০৫:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কেনিয়ায় গবাদিপশুর মৃত্যুর মিছিল

গ্রামের রাস্তার দু’ধারে যেন প্রাণীর মৃত্যুর মিছিল চলছে। ধুলোময় রাস্তার দু’পাশে পড়ে আছে প্রাণীর সারি সারি মরদেহ

জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। খরার কারণে দেশটিতে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেটাকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, উত্তর কেনিয়ার ওয়াজির কাউন্টি এলাকার একটি গ্রাম বিয়ামাডো। যে গ্রামের রাস্তার দু’ধারে যেন প্রাণীর মৃত্যুর মিছিল চলছে। ধুলোময় রাস্তার দু’পাশে পড়ে আছে প্রাণীর সারি সারি মরদেহ।

প্রচণ্ড রোদের মাঝে পচনশীল প্রাণীদের বিভৎস এই দৃশ্য তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে। ফলে ওই এলাকার লোকজন যারা অনেকাংশে গবাদিপশুর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।

বিয়ামাডোর বাসিন্দা ইব্রাহিম অ্যাডো বলেন, ‘আমার ৭২ বছরের জীবনে কখনই এ ধরনের দৃশ্য দেখি নাই।’

দুর্ভিক্ষের বিষয়ে আগাম সতর্ককারী সংস্থা ফেমিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস নেটওয়ার্কের মতে, গত সেপ্টেম্বর থেকে কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা গত কয়েক দশকের মধ্যে স্বল্প বৃষ্টিপাতের সর্বনিম্ন হার।

বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চারণভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকট। খরার কারণে অ্যাডো তার গবাদিপশুর অর্ধেক ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছেন। আর অবশিষ্ট যা আছে, সেগুলোর অব্স্থা খুবই খারাপ। দুধ দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই এবং রোগাপটকা হওয়ায় বিক্রি করাও দূরূহ।

কমলা রঙয়ের দাড়ি নাড়তে নাড়তে ক্ষোভের সঙ্গে গ্রামের এক জ্যেষ্ঠ বাসিন্দা বলেন, ‘তাদের কেউই চায় না।’ গত চার মাসে দেশটিতে গরুর দাম ব্যাপক পড়ে গেছে। অ্যাডো বলেন, আগে যে গরু ৪০ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি হতো, এখন তার দাম ৫ হাজারে নেমে এসেছে।

সবসময় এ রকম হয় না। অ্যাডোর মতো কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা খরার প্রভাবের মুখোমুখি হতে অভ্যস্ত। এ সময় তাদের একমাত্র খাবার হয়ে ওঠে ভুট্টা। পানি খুঁজে পাওয়ার পথ হয় দীর্ঘ। গবাদিপশু এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে হাড়গুলো চামড়ার নিচে উঁকি মারে। তারাও বৃষ্টিপাতের শেষ প্রত্যাবর্তনের আশায় অপেক্ষা করেন; যাতে সবুজ চারণভূমি, স্বাস্থ্যকর প্রাণী এবং আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

চলতি বছরের শেষের দিকে যদি বৃষ্টির দেখা না মেলে তাহলে বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে এটি হবে টানা তৃতীয় স্বল্প-বৃষ্টিপাতের মৌসুম। ওই সময়ে বর্তমান খরার শুরু হয়েছিল, আগের খরা শেষ হওয়ার মাত্র তিন বছর পর। যা সাধারণ পাঁচ থেকে সাত বছরের খরা চক্রের চেয়েও অনেক আগাম। আর এই সময়কালে চারণভূমি এবং জলাশয়গুলো পুরোপুরি পুনরুত্পাদনের জন্য তৈরি হয় না।

কেনিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) পরিচালক জেমস ওডুর বলেছেন, বেশি ঘন ঘন এবং দীর্ঘতর খরা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

কেনিয়ায় গবাদিপশুর মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশিত : ০৪:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

গ্রামের রাস্তার দু’ধারে যেন প্রাণীর মৃত্যুর মিছিল চলছে। ধুলোময় রাস্তার দু’পাশে পড়ে আছে প্রাণীর সারি সারি মরদেহ

জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। খরার কারণে দেশটিতে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেটাকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, উত্তর কেনিয়ার ওয়াজির কাউন্টি এলাকার একটি গ্রাম বিয়ামাডো। যে গ্রামের রাস্তার দু’ধারে যেন প্রাণীর মৃত্যুর মিছিল চলছে। ধুলোময় রাস্তার দু’পাশে পড়ে আছে প্রাণীর সারি সারি মরদেহ।

প্রচণ্ড রোদের মাঝে পচনশীল প্রাণীদের বিভৎস এই দৃশ্য তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে। ফলে ওই এলাকার লোকজন যারা অনেকাংশে গবাদিপশুর ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।

বিয়ামাডোর বাসিন্দা ইব্রাহিম অ্যাডো বলেন, ‘আমার ৭২ বছরের জীবনে কখনই এ ধরনের দৃশ্য দেখি নাই।’

দুর্ভিক্ষের বিষয়ে আগাম সতর্ককারী সংস্থা ফেমিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস নেটওয়ার্কের মতে, গত সেপ্টেম্বর থেকে কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা গত কয়েক দশকের মধ্যে স্বল্প বৃষ্টিপাতের সর্বনিম্ন হার।

বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চারণভূমি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকট। খরার কারণে অ্যাডো তার গবাদিপশুর অর্ধেক ইতোমধ্যে হারিয়ে ফেলেছেন। আর অবশিষ্ট যা আছে, সেগুলোর অব্স্থা খুবই খারাপ। দুধ দেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই এবং রোগাপটকা হওয়ায় বিক্রি করাও দূরূহ।

কমলা রঙয়ের দাড়ি নাড়তে নাড়তে ক্ষোভের সঙ্গে গ্রামের এক জ্যেষ্ঠ বাসিন্দা বলেন, ‘তাদের কেউই চায় না।’ গত চার মাসে দেশটিতে গরুর দাম ব্যাপক পড়ে গেছে। অ্যাডো বলেন, আগে যে গরু ৪০ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি হতো, এখন তার দাম ৫ হাজারে নেমে এসেছে।

সবসময় এ রকম হয় না। অ্যাডোর মতো কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা খরার প্রভাবের মুখোমুখি হতে অভ্যস্ত। এ সময় তাদের একমাত্র খাবার হয়ে ওঠে ভুট্টা। পানি খুঁজে পাওয়ার পথ হয় দীর্ঘ। গবাদিপশু এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে হাড়গুলো চামড়ার নিচে উঁকি মারে। তারাও বৃষ্টিপাতের শেষ প্রত্যাবর্তনের আশায় অপেক্ষা করেন; যাতে সবুজ চারণভূমি, স্বাস্থ্যকর প্রাণী এবং আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।

চলতি বছরের শেষের দিকে যদি বৃষ্টির দেখা না মেলে তাহলে বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে এটি হবে টানা তৃতীয় স্বল্প-বৃষ্টিপাতের মৌসুম। ওই সময়ে বর্তমান খরার শুরু হয়েছিল, আগের খরা শেষ হওয়ার মাত্র তিন বছর পর। যা সাধারণ পাঁচ থেকে সাত বছরের খরা চক্রের চেয়েও অনেক আগাম। আর এই সময়কালে চারণভূমি এবং জলাশয়গুলো পুরোপুরি পুনরুত্পাদনের জন্য তৈরি হয় না।

কেনিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) পরিচালক জেমস ওডুর বলেছেন, বেশি ঘন ঘন এবং দীর্ঘতর খরা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর