নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নিহত বাংলাদেশী যাত্রীদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ বিশেষ বিমানে আজ দেশে আসছে।
নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি অসিত বরণ সরকার রবিবার বিকেলে জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ করে সোমবার ২১ জনের মরদেহ বিশেষ বিমানে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শনিবার ১৭ জনের পর রবিবার আরো ছয়জনকে শনাক্ত করা গেছে। তবে নিহত ২৬ জন বাংলাদেশীর মধ্যে তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নেপাল থেকে বাংলাদেশী চিকিৎসক দলের সদস্য সোহেল মাহমুদ রাতে জানিয়েছেন, পরে তারা আরো দুটি মরদেহ শনাক্ত করণের কাজ শেষ করেছেন এবং সবগুলো মরদেহই সোমবার ঢাকায় পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, সোমবার সকাল নাগাদ আরো একটি মরদেহ শনাক্ত করণের কাজ শেষ হতে পারে।
তিনি আরো জানান, শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলোর কফিন প্রস্তুত হবার কাজ এখন চলছে। কফিন প্রস্তুত হলে নেপালি কর্তৃপক্ষ সেগুলো বাংলাদেশ দূতাবাসের হাতে তুলে দেবেন। দূতাবাস সেগুলো বিশেষ বিমানে করে ঢাকায় পাঠাবে। ঢাকায় আত্মীয়স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব মরদেহ ইতোমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে সেগুলো আত্মীয়স্বজনকে দেখানো হয়েছে এবং তারাও শনাক্ত করতে পেরেছেন। তবে যেগুলো এভাবে শনাক্ত করা যাবে না সেগুলো ডিএনএ নমুনা নিয়ে শনাক্ত করা হবে।
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় পাইলট ও কো-পাইলটসহ মোট ২৬ জন বাংলাদেশী নিহত হয়। এ দুর্ঘটনায় মোট নিহত হয়েছে ৫১ জন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) রবিবার জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর একটি বিমানে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে। বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টারমাক-১’এ অবতরণ করবে। সেখান থেকে মরদেহগুলো সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে আর্মি স্টেডিয়ামে। এর আগে মরদেহবাহী বিমানটি কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে অবতরণ করবে বলে জানানো হয়েছিল।
একই সময়ে নেপালে যাওয়া নিহতদের স্বজনদের দেশে নিয়ে আসবে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট। এটি শাহজালালে অবতরণ করবে।
এদিকে খবর পেয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নিহতদের পরিবার।
দুর্ঘটনায় নিহত রফিক জামানের পারিবারিক বন্ধু সুমন জাহিদ জানিয়েছেন, ঢাকায় জানাজার পর রফিক জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক বিপাশা ও তাদের সন্তান অনিরুদ্ধ জামানের মরদেহ সোমবারই তারা নোয়াখালীতে নিয়ে যাবেন দাফনের জন্য।

























