ফরিদপুরে দুই দফা বন্যায় ৯৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে ১০ কোটি ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের তিন হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন ফসল নষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা সাত হাজার ৯০৩ জন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের তায়জুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক সিদ্দিক জমাদার (৪৬) ১৫ একর জমিতে কলার বাগান করেছিলেন। বাগানটি বন্যার পানিতে ডুবে যায়। পরে পানি নেমেও যায়। কিন্তু এরপর একটার পর একটা কলাগাছ মারা যেতে থাকে।
ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বাসিন্দা নায়েব আলী সরদার (৩৩) জানান, কাইমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ (৬২) ৩৩ শতাংশ জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছিলেন। বন্যায় তার ৭৫ ভাগ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
ওই ইউনিয়নের জয়নাল মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রজ্জব মাতুব্বর (৪৯) বলেন, তার ১০ একর জমির মধ্যে ৩ একর জমির আউশ ধান বিনষ্ট হয়েছে।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুজ্জামান বলেন, বন্যার কারণে তার ইউনিয়নের ১২০ একর আউশ ধান, ৩০ একর সবজি এবং দুইশ একর কলাবাগান বিনষ্ট হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা না দিলে তাদের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কষ্টসাধ্য হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুই দফা বন্যায় ফরিদপুরে ৯৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করেছে। এরমধ্যে ৯০৪ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। এতে রোপা আমন ৬২১ হেক্টর জমির, আউশ (উফসী) ২ হেক্টর, আউশ (স্থানীয়) ৯ হেক্টর, বোনা আমন ১৯৫ হেক্টর, কলা ৭ হেক্টর, কাঁচা মরিচ ১৫ হেক্টর এবং ৫৪ হেক্টর জমির সবজি রয়েছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপন প্রসাদ সাহা বলেন, বন্যার ফলে উপজেলায় ১০ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে। যা উপজেলার মোট সবজি আবাদের ১০ দশমিক ৫২ ভাগ।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভী রহমান বলেন, মধুখালী উপজেলা মরিচ চাষের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে। এ উপজেলায় মোট ১৬ হাজার ৬৫৮ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে দুই হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ হয়েছে। যা মোট আবাদের প্রায় ১৬ ভাগ (১৫ দশমিক ৮৫)। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ২১০ জন কৃষকের মধ্যে ১২৫ জনই মরিচ চাষি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হযরত আলী বলেন, বন্যার পর দুই হাজার ১০ জন কৃষককে মাশকালাই চাষের জন্য পাঁচ কেজি বীজ ও ১৫ কেজি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত ছয় উপজেলার কৃষকদের মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়া হবে। বীজ ও সার দেবে বিএডিসি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কলা ও কাঁচা মরিচ চাষিদের সম্পর্কে হযরত আলী বলেন, কৃষি প্রণোদনার মধ্যে কলা বা কাঁচা মরিচ চাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। এবারও সে সুযোগ নেই।




















