাছে কয়েকবার শূন্য পদের তালিকাসহ লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সাংসদ এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন যুগান্তরকে বলেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আলাউদ্দিন (৩৪১৫) কে রায়পুর সরকারি ডিগ্রী কলেজে প্রদায়নের জন্য গত ২৭ আগষ্ট ডিও লেটারের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দিপু মনি এমপির কাছে আবেদ করা হয়েছে। আশা করি ঐতিহ্যবাহি কলেজটি পুনরায় তার আগের চেহারায় ফিরে আসবে।




















