বরগুনায় সাংবাদিক মীর জামালের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে বরগুনায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চ্যানেল আই বরগুনা জেলা প্রতিনিধির সভাপতিত্বে, বরগুনার টাউনহল অগ্নিঝড়া একাত্তর চত্ত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক দীপাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক মোশারফ হোসেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ফসল সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রইনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
উল্লেক্ষ, গত বছরের ২৪ এপ্রিল সদরের পানামা রোড এলাকার লামিয়া নামে এক নারী সম্মানহানি ও তাদের বসতঘরে টাকা ও স্বর্নালংকার লুট করে মর্মে সাংবাদিক মীর জামালসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।
পরে ৬ মে লামিয়ার দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাংবাদিক মীর জামাল ও নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের প্রতিনিধি সুমন সিকদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন পরে সুমন সিকদারসহ ৫ জনের জামিন হলেও দেড় বছর ধরে কারাগারেই বন্দি আছেন মীর জামাল।

জামালকে জামিনে বের করতে নিন্ম আদালত ও উচ্চ আদালতে একাধীকবার আবেদন করেও কারাগার থেকে মুক্ত করার ব্যর্থ চেষ্টায় সর্বস্ব হারিয়েছে তার পরিবার। ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে দায়ের করা মামলায় টানা দেড় বছর ধরে কারাগারে আছেন দৈনিক দ্বীপাঞ্চল পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ ২৪.কমের জেলা প্রতিনিধি মীর জামাল।
নিন্ম আদালত থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চেষ্টা করেও জামিন মেলেনি তার। পরিবারের বড় সন্তানকে জামিন করাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে অর্থহারা-অনাহারে দিন কাটছে জামালের বাবা-মায়ের।
মীর জামালের মা মোসা. রুনু বেগম বলেন, দেড় বছর ধরে বড় ছেলে মীর জামাল কারাবন্দি। দিনের পর দিন অপেক্ষা করি ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে একটু কান্না করবো। কিন্তু ছেলেকে কাছে পাইনি। করোনার জন্য কারাগারে দেখাও করতে দেয়নি। ছেলে জীবিত অথচ দেড় বছর আমি দেখতে পারিনি। আমি মনে হয় আমার ছেলেকে দেখ মরতে পারবো না।
মীর জামালের বাবা মো. জালাল মীর বলেন, ছেলের জামিন করাতে গিয়ে নিন্ম আদালত থেকে উচ্চ আদালতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। টাকা শেষ হবার পরে জমি বিক্রি করেও ছেলেকে জামিনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা ব্যর্থ। এখন আমাদের তিন বেলা খাবার জোটেনা। জামালের মা অসুস্থ্য, একটা ঔষুধ কিনে দেবার সামর্থ্যও নেই আমার।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিচারকের কাছে আমার একটাই দাবী যাতে আমার ছেলে মীর জামাল এই মিথ্যা মামলা থেকে নিঃশর্ত মুক্তি পায়।
বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসানুর রহমান বলেন, সাংবাদিক মীর জামাল বরগুনায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের প্রচার, হত-দরিদ্র মানুষের মিডিয়া সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস/দপ্তরের অনিয়ম দূর্নিতী প্রচার/প্রকাশে অসংখ্য রিপোর্ট করেছে।
জামাল সকল চোর-বাটপারদের চোখের শুল হয়েছিলো। এসব চোরদের সাথে হাত মিলেয়ে কিছু সাংবাদিকদের যোগসাজশে শুরু হয় সাংবাদিকদের অপরাজনীতী। তরুন মেধাকে ধ্বংস করতে জামালকে ফাসানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাব সহ অন্যান্য যেসব সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি প্লাটফরম তৈরি করে যার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে নির্জাতন ও নিপীড়ন সৃষ্টি হয় তার প্রতিবাদ করবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ





















