মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি (বীর প্রতীক) ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার রাত ১১টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
গত সোমবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঝিরাগাঁও গ্রামের কাঁকন বিবি তিন দিন বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান সখিনাকে রেখে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তীতে সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। কাঁকন বিবি অন্তত ২০টি স্থানে নিজে যুদ্ধ করেছেন।
পাক বাহিনীর হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকারও হয়েছেন একাধিকবার। একাত্তরের জুন মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন কাঁকন বিবি। বাঙ্কারে আটকে রেখে তাঁকে দিনের পর দিন নির্যাতন করে পাকিস্তানি সেনারা!
সেখান থেকে মুক্তি পেয়ে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন কাঁকন বিবি। মুক্তিযোদ্ধাদের দলে যোগ দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করেন তিনি। একইসঙ্গে চালিয়ে যান গুপ্তচরের কাজও।
নভেম্বরে টেংরাটিলার সম্মুখ সমরে কয়েকটি গুলি তাঁর শরীরে লেগেছিল। কিন্তু সে যাত্রা বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি।
এরপর আমবাড়ি, বাংলাবাজার, টেবলাই, বালিউরা, মহব্বতপুর, বেতুরা, দূরবীণটিলা, আধারটিলাসহ প্রায় নয়টি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন কাঁকন বিবি।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করেন।























