পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভার প্রথমবারের নির্বাচনে ৭৩৪ ভোটের ব্যবধানে রেল ইঞ্জিন প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক।
সোমবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান।
তিনি জানান, আবু বক্কর সিদ্দিক রেল ইঞ্জিন প্রতীকে সর্বমোট ২ হাজার ৯৮১টি ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২ হাজার ২৪৭ টি। এছাড়া মোবাইল ফোন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর নেওয়াজ পেয়েছেন এক হাজার ১২৮ ভোট, ক্যারাম বোর্ড প্রতীকে আসাদুজ্জামান আসাদ এক হাজার ৩৯৮ ভোট, জগ প্রতীকে আখতার হোসেন ১৪৯ ভোট, চামুচ প্রতীকে এফ এস এম মোফাখখারুল আলম ১৫৮ ভোট, নারিকেল গাছ প্রতীকে সরকার ফরিদুল ইসলাম ৩১৪ ভোট, ইস্ত্রি মেশিন প্রতীকে সাংবাদিক যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ১০৩ ভোট এবং কম্পিউটার প্রতীকে মাসুদ পারভেজ ১০৬ ভোট।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমবারের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে বোতাম টিপে ভোট দিয়েছেন দেবীগঞ্জ পৌর এলাকার ভোটাররা। নির্বাচনে ৯ জন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬২ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সবগুলো কেন্দ্রেই ভোট দিতে আসা স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলেও প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। মাঠে ছিলো দুই প্লাটুন বিজিবি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের ৪ টি ও র্যাবের দুইটি ভ্রাম্যমাণ টিম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার প্রত্যয় হাসান জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌরসভার মোট ১০ হাজার ৯১৪ জন ভোটারের মধ্যে ৮ হাজার ৫৯৮ জন ভোটার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৪টি ভোট বাতিল হয়েছে। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ৮ হাজার ৫৮৪টি।
উল্লেখ্য, দেবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এসে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় গত ৫ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর সিদ্দিকসহ ৪ প্রার্থীকে আওয়ামী লাীগ থেকে বহিস্কার করে পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগ।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















