করোনায় অর্থসংকটে পড়া নরসিংদীর বেলাব উপজেলা অনেক কিন্ডারগার্টের স্কুল শিক্ষা কার্যক্রমে আর ফিরতে পারেনি। বরং অনেকে ঘোষণা দিয়েই গুটিয়ে নিয়েছেন। এতে বেকার হয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীরাও হয়েছে ছন্নছাড়া। তবে কোনোরকমে টিকে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
করোনায় দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে এখন স্কুল চালু হলেও আর তেমন শিক্ষার্থী নেই স্কুল গুলোতে। কারণ দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কোনো যোগাযোগই করা যায়নি শিশুদের সাথে । মাধ্যমিক ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করলেও ছোটদের ক্ষেত্রে তা করা যায়নি। উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছিল ভালোই। কিন্তু করোনায় ভয়াল থাবায় সবকিছুই হয়ে গেছে এলোমেলো। ২০২০ সালে মার্চের মাঝা-মাঝি সময় করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় বছর পর সারা দেশে স্কুল-কলেজ খুললেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে খেত কিন্ডারগার্টেন গুলো আর চালু করা যায়নি পুরুদমে। উপজেলার আশার আলো, আমলাব মডেল স্কুল,এবং বনফুল কিন্ডারগার্টেন বন্ধ রযেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে আবার অনেক শিক্ষক পেশা বদল করে চলে গেছে অন্য পেশায়।
উপজেলার ন্যাশনাল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এবং অক্সর্ফোড মর্ডান স্কুলের অধ্যক্ষ
মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, করোনার থাবা সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে,আর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে কিন্ডারগার্টেন উল্লেখযোগ্য। প্রায় ৪০% শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় কিন্ডারগার্টেন গুলো টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থ সংকটের কারনে শিক্ষকরাও উপায় না পেয়ে জীবিকার তাগিদে পেশা বদল করেছেন অনেকে। দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বেতন নেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানের আয় একেবারেই বন্ধ।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের এমন পরিস্থিতি না পারছি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে, না পারছি চালু রাখতে। কেবল শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর নির্ভরশীল থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোই বিপাকে পড়েছে। সমস্যা উত্তরনে সরকারের সহযোগীতা কামনা করেন ন্যাশনাল কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ জাহানুল হক বাবুল।




















