যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রেজিস্টার ভবনে কর্মরত সেকশন অফিসার বিপ্লব হোসেনকে তার স্ত্রী সুমাইয়া ইয়াসমিনের দেওয়া অভিযোগ ও কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকায় বিরূপ খবর প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষক , কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাধারণ আচরণ , শৃঙ্খলা ও আপীল সংক্রান্ত বিধি মোতাবেক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে । গতকাল রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বহিস্কার করা হয় । তার বিরুদ্ধে তিন সদসসের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন মো. মেহেদী হাসান, সদস্যসচিব উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর ড. হাসান মো. আল-ইমরানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ।
এরআগে গত ১৭ অক্টোবর যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন । এ মামলায় যবিপ্রবির অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তার সাথে আসামি বিপ্লব হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ও তার সরলতার সুযোগে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করতে থাকেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতে বললে নানা তালবাহানা শুরু করেন। এরপর বাদী আদালতে মামলা করে। ওই মামলার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ হলে বিপ্লব চাকরি রক্ষার জন্যে ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বরে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংসারের যাবতীয় মালামাল ও বাড়ি করার জন্যে দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়। তারপরও নানা অজুহাতে বিপ্লব শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এরমধ্যে বাদী অন্তঃসত্ত্বা হয়। বিষয়টি আসামি বিপ্লব মেনে নিতে না পেরে কৌশলে ওষুধ খাইয়ে স্ত্রীর গর্ভের দু’ মাস তিনদিনের সন্তান নষ্ট করে ফেলেন।
পরবর্তীতে আসামি বাদীর কাছে বাড়ির কাজের জন্যে দু’ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা না পেয়ে বিপ্লবসহ তার পরিবার নির্যাতন শুরু করেন। এর মধ্যে পুনরায় বিপ্লবের অন্তঃসত্ত্বা হলে আসামিরা সন্তান নষ্টের জন্যে ফের ষড়যন্ত্র শুরু করেন।গত ৯ অক্টোবর বিপ্লব ও তার পরিবারের লোকজন বাদীর তলপেটে লাথি, কিলঘুষি মেরে, গলা টিপে ধরে ওষুধ খাইয়ে দেয়। পরে যবিপ্রবির অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান পুলিশ সেজে বিপ্লবের বাড়িতে যান। সকল আসামি মিলে বাদীকে বেধড়ক মারপিট করে।
বাদী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে ৯৯৯ কল করলে বিপ্লবের বাড়িতে পুলিশ যায়। পরে বাদীর মা ও স্থানীয়রা বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে বাদীকে উদ্ধার করে যশোর আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে রোববার বাদী আদালতে এ মামলা করেন।মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বিপ্লবের বাবা যশোর সদর উপজেলার হালসা গ্রামের আবু মুছা, মা নুর নাহার বেগম, বোন নওশিন শারমিলি বিভা ও শহরের পুলিশলাইন পাওয়ার হাউজপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে ফারুক হাসান হাওলাদার। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।


























