আশির দশক র্পয্ন্ত ইতিহাসের পাতায় চলনবিল ছিল মাছ ও পাখির জন্য বিখ্যাত। এই চলনবিলের নানা প্রজাতির মাছের স্বাদ দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে ছিল অতিব প্রিয়। এখনও তার এতটুকু ব্যতয় ঘটনোই। জমিদার আমলে চলনবিলে সেই সুস্বাদু কই, মাগুর, শিং, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগলে, বাউস আইড়, বাঘাড়, বাচা, পাবদা, ভেদা, ফাঁসা সরপুঁটি ইত্যাদি মাছ রাজা, জমিদারর, গোমস্তাদরে উপঢৌকন দিয় খুশি করে শত শত একর জমি লাখেরাজ,বা পরগনা বন্দোবস্ত নিয়ে জমিদার হয়েছে। আবার কউে বিচারক, প্রশাসন , পুলশি অফিসারকে এই মাছ দিয়ে জটিল মামলা থেকে খালাস পেয়েছে এমনকি ফাঁসির আসামিও মুক্তি পেয়েছে। এমন নজিরের কথা পুরাতন মানুষদের কাছ থেকে প্রায়শই শোনা যতে।
এই চলনবিল আর সেই চলনবিল নাই। বড়াল আর নন্দকুঁজা নদীতে পানি উন্নয়ন র্বোড তিনটি স্লুইস গটে এবং আত্রাই নদির সাবগাড়ি বেশানী নদির মুখে রাবারড্যাম স্থাপন করে। আর ভুমি দস্যুদের অবধৈ দখলদারিত্বে চলনবিলের প্রানদায়ী নদীগুলির পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। চলনবলিরে প্রন সঞ্চালনকারী স্রোতস্বনী বড়াল, নন্দকুঁজা, গুমানি আত্রাই, বশোনী নদির নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরনিত হয়েছে । ফলে চলনবিলও পানিশুন্য হয়ে মাছের আকাল দখো দিয়েছে । ফলে মুক্ত পানির প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন একেবারেই হ্রাস পেয়েছে। শুকনা মওসুমে চলনবিলের সকল নদ- নদি পানি শুন্য থাকায় প্রকৃতিক মাছের চারন ভুমি, আশ্রয় কেন্দ্র এবং প্রজনন স্থল বিলুপ্ত হয়ে যায়। এতে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক সেই সুস্বাদু মাছগুলিও চলনবিল থেকে হরিয়ে গেছে। ক্রমইে প্রকৃতিক সুস্বাদু মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। চলনবিলের মৎসজীবি জেলে, জিয়নি,হালদার সহ মাছের ওপর জীবীকা র্নিভরশীল জাতিপেশার মানুষ মাছের অভাবে অভাবে পৈত্রিক পেশ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
বৃহত্তর চলনবিলের প্রান কেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান এই চারটি নদিই। এই নদিগুলির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয় উপজলোয় প্রাকৃতিক মাছের চরম ঘাটতি দখো দয়ে। চারটি নদইি ছিল প্রকৃতি মাছের প্রধান অভয়াশ্রম, চারনভূমি এবং প্রজনন কন্দ্রে। আশির দশক আগ র্পয্ন্ত গুরুদাসপুর উপজেলা জনসংখ্যার মাছের চাহিদা অনুপাতে অনকে বেশী উদ্বৃত্ত মাছ আহরন হতো যা দেশের অভ্যন্তরীন চাহিদা মেটাতে সক্ষম হতো। অথচ আশির দশকের পর চারঘাটে পদ্মা থেকে চলনবিলের প্রান সঞ্চালনকারী বড়ালের উৎসমূখে অপরিকল্পিত অপ্রশস্ত স্লুইস গটে স্থাপন করে সংস্লিষ্ট নদি এবং চলনবিলকের্ র্নিমমভাবে হত্যা করা হয়ছে। ফলে গুরদাসপুরে দখো দেয় প্রকৃতিক মাছরে চরম অভাব।
গুরুদাসপুর উপজলোর সফল মাছ চাষী উদ্যক্তাদের ব্যাক্তি উদ্যগে প্রশাসনকি সকল বাধা উপক্ষো করে পুকুর খনন করে বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির মাছ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে মাছের উৎপাদনে নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে।
উপজেলা মৎস অফিসের তথ্য অনুযায়ী দখো যায় গত ৯ টি নদী যথাক্রমে নন্দকুঁজা, আত্রাই, ছোট আত্রাই, গুমানি বেশানি মর্জিামামুদ, তুলসি গুড়, বিলকাঠোর, ৩টি খাল এবং ৬ টি বলি থেকে প্রয় একশ মে.টন ৩০ টি প্লাবন ভূমি থেকে ১০১৬ মে. টন ও অন্যান্য জলাশয় থেকে ২‘শ মে.টন সহ ১০ হাজার মে.টনেরও বশেী মাছ উৎপাদন হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রতি কেজি ৩০০/ টাকা করে হলে তিন শত কোটি টাকারও বেশী। এই গুরুদাসপুর উপজেলা থেকেই প্রতি বছরে একমাত্র মাছ উৎপাদনের আয় থেকেই তিন শত কোটি টাকা জাতীয় আয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে। আগামিতে আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজলোয় ২০১১ সালরে আদমশুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৮ জনরে মাছের চাহিদা ৪ হাজার ৫ শত মে. টন। উৎপাদন হচ্ছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার চাহদিা মেটানোর পরও সাড়ে ১০ হাজার মে.টন উদ্বৃত্ত মাছ ব্যাবসায়ীদের নজিস্ব উদ্ভাবতি পদ্ধতিতে ট্রাকে করে চলন্ত পুকুরের পানিতে জীবন্ত মাছ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে। এতে মাছ চাষী এবং ব্যাবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে এবং ব্যাপক র্কমসংস্থান বেড়েছে বেকারত্ব কমেছে।
গুরুদাসপুরে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসের বিগত দশ বছরের মাছ উৎপাদনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ৬১১০ টন । ২০১০-১১ সালে পুকুর ছিল ৪২৮০ টি আয়তন ১৪১০ হেক্টর, মাছ উৎপাদন ছিল ৬২৯০ মে.টন। ১১-১২সালে পুকুর ছিল ৪৩২০ টি, আয়তন ১৪৩০ হে. উৎপাদন ৬৫৪২ মে.টন। ১২- ১৩ সালে পুকুর ছিল৪৫০০ টি, আয়তন ১৪৫০ হে উৎপাদন ৬৭১৫ মে.টন। ১৩-১৪ সালে পুকুর ছিল ৪৬২০ টি, আয়তন ১৪৮৮ হে, উৎপাদন ৭১৩৪ মে.টন। ১৪-১৫ সালে পুকুর ছির ৪৬৮৫ টি, আয়তন ১৫২০ হে. উৎপাদন ৭১৭২ মে.টন। ১৫-১৬ সারে পুকুর ছিল ৪৭৩২ টি, আয়তন ১৫৫৮ হে, উৎপাদন ৭২০০ মে. টন। ১৬-১৭ সালে পুকুর ছিল ৪৭৬২ টি, আয়তন ১৫৬১ হে. উৎপাদন ৭২২৫ মে. টন এবং ১৭-১৮ সালে পুকুর সংখ্যা দাঁড়য়িছে ৫৪৩৫ টি যার আয়তন ৮ হাজার হেক্টরে , মাছ উৎপাদন হযেছে ৯ হাজার মে.টনেএবং ২০২০-২১ সালে পুকুরের সংখ্যা ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে । জলায়তন ১হাজার ৪ ‘শ হেক্টর থেকে ৫ গুন বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর । মাছের উৎপাদনও বেড়েছে ৩ গুন অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার মে. টন। উপজেলায় মাছের চাহিদা মেটানোর পরও সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ দেশের অভ্যন্তরিন বাজারে বাজারজাত করা হচ্ছে।
মৎস ও প্রনিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তথ্যে জানা যায়, গত ১০ বছরে দেশে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমান প্রায় শতভাগ বেড়েছে।২০১০ সালের সর্বশেষ খানা জরিপে উঠে এসেছে বছরে বাংলাদেশে একজন মানুষ মাত্র ১২ কেজি মাছ খেত। এখন সেটা পৌছেছে ৩০ কেজিতে।
মৎস ও প্রনিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের তথ্যে জানা যায়,বাংলাদেশ এখন মাছ চাষে স্বয়ংসম্পুর্ন। বর্তমান বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা পুর্বাভাষ দিয়েছে,২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে যে ৪ টি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছ গবেষনার এখন সরকারি- বেসরকারি ভাবে উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে।




















