প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জটিল রোগীদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরো সর্তক হতে বললেন। একইসঙ্গে তিনি আইসিওতে থাকা সংকটাপন্ন রোগীদের দেখতে দর্শনার্থীদের যাতায়াত বন্ধ করতে বলেছেন।
রবিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সিং-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসবকথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিজিটরের আমাদের একটা বড় সমস্যা। কোনো হাসপাতালে রোগী থাকলে ভিজিটর যেতেই হবে। না গেলে রোগীরও মন খারাপ হয়। কিন্তু যে রোগীর খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থা, তার কাছে কেন যেতে হবে? তিনি বলেন, হাসপাতালে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ রোগী হলেই তাকে সবার দেখতে যেতে হবে। আর মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীর তো যেতেই হবে। না গেলে প্রধানমন্ত্রীরও ইজ্জত থাকে না, রোগী আর রোগীর আত্মীয়-স্বজনেরও ইজ্জত থাকে না।’
আজকাল অপারেশন থিয়েটারেও ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়ে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এখন ক্রিটিক্যাল রোগী দেখতে যাওয়া ছেড়েই দিয়েছি। এতে যেকোন সময় রোগীর ক্ষতি হতে পারে।
এখন ‘আইসিইউ’তে ঢোকা ভাতমাছের পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে রোগীর স্বজন, ভিজিটর সবাই ঢুকে বসে থাকে। আর রাজনৈতিক নেতাও মনে করেন, আমি না গেলে মনে হয় আমার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করলাম না।’
প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল কলেজ তৈরি হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্র বলেন, আমাদের দেশে মেধার অভাব নাই। তবে সুযোগের অভাব ছিল। কিন্তু এখন আর তা নেই। আমরা সুযোগ করে দিচ্ছি। প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল কলেজ তৈরি করে দিচ্ছি। বিদেশে ডাক্তার পাঠাচ্ছি উন্নত ট্রেনিং করার জন্য।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রম উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট, মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় ইউনিটসহ শহরে এবং সারাদেশে হাসপাতাল তৈরি করেছে। টেলি মেডিসিন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন উন্নত হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ করে উন্নতমানের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। নার্সিং ক্ষেত্রে বিশেষ মনযোগ দেয়া হচ্ছে। থাইল্যান্ড পাঠিয়ে নার্সদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। নার্সিং পেশাকে মর্যাদাশীল করতে সরকার কাজ করছে।
জাতির জনকের ইউনিয়ন পর্যায়ে চিকিৎসা পৌঁছে দেয়ার স্বপ্নকে অনুসরণ করে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প নেয়া হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। যা আমরা পুনরায় চালু করেছি।

























