জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ বনী আমিন ফকির নামের এক ছাত্রকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন গেরুয়া এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় র্যাবের কয়েকজন সদস্য। বনী আমিনের সাথে মেসে থাকা তার বন্ধুরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক শিক্ষার্থী বনি আমিন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ থাকায় সে পার্শ্ববর্তী গেরুয়া এলাকায় বন্ধুদের সাথে মেসে থাকতো।
তার সাথে থাকা বন্ধুদেরকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায়, র্যাব পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ব্যাক্তি মঙ্গলবার রাতে এসে তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যেতে চায়। এসময় আমরা কারণ জানতে চাইলে র্যাব সদস্যরা তাদের আইডি কার্ড দেখিয়ে জানায় বনি আমিনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে এবং সোস্যাল মিডিয়ায় তাঁর কর্মকান্ডে ঝামেলা পেয়েছে তারা । ঘটনার সময় বনী আমিনের কক্ষ থেকে র্যাব একটি পুরাতন ডেস্কটপ জব্দ করে নিয়ে যায়। তবে তার বন্ধুরা আরও জানায় বনী আমিনের কর্মকান্ডে এমন কোন কিছু কখনো মনে হয়নি যে সে জঙ্গি কর্মকান্ডে যুক্ত থাকতে পারে। সে ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ। সবার সাথেই মিশতো। এমনকি ‘সবুজ পরিবেশ আন্দোলন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সাথেও সম্পৃক্ত আছে সে।
এবিষয়ে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ফারহা মতিন জুলিয়ানা জানান,আমি সামাজিক মাধ্যমে তথ্যটি জেনেছি। তারপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অবহিত করেছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য সত্যিই উদ্বেগের। তবে বনি আমিনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় সময় ব্যবহৃত দুটি গাড়ির নম্বর শিক্ষার্থীরা লিখে রেখেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ-উল-হাসানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশুলিয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছি। পরবর্তীতে র্যাব ৪ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বনি আমিনকে আটকের কথা স্বীকার করে তারা বলেছেন অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। তাই জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তীতে ব্রিফিং করে জানানো হবে।
আটকের বিষয়ে র্যাব ৪ এর কমান্ডিং অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, বনি আমিন আমাদের হেফাজতে আছে। কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা মাকে র্যাব কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।
আটক বনি আমিনের সামাজিক মাধ্যমের প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নিয়মিত ধর্মীয় পোস্ট ও সামাজিক সচেতনতামূলক ভিডিও ব্লগিং করতো সে৷


























